সিলভীর অনন্য উদ্যোগ

প্রকাশ: ১৫ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মে ২২ । ১০:১৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

অসহায় মানুষের জন্য তার বহুমুখী উদ্যোগ। কখনও নিজে, কখনও বা এনজিওর সঙ্গে কাজ করেছেন। ইন্সপেয়ারিং ওমেন ভলান্টিয়ার ২০২১ হয়েছেন তিনি। যেটা দিয়েছে ইউনাইটেড নেশনস ভলান্টিয়ার বাংলাদেশ। এই সমাজকর্মীর নাম সৈয়দা নাজনীন আহমদ সিলভী। আট বছর ধরে তিনি সমাজসেবামূলক কাজ করছেন।

তার উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হলো- গুড টাচ বেড টাচ ক্যাম্পেইন, অ্যাওয়ারনেস ক্যাম্পেইন, আত্মরক্ষার ট্রেনিং, বিভিন্ন স্কুল ও প্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইংরেজি ভাষার প্রশিক্ষণ, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং, মাসিক সুরক্ষা ক্যাম্পেইন ও বিনামূল্যে স্যানিটারি নেপকিন বিতরণ কার্যক্রম ইত্যাদি। তিনি ইভাল্যুশন ৩৮০, ইউনাইটেড নেশনস ভলান্টিয়ার ইন্ডিয়া, ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন অব অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওর সঙ্গে কাজ করছেন অনেক বছর ধরে। সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে বিবিএ পাস করেন। ডাবল এমবিএ শেষ করেছেন তিনি। কিছুদিন আগে স্বামী এবং কিছু সংগঠনের সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করেছেন আর্থপিডিয়া গ্লোবাল।

সিলভী জানান, আর্থপিডিয়া গ্লোবালের মূল কাজটা হচ্ছে এসডিজি বাস্তবায়ন এবং সমাজের উন্নয়নমূলক কাজ করা। আর্থপিডিয়া গ্লোবাল সংগঠনটি তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষাবঞ্চিত শিশুর অধিকার আদায়ে কাজ করছে। ২০২১ সালের ২৪ জুন ভলান্টিয়ার লিডারশিপ ক্যাটাগরিতে ইন্ডিভিজুয়াল সেকশনে বাংলাদেশ ডিজিটাল সোশ্যাল ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড পান। তিনি গ্লোবাল পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটিয়ান ২০২১ অ্যাওয়ার্ড, ইন্সপায়ারিং ওমেন অ্যাওয়ার্ড ফিল্ম ফর ফিস ফাউন্ডেশন ও হিরো অ্যাওয়ার্ড ২০২১-এর জন্য মনোনীত হয়েছেন।

সিলভী বলেন, ইউনাইটেড নেশনস ভলান্টিয়ার বাংলাদেশ থেকে 'ইন্সপায়ারিং ওমেন ভলান্টিয়ার ২০২১' খেতাব অর্জন করা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার। জাতিসংঘ থেকে স্বীকৃতি পাব কখনও কল্পনা করিনি। দেশের ১৫ জনের মধ্যে আমি একজন এটা শুনতে অনেক ভালো লেগেছিল। সিলভী বলেন, পুরস্কার বা সম্মাননার জন্য আমি কাজ করি না। এসব কখনও চিন্তা করিনি। আমার দেশের প্রতি, সমাজের প্রতি এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ থেকে কাজ করে যাচ্ছি। যখন সমাজসেবার জন্য পুরস্কার পাই তখন ভালো লাগে। দায়িত্বটা আরও বেড়ে যায়। আমি সব সময় ভালো কাজ করে মানুষের মনে জায়গা করে নিতে চাই। অবশ্য স্কুলজীবন থেকেই সিলভী মানুষের সেবায় কাজ করছেন। স্কুলে পড়ার সময় থেকে ভলান্টিয়ার কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে মানুষের জন্য কাজ করার ভাবনা পোক্ত হয় ইউনিভার্সিটিতে এসে। রিসার্চ পেপারের জন্য তিনি একবার ২৫টি স্কুল

ভিজিট করেন।

সিলভী বলেন, স্কুলগুলোর অবস্থা দেখে অনেক খারাপ লাগে। অনেক স্কুলে বিদ্যুৎ ছিল না। অনেক জায়গায় ছাত্রছাত্রী ছিল না। আবার অনেক জায়গায় ক্লাস করার পরিবেশ ছিল না। এই ভিজিটের পর ভাবতে শুরু করলাম, কী করতে পারি অসহায় মানুষের জন্য। তখন থেকেই আসলে সমাজের জন্য ভালো কাজ করতে জোরালোভাবে শুরু করি।

যেখানে বিয়ের পর অধিকাংশ নারীর জীবন ঘরের চৌকাঠের বাইরে যায় কমই। সেখানে বিয়ের পরও সমাজসেবামূলক কাজে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। স্বামী তার কাজের বড় অনুপ্রেরণা। মাকেও পাশে পেয়েছেন সব সময়। পড়াশোনা, সংসার, সমাজকর্ম সবকিছুই সিলভী সফলভাবে সামলাচ্ছেন। কীভাবে সম্ভব জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত কাজ এবং পড়াশোনা দুটো ব্যালান্স করেছি সব সময়। কাজের সময় কাজ আর পড়ার সময় পড়া। তিনি মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। তরুণদের জন্য তার আহ্বান, তোমরা সময়টা ভালো কাজে ব্যবহার কর। া

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com