২৫ মের মধ্যে আত্মসমর্পণ করবেন হাজী সেলিম

প্রকাশ: ০৫ মে ২২ । ১৬:৫২ | আপডেট: ০৫ মে ২২ । ১৮:৩৬

সমকাল প্রতিবেদক

দুর্নীতির মামলায় ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত পুরান ঢাকার সংসদ সদস্য হাজি সেলিম আগামী ২৫ মের মধ্যে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা।

বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।  

সাঈদ আহমেদ রাজা সমকালকে বলেন, চিকিৎসা শেষে উনি দেশে ফিরেছেন। আগামী ২৫ মে'র মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে অনুযায়ী তিনি এই সময়ের মধ্যে যে কোন দিন আত্মসমর্পণ করবেন। সেক্ষেত্রে ১৬ মে সম্ভাবনা রয়েছে। 

সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, এয়ারপোর্ট থেকে সরাসরি উনি (হাজী সেলিম) আমার চেম্বারে এসেছিলেন। তিনি এখনই আত্মসমর্পণ করতে চান। কিন্তু ১৫ মে পর্যন্ত আদালত বন্ধ। তা ছাড়া হাইকোর্ট উনাকে ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আত্মসমর্পণ করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলও করা হবে। সে প্রস্তুতি চলছে। 

অ্যাডভোকেট রাজা আরও বলেন, দুদকের আইনজীবী বলছেন, উনার (হাজী সেলিম) বিদেশ যাওয়ায় আইনের ব্যতয় ঘটেছে। এখানে কী ব্যতয় ঘটলো আমি বুঝতে পারছি না। উনার বিদেশ যাওয়ার ব্যাপারে সরকার বা আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। তিনি তো সরকারের নির্বাহী আদেশে মুক্তি পাননি। তাহলে এখানে এ বিষয়টা আসবে কেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সমকালকে বলেন, দণ্ডিত কোনো আসামিকে বিদেশ যেতে হলে অবশ্যই আদালতের অনুমতি নিতে হয়। কারণ, সর্বোচ্চ আদালত আপিল বিভাগের একাধিক রায়ে বলা আছে, দণ্ডিত আসামিকে বিদেশে যেতে হলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতি নিতে হবে। এখানে হাজী সেলিম আদালতের কোনো অনুমতি নেননি। এখানে অবশ্যই আইনের ব্যতয় ঘটেছে। একজন দণ্ডিত আসামি যা খুশি তাই করতে পারবেন না। 

সুপ্রিম কোর্টের এ আইনজীবী বলেন, উনি বিদেশে যেতে পারবেন কী, পারবেন না তার ব্যাখা দিবে আইন মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো একজন দণ্ডিত আসামির পক্ষে এভাবে সাফাই গাইতে পারেন না। এটা আমাদের জন্য খুবই বিব্রতকর। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো। 

আর হাজী সেলিমের আইনজীবীও 'খোঁড়া যুক্তি' দিয়েছেন বলে মনে করেন তিনি।

এর আগে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি হজরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান হাজী সেলিম। 

দেশে ফিরেই লালবাগে তার নির্বাচনী এলাকার শাহানি বেগম নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার জানাজায় অংশ নেন। পরে লালবাগ থেকে তিনি চলে যান আজিমপুর কবরস্থানে। সেখানে তার স্ত্রীর কবর জিয়ারত করেন। 

শনিবার সন্ধ্যায় থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশে ছাড়েন হাজি সেলিম। আদালতের দেওয়া দণ্ড মাথায় নিয়ে দেশ ছাড়ায় এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বৃহস্পতিবার বলেন, হাজি সেলিম জরুরি চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে গিয়েছিলেন। আইন মেনেই বিদেশে গেছেন এবং আইন মেনেই আবার চলে এসেছেন।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আদালত তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ওই মামলায় আওয়ামী লীগের এই এমপির ঈদের পর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের কথা রয়েছে। কিন্তু তার আগে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে তিনি থাইল্যান্ডের ব্যাংকক যান। 

গত ২৫ এপ্রিল হাজী সেলিমের আইনজীবী সাঈদ আহমেদ রাজা সমকালকে জানিয়েছিলেন যে, তিনি ঈদুল ফিতরের পর বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। কিন্তু আত্মসমর্পণ না করেই তিনি গোপনে দেশত্যাগ করেন। বর্তমানে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় হাজী সেলিম জামিনে আছেন। 

গত সপ্তাহে অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে হাজী মোহাম্মদ সেলিমের ১০ বছর কারাদণ্ড বহালের রায় নিম্ন আদালতে পাঠানো হয়েছে। হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে এ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি সোমবার বিচারিক আদালতে পাঠানো হয়।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী খুরশিদ আলম খান সমকালকে বলেন, হাইকোর্টের রায় অনুযায়ী এখন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে হাজী সেলিমকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করবেন আদালত। এরপর ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন তিনি। এছাড়া নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা হাইকোর্টে বহাল থাকায় হাজী সেলিম এমপি থাকার যোগ্যতা অনেক আগেই হারিয়েছেন।

গত ৯ মার্চ অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় হাজী সেলিমকে বিচারিক আদালতের দেওয়া ১৩ বছর সাজা কমিয়ে ১০ বছর কারাদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। রায় প্রদানকারী দুই হলেন, বিচারপতি মো. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী এবং বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হক।

রায়ে তিন বছরের দণ্ড থেকে খালাস পান হাজী সেলিম। দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর ৬৮ পৃষ্ঠার রায়ের কপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। এই সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তার জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

এদিকে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পরই সাজাপ্রাপ্ত হাজী সেলিম ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য পদে থাকার বৈধতা নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন শুরু হয়। 

প্রশ্ন উঠে, আদালতের এই পূর্ণাঙ্গ রায়ের পরে হাজী সেলিমের সংসদ সদস্য পদ থাকবে কী না বা তাকে এই পদে রাখা নৈতিক বিবেচনায় কতটা সমর্থনযোগ্য হবে?

সংবিধানের ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, একজন সাংসদ নৈতিক স্খলনজনিত ফৌজদারি অপরাধে কমপক্ষে দুই বছরের সাজাপ্রাপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে। আর ফৌজদারি কার্যবিধির ৪২৬ ধারা অনুযায়ী তার সাজার রায় স্থগিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি এমপি হিসেবে বিবেচিত হবেন না।

দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান বলেন, সাজা বহালের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সেটি দুদকের পক্ষ থেকে স্পিকারের কাছে পাঠানো হবে। এরপর স্পিকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের ২৪ অক্টোবর হাজী সেলিমের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন এবং ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগে লালবাগ থানায় মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল পৃথক দুটি ধারায় হাজী সেলিমকে ১০ বছর ও তিন বছর কারাদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। এরপর হাইকোর্টে আপিল করেন হাজী সেলিম।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com