ব্লাস্টের আক্রমণে চিটা হচ্ছে বোরো

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২২ । ১০:৩৩ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২২ । ১০:৩৩

নওয়াপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি

প্রতীকী ছবি

যশোরের অভয়নগরে বোরো মৌসুমের শেষ পর্যায়ে এসে ব্রি-২৮ জাতের ধানে ব্লাস্ট রোগ দেখা দিয়েছে। ফলে ধান চিটা হয়ে যাচ্ছে। উপজেলার বহু কৃষক এতে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় এবার বোরো ধানের চাষ হয়েছে ১২ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে এক হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে ব্রি-২৮ ধানের চাষ হয়েছে। কৃষি অফিসের হিসাব মতে, দুই হেক্টর জমিতে ব্লাস্টের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। তবে এ হিসাবকে 'হাস্যকর' বলছেন কৃষকরা।

উপজেলার পোতপাড়া গ্রামের কৃষক আনিসুর রহমান বলেন, তিনি তিন বিঘা ধান জমিতে চাষ করেছিলেন। কিন্তু অর্ধেকই নষ্ট হয়ে গেছে। বিলের প্রায় একশ বিঘা জমির ধান ব্লাস্টের আক্রমণে শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন কৃষক জানান, ব্রি-২৮ ধান বেশ সরু এবং ভাত খেতে ভালো। দামও সব সময় অন্য ধানের চেয়ে বেশি থাকে। এ জন্য তারা উপজেলায় অনেক জমিতে এই ধান চাষ করেন।

কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ অঞ্চলের বোরোক্ষেতে মূলত দুই ধরনের ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। একটি লিফ ব্লাস্ট এবং অন্যটি নেক ব্লাস্ট। লিফ ব্লাস্ট রোগটি ধানের পাতায় হয়। লম্বাটে বাদামি রঙের দাগ দেখা দেয় পাতায়। নেক ব্লাস্ট দেখা দেয় শিষের নিচের অংশে। এই রোগে শিষের নিচের অংশে কালো দাগ দেখা দেয়। পরে সেখান থেকে শুরু হয় পচন। আস্তে আস্তে ধানের শিষ শুকিয়ে সাদা হয়ে যায়। শিষের সব ধান হয়ে যায় চিটা। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ছত্রাকনাশক ছিটিয়েও ফল পাওয়া যায় না। তাপমাত্রার তারতম্যের জন্য মূলত ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। দিনে গরম ও রাতে শীতের কারণে বোরোক্ষেতে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। তা ছাড়া ব্লাস্টের জীবাণু বাতাসে ভাসতে থাকে। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি এবং তাপমাত্রা বেশি থাকলে এই রোগের বিস্তার ঘটে। ব্রি-২৮ এবং ব্রি ৫০ জাতের ধানে এই রোগের বেশি প্রকোপ দেখা দেয়।

অভয়নগর উপজেলার বগুড়াতলা গ্রামের কৃষক মাহাবুর গাজী বলেন, তিনি এবার আট কাঠা জমিতে ব্রি-২৮ জাতের বোরো ধান চাষ করেছেন। পুরো জমির ধানের শিষ একেবারেই শুকিয়ে সাদা হয়ে গেছে। শিষে ধান নেই বললেই চলে। শুধু চিটা আর চিটা।

শ্রীধরপুর গ্রামের কৃষক আনোয়ার মল্লিক জানান, তিনি ৭৯ শতক জমিতে হিরা-২ হাইব্রিড ধান লাগিয়েছেন। ব্লাস্টে অর্ধেকের বেশি জমির ধান নষ্ট হয়েছে। কয়েকবার ব্লক সুপারভাইজারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আসতে চেয়েও আসেননি। সর্বশেষ তিনি ধান কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন।

অভয়নগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোলাম ছামদানী বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার ব্লাস্টের আক্রমণ কম হয়েছে। কৃষকদের ব্রি-২৮ চাষে নিরুৎসায়িত করা হচ্ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com