অন্যদৃষ্টি

সফলতা ও সতর্কতা

প্রকাশ: ১৪ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৪ মে ২২ । ০১:২৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

কামরুল হাসান খান

করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় বিশ্বের সব দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। অন্যদিকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে। গত ৫ মে জাপানভিত্তিক নিক্কেই এশিয়ার প্রকাশিত 'নিক্কেই কভিড-১৯ রিকভারি সূচক'-এ এই তথ্য উঠে এসেছে। নিক্কেই কভিড-১৯ আরোগ্য সূচকে বাংলাদেশ পেয়েছে ৮০ পয়েন্ট। গত মার্চের শেষে ৭২ পয়েন্ট পেয়ে এ অবস্থান ছিল ১৩তম। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলের ব্যবস্থাপনা, টিকা দেওয়ার হার এবং সামাজিক তৎপরতার ওপর ভিত্তি করে প্রতি মাসের শেষে এই সূচক প্রকাশ করা হয়।

এপ্রিল মাসের সূচকে ৭৯ পয়েন্ট পেয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় এবং বিশ্বে ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে নেপাল। এই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তান বিশ্বের অন্যান্য দেশের মধ্যে ২৩তম স্থানে রয়েছে। ৩১তম অবস্থান নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে অর্থনৈতিক সংকটে থাকা শ্রীলঙ্কা। ৬২ দশমিক ৫ পয়েন্ট পেয়ে হাইতির সঙ্গে যৌথভাবে ৭০তম অবস্থানে রয়েছে ভারত। সূচকের শীর্ষে থাকা দেশ কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত পেয়েছে ৮৭ পয়েন্ট। গত কয়েক মাস ধরে বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমে আসছে। গত ২০ এপ্রিলের পর টানা ১৬ দিন কভিডে নতুন করে কোনো মৃত্যু হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে সারাদেশে ১৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যাদের ১৪ জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা। নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৭৬৬ জন। মহামারির শুরুতে ২০২০ সালের ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর পর এ পর্যন্ত ২৯ হাজার ১২৭ জন মারা গেছেন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু কমেছে। ২০২০ সালের ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ১৯ লাখ ৫২ হাজার ৭৬৬ জনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৪৬ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ১২৭ জনের। সরকারি হিসাবে দেশের ৭৫ শতাংশের বেশি মানুষকে অন্তত এক ডোজ করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে। দুই ডোজ টিকা পেয়েছেন প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ।

চলমান করোনা মহামারিতে বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় কমেছে নতুন শনাক্ত রোগীর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাবিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় দুই হাজার মানুষ। একই সময়ে ভাইরাসটিতে নতুন করে আক্রান্তের সংখ্যা নেমে এসেছে পাঁচ লাখের নিচে।

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে জার্মানিতে। অন্যদিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণহানির তালিকায় এরপরই রয়েছে জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, রাশিয়া ও ফ্রান্স। এতে বিশ্বব্যাপী করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৫১ কোটি ৬৩ লাখের ঘর। অন্যদিকে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৬২ লাখ ৭৪ হাজার।

একই সময়ে স্পেন, ইতালি, জাপান, রাশিয়া, অস্ট্রিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডে সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য। লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল করোনায় আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। সংক্রমণ রয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও গ্রিসে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ২০২০ সালের ১১ মার্চ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) করোনাকে 'বৈশ্বিক মহামারি' হিসেবে ঘোষণা করে। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে সংস্থাটি।

করোনাভাইরাসের অভিজ্ঞতা ছিল গোটা বিশ্বের জন্যই নতুন। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে বেশ অব্যবস্থাপনা ছিল কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরাসরি মনিটর করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। আট শতাধিক করোনা পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপিত হয়, বিনামূল্যে বুস্টার ডোজসহ পর্যাপ্ত টিকা সংগ্রহ করে জনগণকে প্রদান করা হয়। কোনো রোগই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় না। আবার নতুন করে বিভিন্ন দেশে করোনা সংক্রমণের পূর্বাভাস দেওয়া আছে। তাই আমাদেরও করোনাসহ সব মহামারি প্রতিরোধে সতর্ক থাকতেই হবে।

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান: প্রাক্তন উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com