প্রগতিশীলতার চর্চা না হলে দেশ পেছনের দিকে হাঁটবে: আদালত

জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলা

প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২২ । ১৮:১০ | আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২২ । ০১:২৩

সমকাল প্রতিবেদক

রায়ের পর আদালত থেকে কারাগারে নেওয়া হচ্ছে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফয়জুল হাসান ফয়েজকে, ছবি: ইউসুফ আলী

বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালত তার পর্যবেক্ষণে বলেছেন, জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনা একটি ‘ধর্মীয় সন্ত্রাস’। 

আজ মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ নূরুল আমীন বিপ্লব রায় ঘোষণা করেন। রায়ে এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন আদালত। কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের কালিয়ারকাপন গ্রামের ফয়জুল হাসান।

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, স্বাধীন মত প্রকাশ ও পরমতসহিষ্ণুতা, গণতন্ত্র, প্রগতিশীলতার চর্চা না হলে দেশ পেছনের দিকে হাঁটবে। স্বাধীন ও গঠনমূলক ভিন্নমত চর্চার মাধ্যমেই সঠিক পথ পাওয়া সম্ভব। 

আরও পড়ুন: জাফর ইকবালকে হত্যাচেষ্টা মামলায় একজনের যাবজ্জীবন, খালাস ৪ 

আদালত বলেন, জাফর ইকবালের ওপর হামলা চালিয়ে যেসব লেখক মুক্তবুদ্ধি ও প্রগতিশীলতার পক্ষে থাকেন, তাদের ভয় দেখানোই ছিল আসামি ফয়জুলের মূল উদ্দেশ্য। 

আসামি ফয়জুল হাসান সম্পর্কে আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই আসামি দেশ বা কোনো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য— এমনটা প্রমাণিত হয়নি। কিন্তু তিনি বিভিন্ন ইন্টারনেট সাইট থেকে জিহাদি প্রবন্ধ ও বই ডাউনলোড করে পড়ে, উগ্রবাদী বক্তাদের বক্তব্য শুনে সন্ত্রাসী কাজে উদ্বুদ্ধ হন। 

আরও পড়ুন: যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ফয়েজের ওপর মায়া হয়: ড. জাফর ইকবাল 

এই মামলায় ফয়জুলের বন্ধু সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের উমেদনগর গ্রামের মো. সোহাগ মিয়াকে চার বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া বাকি চার আসামি ফয়জুলের বাবা আতিকুর রহমান, মা মিনারা বেগম, মামা ফয়জুল হক ও ভাই এনামুল হাসানকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি মুমিনুর রহমান এক আসামির যাবজ্জীবন, একজনের চার বছরের কারাদণ্ড ও চারজনের খালাস পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

২০১৮ সালের ৩ মার্চ বিকেলে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে একটি অনুষ্ঠান চলাকালে মুহম্মদ জাফর ইকবালের ওপর ছুরি দিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই সময় মুহম্মদ জাফর ইকবাল মাথা ও ঘাড়ে আঘাত পান। হামলার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ফয়জুল হাসানকে আটক করে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ইশফাকুল হোসেন বাদী হয়ে সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানায় মামলা করেন। এ মামলায় ফয়জুলকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি ফয়জুলের বন্ধু মো. সোহাগ মিয়া, বাবা মাওলানা আতিকুর রহমান, মা মিনারা বেগম, মামা ফয়জুল হক ও ভাই এনামুল হাসানকে আসামি করা হয়।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com