চুয়াডাঙ্গা

চাকরি পেতে টাকা দিয়ে প্রতারিত

অভিযোগ তদন্তে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তিন সদস্যের কমিটি

প্রকাশ: ১৫ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৫ মে ২২ । ১২:৩৮ | প্রিন্ট সংস্করণ

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি

দেড় থেকে দুই লাখ করে টাকা নিয়ে একটি প্রকল্পে ২০৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন কাজও করানো হয়। কিন্তু বেতন দেওয়া হয়নি। এমন ঘটনা ঘটেছে চুয়াডাঙ্গায়। 'ভুয়া' প্রকল্পের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তদন্তে নেমেছে স্বাস্থ্য বিভাগের তিন সদস্যের একটি দল।

অভিযোগ উঠেছে, ঢাকার গোল্ডেন সার্ভিস লিমিটেডের আস্থা প্রকল্পে চাকরি নিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন চুয়াডাঙ্গার ২০৫ নারী-পুরুষ। তাদেরই একজন জীবননগরের শাপলাকলিপাড়ার রেজাউল হোসেনের স্ত্রী মালা খাতুন। তার স্বামীর মোটরসাইকেল বিক্রি করে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে দুই লাখ টাকা দেন উথলী গ্রামের জহুরুল ইসলামের কাছে। মালার স্বপ্ন ছিল চাকরি নিয়ে সংসারে সচ্ছলতা আনবেন। কিন্তু তার স্বপ্ন অধরা। কারণ আস্থা প্রকল্পের মাধ্যমে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আয়া পদে চাকরি নিয়ে ৬ মাস কাজ করেও বেতন পাননি।

মালা খাতুন বলেন, ঘটনাটি সংবাদিকদের না জানাতে তাকে সতর্ক করেছেন প্রতারকরা। জানালে জামানতের ২ লাখ টাকা আর ফেরত দেওয়া হবে না।

অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন জানান, তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন, এই ঘটনায় জড়িত না তিনি। ভুক্তভোগীরা কোথাও অভিযোগ দিয়েছেন কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'নিয়োগের সময় লিখিত নেওয়া হয়েছে যে বেতন-ভাতা দিতে দেরি হলেও কোনো অভিযোগ দেওয়া যাবে না।' আপনি জড়িত না তাহলে এসব জানলেন কীভাবে- এর জবাবে দেলোয়ার বলেন, 'যেহেতু সিভিল সার্জন কার্যালয়ে কর্মরত, তাই নিয়োগের বিষয়টি জানতাম।'

জানা গেছে, আস্থা প্রকল্পে নিয়োগ পাওয়া ৪৩ জন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে কাজ করছেন। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ১২৩, আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১৯ এবং দামুড়হুদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০ জন প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

২০২১ সালে তাদের নিয়োগের জন্য আস্থা প্রকল্পের পরিচালক জাহিদ হাসান সাবেক সিভিল সার্জন এ এস এম মারুফ হাসানকে একটি চিঠি দেন। মন্ত্রণালয়ের অনুমতির পর একই বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর মাসে সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে ২০৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়। জামানতের নামে তাদের টাকা হাতিয়ে নেন চুয়াডাঙ্গার সাবেক সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেলোয়ার হোসেন, রোকেয়া খাতুন, নূর আলম, জীবননগর

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক দানেশ, উথলী গ্রামের জহুরুল ইসলাম, মনোহরপুর গ্রামের সাগর হোসেন, তেলটুপি গ্রামের মো. খায়রুলসহ অন্যরা।

অ্যাম্বুলেন্সের চালক দানেজ মণ্ডল টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার ভাষ্য, তার ভাই রাজ হোসেন ও স্ত্রী লাবণী খাতুনও এই প্রকল্পে নিয়োগ পান; কিন্তু কোনো টাকা লাগেনি।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, যেহেতু সিভিল সার্জনের মাধ্যমে সদর হাসপাতাল বা জেলার অন্যসব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাদের যোগদান সম্পন্ন হয়, তাই অনেকেই এটাকে ভুয়া ভাবতে পারেননি।

এ এস এম মারুফ হাসান বর্তমানে মাগুরা সিভিল কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, 'কে বা কারা তাদের নিয়োগ দিয়েছেন, তদন্ত কমিটি বলতে পারবে। এর সঙ্গে আমি জড়িত নই।' তবে আস্থা প্রকল্পের পরিচালকসহ জড়িত অন্যরা তদন্তের খবর পেয়ে গা-ঢাকা দেওয়ায় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সেলিমা আখতারের দাবি, আস্থা প্রকল্প সম্পর্কে কিছু জানেন না। এই প্রকল্পের নিয়োগ দেওয়া কর্মীরা বেতন না পাওয়ায় তাদের কাজ করতে নিষেধ করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন সাজ্জাৎ হাসান জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগের পরিচালক ডা. মনজুরুল মুরশিদের নেতৃত্বে তিন সদস্যের কমিটি গত বুধবার দুপুর থেকে তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত কমিটির অন্য দু'জন হলেন যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক ও খুলনা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এম এম জাহাতাব হোসেন।

তদন্ত কমিটির প্রধান ডা. মনজুরুল মুরশিদ সাংবাদিকদের বলেন, 'ভুক্তভোগী ও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের বক্তব্য নিয়েছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করেছি। পর্যালোচনা করে দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরি করে সংশ্নিষ্ট দপ্তরে পাঠাব।'

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৯১১০৩০৫৫৭, +৮৮০১৯১৫৬০৮৮১২ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com