আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস আজ

নগরায়ণ ও শিল্পায়নে বদলে গেছে পরিবার কাঠামো

প্রকাশ: ১৫ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মে ২২ । ১২:২৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাজিদা ইসলাম পারুল

বাংলাদেশে গত দুই দশকে নগরায়ণ ও শিল্পায়নের ফলে অনেক মানুষ গ্রাম থেকে শহরে এসেছেন। উদাহরণস্বরূপ শিল্প ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে পুরুষের পাশাপাশি নারী কর্মীর সংখ্যা বৃদ্ধি অন্যতম। এদিকে গ্রামগুলোতে যে পরিবারগুলো ছিল, তার ধারণাও পাল্টে গেছে। শহরজীবনেও যৌথ পরিবারের তুলনায় একক পরিবারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গত দুই দশকে বাংলাদেশের সমাজে বিচ্ছিন্নতার হার বেড়েছে। কিন্তু সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মেলাতে সমাজ বা রাষ্ট্রের এখনও যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে মনে করছেন সমাজবিজ্ঞানীরা।

সমাজবিজ্ঞানের ভাষায়- মা-বাবা, ভাইবোন, চাচা-চাচি, দাদা-দাদি নিয়েই পরিবার। মানুষ যৌথ বা একান্নবর্তী পরিবারে বাস করার কারণেই হয়তো পরিবারের সংজ্ঞা এভাবে করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এখন সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। শুধু মা-বাবা আর সন্তান মিলেই হচ্ছে পরিবার। অথচ সমাজজীবনে বৃহত্তর বা যৌথ পরিবারের ভূমিকা ব্যাপক।

শনিবার এক অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, নগরায়ণের ফলে বাংলাদেশের পরিবার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন এসেছে। নগরায়ণের কারণে মানুষের মূল্যবোধেরও অনেক পরিবর্তন হচ্ছে।

জরিপমতে, গত এক দশকে তালাকের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। গ্রামাঞ্চলেও তালাক দেওয়ার হার শহরের চেয়ে বেশি। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই তালাক দেওয়ার তালিকায় বেশিরভাগই কিন্তু নারী। সুতরাং নারী-পুরুষের বৈবাহিক সম্পর্কের মধ্যেও বড় একটি পরিবর্তন আসছে।

পরিবার যেখানে সবাইকে নিয়ে ভাবতে শেখায়, বর্তমান সময়ে মানুষ সেখানে নিজের চাহিদাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। সেই গুরুত্ব দেওয়াকে কেন্দ্র করেই মানুষ প্রতিনিয়ত মূল্যবোধ হারাচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক রীতিনীতি পাল্টাচ্ছে। মানুষের মূল্যবোধ বদলাচ্ছে। বদলাচ্ছে সমাজের অনুশাসন, কাঠামো। মানুষের আর্থিক স্বাধীনতা যত বাড়ছে, জীবনযাপনের স্বাধীনতাও ততটাই ভোগ করতে চাইছে। পরিবারগুলো ভাঙছে। সমাজও তার আদল বদলাচ্ছে। জীবনযাপনের পুরোনো রীতিগুলোও পাল্টাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আজ রোববার সারাবিশ্বে পালিত হবে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস। প্রতিবছরের ১৫ মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস হিসেবে পালন করা হয়। দিবসটির এ বছরের প্রতিপাদ্য 'পরিবার এবং নগরায়ণ'।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. মোহিত কামাল বলেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা অসামাজিক হয়ে পড়ছে মূলত মা-বাবার কারণে। খেলার সুযোগ না থাকলে প্রতি সপ্তাহে ছুটির দিনে আত্মীয়-বন্ধুদের বাসায় বেড়াতে যাওয়া- এটা করলেও বাচ্চারা সামাজিকতা শিখবে। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুর বেড়ে ওঠার কালে পারিবারিক আবহের মধ্যে রাখতে হবে। তাহলে সে মানবিক হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com