এলাকায় নিয়মিত মহড়া দেওয়া হাবীবুল্লাহ পুলিশের খাতায় পলাতক

প্রকাশ: ১৬ মে ২২ । ০১:১২ | আপডেট: ১৬ মে ২২ । ০১:১২

গাজীপুর প্রতিনিধি

কিশোর গ্যাং নেতা হাবীবুল্লাহ

গাজীপুর মহানগরের কুনিয়াপাচর এলাকায় মাদক বিক্রি, আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদা আদায়ের জন্য ১৫-২০ জন তরুণকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী কিশোর গ্যাং। দুর্ধর্ষ সেই গ্যাংয়ের নেতা হাবীবুল্লাহ ও তার ভাই আবু সাঈদ হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন ধারার অন্তত ৮টি মামলার আসামি। হাবীবুল্লাহ বাহিনীর অপকর্মের প্রতিবাদ করলেই তার উপর নেমে আসে অত্যাচার-নির্যাতন।

হাবীবুল্লাহর রোষানল থেকে রক্ষা পায়নি নবম শ্রেণির স্কুলছাত্র শাকিল নূর আলমও। মাদক বিক্রিতে বাঁধা দেওয়ায় গত বছরের ১২ এপ্রিল রাতে স্থানীয় তালেব মার্কেটের সামনে ডেকে নিয়ে শাকিলকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়। কিন্তু শাকিল হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু সাঈদ এবং দুই নম্বর আসামি হাবীবুল্লাহ ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে চালিয়ে যাচ্ছেন মাদকের রমরমা ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারের মহড়া।এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক কারবারি ও মহড়া দিয়ে বেড়ালেও পুলিশের খাতায় হাবীবুল্লাহ পলাতক। আর তার ভয়ে আতঙ্কিত এলাকার সাধারণ মানুষ।

গত বৃহস্পতিবার রাতে তারগাছের বালুর মাঠ এলাকায় সশস্ত্র মহড়া দিয়ে হাবীবুল্লাহ ও তার গড়ে তোলা কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মনির হোসেন ও তার মামা সাইফুল ইসলামের উপর হামলা চালায়। মহানগরের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি প্রার্থী মনির হোসেনকে কুপিয়ে জখম করে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে চলে যায় তারা। এরপর স্থানীয়রা গুরুতর অবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। বর্তমানে তিনি উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সশস্ত্র মহড়া ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মনিরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করার পর শুক্রবার রাতে ওই এলাকার বাসিন্দা প্রয়াত আম্বার আলীর ছেলে সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে গাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় হাবীবুলল্লাহকে প্রধান আসামি করা হয়

গাছা থানার ওসি ইসমাইল হোসেন জানান, এ মামলার ৫ আসামিকে শনিবার ভোরে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আর ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা হাবীবুল্লাহকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ মিশনের অগ্রভাগে ছিল কিশোর গ্যাংয়ের নেতা হাবীবুল্লাহ। মাদক বিক্রিতে বাধা দেওয়ার কারণে মনিরকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে বলে রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান তার মামা ও মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম।

৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলালের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকার ইসমাইল কসাইর ছেলে ও মেধাবী ছাত্র শাকিল হত্যা মামলার দুই নম্বর আসামি হাবীবুল্লাহর লোকজন মামলা দায়ের করার একদিন পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য তৃতীয় একটি পক্ষ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল ও তার পরিবারকে এ ঘটনায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছে।

৩৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম দুলাল বলেন, বিষয়টি ভিন্নখাতে নেওয়ার জন্য রাজনৈতিক একটি প্রতিপক্ষ উঠেপড়ে লেগেছে। এ ঘটনায় তার ছেলে ও তাকে জড়ানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

হামলার নেতৃত্বে থাকা কিশোর গ্যাংয়ের নেতা হাবীবুল্লাহ এক সময় তার অফিস সহায়ক ছিল স্বীকার করে তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহর উশৃঙ্খল জীবনযাপন ও মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি জানার পর তাকে অফিস থেকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর হাবীবুল্লাহর সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ নেই।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com