জাতীয় ঈদগাহে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত

প্রকাশ: ০৩ মে ২২ । ০৯:৪৩ | আপডেট: ০৩ মে ২২ । ১২:১৯

সমকাল প্রতিবেদক

মঙ্গলবার সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে রাজধানীর প্রধান জামাতে শরিক হন মুসল্লিরা। ছবি-আশিক ইসলাম

করোনা মহামারির প্রকোপ কমে এসেছে অনেকটাই, বিধিনিষেধের বেড়াজাল পেরিয়ে দুই বছর পর রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ মাঠে দেশের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হলো।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে নামাজ শেষ হয় ৮টা ৩৭ মিনিটে। এতে ইমামের দায়িত্ব পালন করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি রুহুল আমিন। মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ জামাতে নামাজ আদায় করেছেন। 

দুই বছর পর অনুষ্ঠিত এই ঈদ জামাতে বিপুল সংখ্যক মুসলমান অংশ নেন। ৩৫ হাজার মানুষ ধারণ ক্ষমতার মাঠ পরিপূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর কদম ফোয়ারার চারিদিকে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পশ্চিম পাশের সড়ক, শিক্ষা ভবনের পশ্চিম পাশের সড়কে দাঁড়িয়েও অনেকে নামাজ পড়েন। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষ এই জামাতে অংশ নেন।

দুই রাকাত নামাজের পর ঈদের বিশেষ খুতবা পড়া হয়। খুতবা শেষে মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় ঈদের প্রধান জামাত। মোনাজাতে গুনাহ থেকে মুক্তি এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়। 

দেশের প্রধান ঈদ জামাতের ইমাম রুহুল আমিন বলেন, দেশ শান্তি সম্প্রীতির দেশ। এদেশে সব ধর্মের মানুষ সম্প্রীতি নিয়ে বসবাস করে। শান্তি-সম্প্রীতি নষ্ট হয়, আমরা এমন উস্কানিমূলক বক্তব্য পরিহার করব। এধরনের বক্তব্য দেব না।

বিশ্বজুড়ে ইউক্রেইন যুদ্ধের প্রভাবের মধ্যে ঈদের নামাজ শেষে মোনাজাতে বাংলাদেশের কল্যাণ কামনা করেন মাওলানা রুহুল আমিন।

তিনি বলেন, অনেক রক্তের বিনিময়ে এদেশ পেয়েছি আমরা, আল্লাহ। এদেশকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজত করুন। পৃথিবী থেকে যুদ্ধ যাতে চলে যায়। সকল বালা-মুসিবত থেকে আমাদের রক্ষা করুন।

জামাত শেষে পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি ও কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মুসল্লিরা।

এর আগে, নামাজ আদায়ের জন্য সকাল ৭টা থেকে থেকে জায়নামাজ হাতে ঈদগাহে ভিড় করেন মুসল্লিরা। তাদের অনেকের হাতে ছাতাও দেখা যায়। দুই বছর পর এবার তারা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করলেন। এবার স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও নামাজে আসা অনেকের মুখেই মাস্ক দেখা যায়।

ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে আশপাশের সড়কে ডাইভারশন দেয় পুলিশ। ফলে মুসল্লিদের কিছুটা পথ হেঁটে মাঠে প্রবেশ করতে হয়েছে। ঈদ জামাতে প্রবেশের মুখে র‌্যাব-পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর তীক্ষ্ণ নজরদারি ছিল। নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলায় মুসল্লিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সকাল থেকেই ঈদগাহ এলাকায় এবং প্রতিটি গেটে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি ছিল। ব্যাগ নিয়ে আসা অনেককেই তারা তল্লাশি করেন। এছাড়াও প্রত্যেককে আর্চওয়ে গেটের মাধ্যমে ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

এর আগে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল ৭টায় ঈদুল ফিতরের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। আরও চারটি জামাত সেখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। 


মহামারি পরিস্থিতির উন্নতিতে এবার স্বরূপে ফেরা ঈদের সকালে আকাশে মেঘের সাজ থাকলেও সকাল পৌনে ৯টায় নামাজ শেষের সময়ও তা বৃষ্টি হয়ে ঝরেনি। ফলে মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে হয়নি।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com