বিজিএমইএ ভবন ভাঙা হলে সেতু ভবন কেন হবে না, প্রশ্ন মেয়র আতিকের

প্রকাশ: ১৪ মে ২২ । ২০:৩৩ | আপডেট: ১৪ মে ২২ । ২০:৩৩

সমকাল প্রতিবেদক

র‌্যাংগস ভবন বা বিজিএমইএ ভবন ভাঙা গেলে কেন সেতু ভবন অপসারণ করা যাবে না- আবারও এমন প্রশ্ন তুলেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ওখানকার তিনটি ভবনের কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। সব সময় যানজট লেগে থাকে। ওখানে গাছপালা ছিল। সবুজ ছিল। আমি আবারও অনুরোধ করব ওখানকার তিনটি ভবন যেন ভেঙে ফেলা হয়।

ডিএনসিসি মেয়র হিসেবে দ্বিতীয় দফা মেয়াদের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে শনিবার ডিএনসিসি নগরভবনে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে তার দুই বছর মেয়াদকালে নেওয়া উদ্যোগগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম রেজা, বিভিন্ন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আতিক জানান, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে নির্ধারিত মেয়াদকালের মধ্যে ২০ ভাগ কার্বন নিঃসরণ হ্রাস করতে কাজ করছেন তিনি। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালু প্রসঙ্গে ডিএনসিসি মেয়র বলেন, অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে। বিশ্বজুড়ে এটা আলোচ্য বিষয়। এজন্য ইলেকট্রিক বাস সার্ভিস চালুর ব্যাপারে ডিএনসিসি বদ্ধপরিকর। প্রাথমিকভাবে ডিএনসিসির নিজস্ব বাসগুলোকে ইলেকট্রিক বাসে রূপান্তরিত করা হবে বলেও জানান তিনি।

মেয়র বলেন, যানজট রাজধানীর একটি বড় সমস্যা। এ জন্য স্কুলগুলোকে নিজস্ব বাস সার্ভিস চালুর অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি যানজট নিরসনে তিনিও কাজ করে যাচ্ছেন। ফুটপাতে দোকান বসিয়ে হাজারো মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে। তাদের উচ্ছেদ করলে কদিন পর আবার ব্যবসা শুরু করে। এ বিষয়ে নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি ও প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

জলাবদ্ধতা নিরসন সম্পর্কে তিনি বলেন, দখল ঢাকার বড় সমস্যা। দায়িত্ব গ্রহণের পর খাল দখলমুক্ত করতে নিরলস প্রচেষ্টা চলছে। বিনা নোর্টিশে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। সাংবাদিক সমাজ, কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহায়তায় উত্তরা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার অবৈধ দখলদারদের হটিয়ে খাল, ফুটপাত, সড়ক, মাঠ ও পার্ক সচল করা হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে ডিএনসিসির ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা দিয়ে প্রবাহিত রূপনগর খালের দখলদার উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে। যারা খালের জায়গায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে বাণিজ্য করছেন, তাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করেন মেয়র।

আতিক বলেন, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে খালের দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে গেছে। আগে ডিএনসিসিতে জলাবদ্ধতার ১৪২টি হটস্পট ছিল। গত বছর সেটি ছিল ১০১টি। আর এবার জলাবদ্ধতার হটস্পট ৪২টিতে নেমে এসেছে। এ বছর জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষ্যে দশ অঞ্চলের জন্য দশটি কুইক রেসপন্স টিম গঠন করা হয়েছে।

মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসি নিরলসভাবে কাজ করছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। জনসচেতনতা না বাড়ালে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের সমাধান মিলবে না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com