সিলেটে বিপৎসীমার ওপরে সুরমা, নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ: ১৪ মে ২২ । ২২:০২ | আপডেট: ১৪ মে ২২ । ২২:০২

সিলেট ব্যুরো

টানা বৃষ্টির ফলে উজান থেকে নেমে আসছে পাহাড়ি ঢল

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তলিয়ে গেছে সড়ক ও ফসলি জমি। বিভাগের সবক'টি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সুরমা নদীর পানি দুটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একাধিক উপজেলায় শত শত মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নগরী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জলাবদ্ধতায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্নিষ্টরা।

সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখার কথা জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষের জন্য ৭৯ টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান। তিনি জানান, সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর ও কানাইঘাট উপজেলায় এসব চাল বিতরণ করা হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম নিলয় পাশা জানান, শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরমার পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এই নদীর পানি জকিগঞ্জের অমলসিদেতেও বিপদৎসীমার ওপরে বইছে। এ ছাড়া সারি ও গোয়াইন নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে বলে জানান তিনি। এই কর্মকর্তা আরও জানান, সিলেটের পার্শ্ববর্তী ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরা, আসাম রাজ্যেও টানা ভারি বর্ষণ হচ্ছে। এই পানি সিলেটসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের নদীর পানিপ্রবাহ বাড়িয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, আগামী ১৮ মে পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে রাতে বৃষ্টি বেশি হবে। তিনি আরও জানান, শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সিলেটে ৫৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর শুক্রবার ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়।

জানা গেছে, জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ও জৈন্তাপুর ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের সঙ্গে উপজেলা সদরের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন। ফসলি জমিও তলিয়ে গেছে। কানাইঘাটে সুরমা ও লোভা ডাউকের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে বসতবাড়িতে ঢুকে পড়েছে। প্রায় সবক'টি সড়ক পানির নিচে। লক্ষ্মীপ্রদাদ পূর্ব ও পশ্চিম ইউনিয়নের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ।

কানাইঘাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, কানাইঘাট বাজার, পৌর শহর, সদর ইউনিয়ন, চতুল, বাণীগ্রাম, ঝিংগাবাড়ি ও রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের অধিকাংশ বসতবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার রাত থেকে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ নেই। গোয়াইনঘাট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। নিম্নাঞ্চলের প্রায় সবখানের মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে অতিবৃষ্টির ফলে নগরীর লামাবাজার, শিবগঞ্জ, সেনপাড়া, সোনাপাড়া, শাহজালাল উপশহর, মেন্দিবাগ, তোপখানা, কাজলশাহ, লালাদীঘির পাড়, আম্বরখানাসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নগরীর সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে পানি ঢুকেছে। তবে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান দাবি করেছেন, সিলেটে এখন আগের মতো জলাবদ্ধতা হয় না। ভারি বৃষ্টিপাত হলে কিছু সময়ের জন্য পানি জমলেও বৃষ্টি শেষ হলে দ্রুত তা নেমে যায়।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com