দুদকের দেওয়া তথ্যেই গ্রেপ্তার পি কে হালদার: পররাষ্ট্র সচিব

প্রকাশ: ১৭ মে ২২ । ২১:২৪ | আপডেট: ১৮ মে ২২ । ০২:০৮

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

ভারতে গ্রেপ্তারের পর পি কে হালদার

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ভারতে গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার। 

মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রমকুমার দোরাইস্বামী। এরপর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান পররাষ্ট্র সচিব। 

পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, পি কে হালদারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার-সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। সে-সংক্রান্ত তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশন দিয়েছিল। সেই তথ্য অনুযায়ী ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে। এখন তাকে ফেরত আনার বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার ব্যাপার। সে বিষয়ে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলাপ হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন যে সব প্রক্রিয়া আছে সেগুলো সম্পন্ন করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। প্রক্রিয়া শেষ হলে তাঁকে ফেরত দেওয়া হবে। 

মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যে গভীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক আছে তার ভিত্তিতে বলা যায় যে, তাঁকে দেশে নিয়ে আসতে কোনো সমস্যা হবে না।’

পররাষ্ট্র সচিব আরও জানান, ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে চলতি বছরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরসহ অন্যান্য চলমান দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ছিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে যৌথ পরামর্শক কমিশনের বৈঠক। আগামী ৩০ মে দিল্লিতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

চার মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় চিঠি দেবে দুদক 

পি কে হালদারকে ফেরত আনা ও দেশটিতে পাচার করা অর্থ-সম্পদের খোঁজ করতে আজ বুধবার ইন্টারপোলসহ চারটি মন্ত্রণালয় ও সংস্থায় চিঠি পাঠাবে দুদক। দুদকের ৩৫ মামলার প্রধান আসামি পি কে হালদারকে দ্রুততম সময়ে ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় কমিশন।

দুদক সূত্র জানায়, এই মুহূর্তে পি কে হালদারকে ফেরত এনে আইনের কাছে সোপর্দ করা এবং তাঁর পাচার অর্থের খোঁজ করাই দুদকের প্রধান কাজ। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সহায়তা চাওয়া হচ্ছে। তাকে ও তার পাচার করা অর্থ ফেরত আনার সহায়তা চেয়ে দুদক বুধবার স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), ইন্টারপোলের ঢাকাস্থ ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) ডেস্কের মাধ্যমে ভারতের নয়াদিল্লির এনসিবি ডেস্কে চিঠি পাঠাবে।

দুদকের ভারপ্রাপ্ত সচিব সাঈদ মাহবুব খান সমকালকে বলেন, এখন কমিশনের সামনে দুটি প্রধান কাজ রয়েছে। একটি হলো পি কে হালদারকে ফেরত আনা, আরেকটি হলো ভারতে পাচার করা সম্পদের সব তথ্য সংগ্রহ করা। পরে ওইসব সম্পদের তথ্য-প্রমাণ উল্লেখ করে মামলার সম্পূরক চার্জশিট আদালতে পেশ করা হবে।

পি কে হালদারকে ফেরত আনতে প্রয়োজনে সরাসরি ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ডাইরেক্টরেট অব এনফোর্সমেন্ট (ইডি) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে কমিশন।

সূত্র জানায়, পি কে হালদারকে বাংলাদেশের যোগ্য কর্তৃপক্ষের হাতে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়ে দুদক গত রোববার এনসিবি ঢাকা ডেস্কের মাধ্যমে ভারতের নয়াদিল্লির ডেস্ক বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে। দুদকের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে তারা কবে কার্যকর ব্যবস্থা নেবে- সেটা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

দুদক জানায়, দুদকের চিঠিতে পি কে হালদারকে ফেরত আনার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নয়াদিল্লিতে ইন্টারপোল ডেস্কের সহায়তা চাওয়া হবে। বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার করে পশ্চিমবঙ্গসহ আর কোনো কোনো প্রদেশে পি কে হালদারের সম্পদ রয়েছে সেসব তথ্য-প্রমাণ খুঁজে বের করতে বিএফআইইউর সহায়তা চাওয়া হবে।



© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com