ছাড়ের টাকা কে দেয়

ক্রেডিট কার্ড ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে কেনাকাটা

প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২২ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

কোনো উৎসব এলেই টেলিভিশন, পত্রিকা, বিলবোর্ড, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে দেখা যায় বিভিন্ন ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে ছাড়ের বিজ্ঞাপন। এতে বলা হয়, তাদের কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু প্রতিষ্ঠানের কেনাকাটার বিল পরিশোধ করলেই মিলবে মূল্যছাড়। মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের ছাড়ের ঘোষণা দেয়। এই ছাড় ৫ শতাংশ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি হয়ে থাকে।

এই ছাড়ের বিষয়টি হচ্ছে এমন যে, আপনার একটি ক্রেডিট কার্ড বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট আছে। আপনি নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডশপ, সুপারশপে কেনাকাটা করে ওই ক্রেডিট কার্ড বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে বিল পরিশোধ করলে ছাড় পাচ্ছেন। আর আপনার বন্ধু যদিও একই প্রতিষ্ঠানে একই পণ্য বা সেবার জন্য নগদ টাকায় মূল্য পরিশোধ করেন, তিনি কোনো ছাড় পাচ্ছেন না। ফলে একই পণ্য বা সেবার জন্য ক্রেডিট কার্ড বা এমএফএস অ্যাকাউন্টধারী ব্যক্তির খরচ কম হচ্ছে। আর নগদ টাকার মালিককে বেশি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। তাহলে ক্রেডিট কার্ড বা এমএফএস অ্যাকাউন্টে লেনদেনের ফলে আপনি যে ছাড় পেলেন, সেই টাকাটা কে পরিশোধ করছে। ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান দিয়ে দিচ্ছে নাকি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান কম নিচ্ছে।

এ বিষয়ে বিভিন্ন ব্যাংক, এমএফএস প্রতিষ্ঠান ও বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই ছাড় কে দেবে তা নির্ভর করে ব্র্যান্ড, প্রডাক্ট, পরিস্থিতির ওপর। যদি উৎসব মৌসুম হয় এবং নামকরা ব্র্যান্ড হয়, তাহলে ছাড়ের পুরোটার দায়ই ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানকে নিতে হয়। কারণ উৎসবের মৌসুমে নামকরা ব্র্যান্ডের পণ্যের বাড়তি চাহিদা থাকে। এই বাড়তি চাহিদায় ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠান নিজেদের গ্রাহক বাড়ানোর সুযোগ নিতে এই ছাড় দিয়ে থাকে। আবার যদি এমন হয়, পণ্য বিক্রেতার পরিচিতি ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের তুলনায় কম, তাহলে পণ্য বিক্রেতাও ছাড়ের অংশের ভাগ নেন। কারণ নতুন প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট ব্যাংক বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের কাছে পরিচিতি পান।

এ বিষয়ে একটি বেসরকারি ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের প্রধান বলেন, ক্রেডিট কার্ডের অধিকাংশ ছাড়ের ক্ষেত্রেই দায় ব্যাংক নিয়ে থাকে। কারণ, এ ধরনের ছাড় থেকে ব্যাংকের লাভ বেশি। প্রথমত ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য গ্রাহককে কার্ড ব্যবহারে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি নতুন গ্রাহক তৈরিরও লক্ষ্য থাকে। অন্যদিকে ক্রেডিট কার্ডের প্রতিটি পেমেন্টই ঋণ। অনেক গ্রাহক সময়মতো কার্ডের বিল পরিশোধ করেন না বা করতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে সুদ আয়ের সুযোগ থাকে ব্যাংকের। এ ছাড়া বারবার কার্ড ব্যবহার হওয়ারও কিছু সুবিধা আছে ব্যাংকের। মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যাংকের কাছে প্রচুর অর্থ জমা হয়, যার সুদহার কম। আবার কার্ডের গ্রাহকের ব্যাংকের অন্যান্য প্রডাক্ট নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। বিভিন্ন ধরনের লেনদেনে আলাদা আলাদা চার্জ পায় ব্যাংক।

তিনি বলেন, অনেক সময় কোনো কোনো ব্যাংকের ডেবিট কার্ডেও ছাড় থাকে। তবে ডেবিট কার্ডের ছাড়ের পুরোটাই পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা সেবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বহন করে। ডেবিট কার্ডের ছাড়ের টাকা ব্যাংক কখনও নেয় না। কারণ ডেবিট কার্ড থেকে বেশি ব্যয় হলে ব্যাংকের সুদমুক্ত বা কম সুদের তহবিল কমে যায়। কিন্তু কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান গ্রাহক পেতে অনেক সময় ডেবিট কার্ডে ছাড় দিয়ে থাকে।

এমএফএস প্রতিষ্ঠানের ছাড় বিষয়ে শীর্ষস্থানীয় এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশের করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান সামসুদ্দিন হায়দার ডালিম সমকালকে বলেন, বিকাশের লেনদেনে যে ছাড় দেওয়া হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেটি মার্চেন্ট (বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান) ও বিকাশ মিলে পরিশোধ করে। তবে কে কত অংশ পরিশোধ করবে- সেটিা নির্ভর করে ব্র্যান্ড, সময়, পণ্য বা সেবার ওপর। তিনি বলেন, ডিজিটাল পেমেন্টে উৎসাহিত করা, ডিজিটাল পেমেন্টে ইকোসিস্টেম সৃষ্টি এবং উৎসবের সময় গ্রাহকদের কিছুটা প্রণোদনা দেওয়াও উদ্দেশ্য থাকে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com