বিতর্কিতদের বিষয়ে কঠোর বিএনপি

প্রকাশ: ১৪ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৪ মে ২২ । ১৪:০৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

কামরুল হাসান

বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন কার্যক্রমে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে কতিপয় বিতর্কিত নেতার আর্থিক কেলেঙ্কারি, পদ-বাণিজ্য, বিতর্কিতদের পদায়নসহ বিভিন্ন দুর্নীতি-অনিয়মের কারণে হতাশাও রয়েছে এ দলে। এই বিতর্কিত নেতাকর্মীদের আর্থিক কেলেঙ্কারি, পদ-বাণিজ্য, বিতর্কিতদের পদায়নসহ বিভিন্ন অনিয়মের ব্যাপারে অভিযোগের পর অভিযোগ জমা পড়ছে দলের কেন্দ্রে।

ওইসব বিতর্কিতের বিষয়ে এবার কঠোর অবস্থানে দলের হাইকমান্ড। এর আলোকে যুবদলের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের নেতৃত্ব বাছাই করা হচ্ছে। আর্থিক কেলেঙ্কারি, সরকারের সঙ্গে আঁতাতকারীদের এবার কমিটিতে স্থান দেওয়া হচ্ছে না বলে সূত্র জানায়।

বিএনপির পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনকেও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সারাদেশে থানা-পৌর এমনকি ইউনিয়ন পর্যন্ত ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেন কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড। গড়ে তোলা হয় বিভাগীয় সাংগঠনিক টিম। যাঁদের দায়িত্ব ছিল তৃণমূল থেকে যোগ্য ও ত্যাগীদের দিয়ে কমিটি গঠনের জন্য নির্দেশনা দেওয়া। সূত্র জানাচ্ছে, সারাদেশে কমিটি গঠনে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে যুবদলের ক্ষেত্রে। অনেক স্থানেই টাকা ছাড়া তৃণমূলের ত্যাগী ও যোগ্য নেতারা কমিটিতে পদ পাননি। অবশ্য যাঁদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তাঁরা বলছেন, কমিটিতে স্থান না পেলেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে। কিন্তু সমকালের অনুসন্ধানে তৃণমূল বিএনপির এসব অভিযোগের অনেকগুলোরই সত্যতার প্রমাণ মিলেছে। অভিযোগকারী নেতাকর্মীরা জানান, কোনো কোনো এলাকায় এক যুগ-দেড় যুগ ধরে কমিটি নেই। দলের হাইকমান্ডের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তে দেশের সিংহভাগ এলাকায় নতুন কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের নামে একদিকে যেমন তাদের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, তেমনি নেতৃত্ব প্রতিযোগিতার নামে তাদের সর্বস্বান্তও হতে হয়েছে।

যুবদলের ১১টি টিমের মধ্যে বরিশাল, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগীয় টিমের বিরুদ্ধেই অভিযোগের মাত্রা বেশি। অন্যান্য টিমের বিরুদ্ধেও কম-বেশি অভিযোগ রয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ থাকায় এ সংগঠনের অনেকেই ছিলেন বেপরোয়া। তাঁদের অনেকে আবার যুবদলের মূল নেতৃত্বে আসতে চাইছেন।

বরিশাল বিভাগের নেতাকর্মীরা জানান, বরিশাল বিভাগীয় টিমপ্রধান যুবদলের সহসভাপতি কাজী আজিজুল হাকিম আরজুর স্থানে দেড় বছর আগে সহসভাপতি মোনায়েম মুন্নাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের দূরসম্পর্কের ভাগ্নে। এই পরিচয়ে তিনি প্রভাব বিস্তার করেন শুরু থেকেই। বরিশাল মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হাসান মামুনকে তিনি বহিস্কার করেছেন দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই। শুধু যুবদলের নয়, পুরো জেলা বিএনপি কমিটিতেই খবরদারি করে চলেছেন তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় টিমের বিরুদ্ধে আর্থিক অভিযোগও রয়েছে বিস্তর। পটুয়াখালী দুমকী থানা যুবদলের কমিটিতে সদস্য সচিব করা হয়েছে রিপন শরীফকে। যিনি ট্রাক ছিনতাইকালে সেটির ড্রাইভার ও হেলপারকে নৃশংসভাবে হত্যা করার মামলায় যাবজ্জীবন সাজা পেয়েছেন। অস্ত্র মামলা, মাদকসহ আরও বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে তাঁর নামে। জেলে থাকার সময় অদৃশ্য কারণে রিপন শরীফকে নেতা বানানো হয়।

বাকেরগঞ্জ থানা যুবদলের কমিটি গঠনে মানা হয়নি 'এক নেতার এক পদ নীতি'। এখানেও সাত লাখ টাকার বিনিময়ে থানা কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিটিতে ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি।

পুরো বরিশাল বিভাগেই এমন অনেক অনিয়মের চিত্র রয়েছে।

এদিকে যুবদলের ঢাকা বিভাগীয় টিমের বিরুদ্ধে গাজীপুরের শ্রীপুর কমিটি গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নিজের এলাকা কেরানীগঞ্জ থানায় যুবদল কমিটি ভেঙে দেওয়া হয় দুই বছর আগে। কিন্তু ঢাকা বিভাগীয় টিমের খামখেয়ালিতে সেটি এখনও গঠন করা হয়নি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনাও এখানে উপেক্ষিত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বরিশাল বিভাগীয় টিমপ্রধান মোনায়েম মুন্না বলেন, স্থানীয় নেতাদের প্রাধান্য দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি গঠনে কোনো অনিয়ম হয়নি। যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব বলেন, সাংগঠনিক নিয়ম মেনে তৃণমূলে কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কোথাও কোনো অভিযোগ থাকলে তা কেন্দ্র থেকে সমাধান করা হয়।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com