জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগীদের দুষছেন পি কে হালদার

প্রকাশ: ১৫ মে ২২ । ২২:০৭ | আপডেট: ১৫ মে ২২ । ২২:১৩

শুভজিৎ পুততুন্ড, কলকাতা

ভারতে গ্রেপ্তার হওয়া এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারকে (পি কে হালদার) তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে দেশটির এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টররেট (ইডি)। রোববার ছিল রিমান্ডের প্রথম দিন। 

প্রথম দিনের জিজ্ঞাসাবাদে পি কে হালদার সহযোগীদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। তার দাবি, সহযোগীরা তাকে ভুল পথে পরিচালিত করেছেন।

এ ছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ‘ব্যবহৃত হয়েছেন’ দাবি করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইডির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।  

ইডি সূত্র জানায়, পি কে হালদারকে গ্রেপ্তারের আগেও ২৪ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর ২ ঘণ্টা ব্যবধানে আবারও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েন তিনি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে তিনি দাবি করেন, তাকে ব্যবহার করা হয়েছে এবং এসব কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি সহযোগীদের দায়ী করেন। 

এদিন আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের সময়  বার বার উঠে এসেছে পিকে হালদারের আইনি এবং আর্থিক পরামর্শদাতা সুকুমার মৃধার নাম। মূলত সুকুমার মৃধার পরামর্শেই হালদারের মাধ্যমে দুই ভাই স্বপন মিত্র এবং উত্তম মিত্র ভারতে টাকা পাচার করেছেন বলে অভিযোগ। পাচার করা অর্থ সুকুমার মৃধার তত্ত্বাবধানেই বিনিয়োগ করা হয় ভারতের কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা , দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বর্ধমান, মুম্বাই এবং দিল্লিতে। শনিবার আসামিদের সঙ্গে নিয়ে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও বর্ধমানে পিকে হালদারের ছড়িয়ে থাকা সম্পত্তির শনাক্তে অভিযান চালালেও সব সম্পত্তির হদিস দিতে পারেনি ছয় অভিযুক্তের কেউই। 

ইডি সূত্র মনে করছে, সব সম্পত্তির হদিস পেতে সুকুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি বা সুকুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করে যেসব তথ্য বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদকে) পেয়েছে তা দ্রুততম সময়ে ইডির হাতে আসা জরুরি । তাই পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করতে দফায় দফায় নিজেদের মধ্যে বৈঠকে বসেন ইডির কর্মকর্তারা। পরে রোববার দুপুর ৩টার পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ বন্ধ করে রাখা হয় লকআপে। 

এর আগে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধে এবং নিরাপত্তা জনিত কারণে শনিবার গভীর রাতে ইডি সিবিআই স্পেশাল কোর্টে গ্রেপ্তার ছয় জনের বিরুদ্ধে রিমান্ডের আবেদন জানায়। পরে রোববার সকালে তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এরপর তাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়। 

শনিবার পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তার হন পি কে হালদার। একইদিন ইডি আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এরমধ্যে চারজন বাংলাদেশি। তারা হলেন- প্রীতিশ কুমার হালদার ও তার স্ত্রী (নাম জানা যায়নি), উত্তম মিত্র ও স্বপন মিত্র। এ ছাড়া প্রণব হালদার নামে এক ভারতীয়কে গ্রেপ্তার করে ইডি। প্রণব সেখানে সরকারি চাকরি করেন। পরে সঞ্জীব হালদার নামে একজনকে আটক করার কথা জানায় ইডি। সঞ্জীব বাংলাদেশ গ্রেপ্তার সুকুমার মৃধার জামাই। 

ইডির অভিযানে পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ২০টি বাড়িসহ পি কে হালদারের বিপুল সম্পত্তির খোঁজ পাওয়া গেছে। বাড়িগুলো থেকে জমির দলিলসহ গুরুত্বপূর্ণ অনেক নথি জব্দ করা হয়েছে।

ইডির একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পি কে হালদার ভারতে শিবশঙ্কর হালদার নাম ধারণ করেছিলেন। এই নামে তিনি পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেশন কার্ড করে নেন। এমনকি ভারতীয় ভোটার কার্ড, প্যান ও আধার কার্ডের মতো বিভিন্ন সরকারি পরিচয় জালিয়াতি করে তিনি নিজেকে শিবশঙ্কর হালদার বানিয়ে নেন। 

প্রসঙ্গত, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে প্রায় তিন হাজার ৬০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বেশকিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে এই অর্থপাচার করেছিলেন তিনি। তাকে গ্রেপ্তার করতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল পুলিশ অর্গানাইজেশন (ইন্টারপোল)।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com