টানা দুই টেস্ট খেলার ‘দম’ নেই

প্রকাশ: ০৯ মে ২২ । ১০:১০ | আপডেট: ০৯ মে ২২ । ১০:১০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ছবি: ফাইল

বাংলাদেশ দলের কাছে টেস্ট ক্রিকেট যেন দুর্গম মরু যাত্রা। মরীচিকা আর ধু ধু প্রান্তরের বিশালতায় যাত্রীদের পথ ভুল করার মতো বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটাররাও খেই হারান খেলার মাঝপথে। জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ যেটাকে দেখেন মনোবলের ঘাটতি হিসেবে।

গত চার-পাঁচটি সিরিজের পরিসংখ্যান ঘেঁটে কোচদের মনে হচ্ছে, প্রথম টেস্টের মানসিকতা দ্বিতীয় টেস্টে থাকে না। তাই সিরিজ নির্ধারণী দ্বিতীয় টেস্টের বেশি খারাপ খেলে। শেষ তিনটি সিরিজ দেখলে যে কারও মনে হবে টানা দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলার দম নেই মুমিনুলদের।

পরিসংখ্যানে আরও একটি বার্তা রয়েছে, দেশের চেয়ে বিদেশে দ্বিতীয় টেস্টে বিপর্যয় বেশি। এক্ষেত্রেও অভিযোগের কাঠগড়ায় টেস্ট ক্রিকেটারদের বিক্ষিপ্ত মন এবং অপেশাদার আচরণ। ‘হোম সিকনেস’ থাকায় বাড়ি ফেরার তাড়না কাজ করায় খেলা থেকে ফোকাস হারিয়ে যায়।

নিজেদের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলে কে কার আগে দেশে ফিরবে। ম্যাচের বাইরের অনুষঙ্গ এতটাই জেঁকে বসে যে, মন আনমনে হয় অজান্তেই। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন যেটা বলছেন, ১০ দিন টেস্ট খেলার ‘মাইন্ড সেটআপ’ নেই বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের।

বিসিবি সভাপতি পাপন রোববার টেস্ট ক্রিকেটের ভালো-মন্দ নিয়ে সোনারগাঁও হোটেলে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ এবং অধিনায়কের সঙ্গে মিটিং করেছেন। নিউজিল্যান্ডে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ের পর দক্ষিণ আফ্রিকায় দুই টেস্টে বাজেভাবে হারের কারণ কোচিং স্টাফের কাছে জানতে চেয়েছিলেন বোর্ড কর্তা।

টাইগারদের টেস্টের পারফরম্যান্সের ব্যবচ্ছেদ করে বেশ কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন কোচরা। বিসিবি সভাপতি তা থেকে এক-দুটি কারণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন, ‘একটা জিনিস যেটা কোচিং স্টাফদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, ওরা আমাকে উদাহরণ দিচ্ছিল শেষ চার-পাঁচটি টেস্ট ম্যাচের। এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গে যখন খেললাম প্রথম টেস্টে আমরা ভালোই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পেরেছি। কিন্তু দ্বিতীয় টেস্টে একেবারই ধরাশায়ী।

বাইরের খেলাগুলোর কথা বলল, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এরকম অনেক টেস্টের কথা নিয়ে আসল। আসলে আমরা প্রথম টেস্টটা মোটামুটি ভালোই খেলি, দ্বিতীয় টেস্টে গিয়ে একেবারই মনে হয় পারি না। এর পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে, ওরাও এত তাড়াতাড়ি বুঝছে না। কিন্তু ওরা যেটা বলল, আসলে ১০ দিন খেলার মাইন্ড সেটটাই নেই। ১০ দিন টানা খেলতে হবে, এই মাইন্ড সেট অনেক খেলোয়াড়ের নেই।’

কোচদের এই পর্যবেক্ষণ অমূলক নয়। টেস্ট অভিষেকের পর থেকেই এই রোগে আক্রান্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। হাবিবুল বাশারদের সময় থেকে হালের লিটন কুমার দাসরাও যেখান থেকে বেরোতে পারেননি। প্রথম টেস্ট হেরে গেলে দ্বিতীয় টেস্টে প্রবলভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিক শক্তি থাকে না ক্রিকেটারদের।

২০১৭ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে ওয়েলিংটনে দুর্দান্ত লড়াই করার পর ক্রাইস্টচার্চে তিন দিনেই খেলা শেষ। গত বছর শ্রীলঙ্কা সফরে প্রথম টেস্ট ড্র করলেও দ্বিতীয় টেস্ট হেরেছে ২০৯ রানে। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজেও একই চিত্র। ব্যতিক্রম ছিল হাতেগোনা কয়েকিটি সিরিজ। টেস্টের সার্বিক পারফরম্যান্সের দর্পণে যেটা খুব একটা প্রতিফলিত হয় না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com