শেয়ার বাজার

টানা ছয় দিন পতন

গতকাল প্রধান সূচক হারাল ৯৩ পয়েন্ট

প্রকাশ: ১৯ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ১৯ মে ২২ । ০৯:১২ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

দেশের শেয়ারবাজারে টানা পতন হচ্ছে। প্রতিদিনই সব ধরনের কোম্পানির শেয়ার দর হারাচ্ছে। দরপতন ঠেকাতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। তবে ফল শূন্য। গতকাল বুধবারসহ ছয় দিন একাধারে পতন হয়েছে বাজারে।

গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে কেনাবেচা হওয়া ৩৮১ শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ৩১০টিই দর হারিয়েছে। দর বেড়েছে মাত্র ৪২টির। এতে প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ৯৩ পয়েন্ট হারিয়ে ৬৩০৪ পয়েন্টের নিচে নেমেছে। কেনাবেচা হয়েছে ৭৬৩ কোটি টাকার শেয়ার।

পতন রোধে শেয়ারদরের নিচের সার্কিট ব্রেকার ৫ শতাংশে বেঁধে রাখার পরও গত ছয় দিনে ৩৪৩ শেয়ার ও ফান্ড ১ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে। কমপক্ষে ৫ শতাংশ দর হারিয়েছে ১৯৬টি। এ দরপতনে ডিএসইএক্সের ৩৮৮ পয়েন্ট বা প্রায় ৬ শতাংশ পতন হয়েছে। গতকাল লেনদেনের মাঝে অন্তত ৮৩ শেয়ার সার্কিট ব্রেকারের সর্বনিম্ন দরে কেনাবেচা হয়, শেষ পর্যন্ত ওই দরে স্থির ছিল ২৬টি।

এতদিন শুধু ফোন করে শেয়ার বিক্রির লাগাম টেনে দরপতন ঠেকানোর চেষ্টা করে আসছিল বিএসইসি। এ চেষ্টায় ফল না পেয়ে অবণ্টিত লভ্যাংশ দিয়ে গড়া শেয়ারবাজার স্থিতিশীলকরণ তহবিল থেকে আইসিবিকে টাকা দেওয়া হচ্ছে শেয়ার কিনে পরিস্থিতি সামাল দিতে। মেয়াদ শেষে মেয়াদি আমানতের টাকা আইসিবির কাছে ফেরত চাওয়ায় আমানতকারীদের বুঝিয়ে নতুন মেয়াদে আমানত নবায়ন করিয়ে দিচ্ছে খোদ বিএসইসি। এমনকি ৫০০ কোটি টাকার বড় অঙ্কের আমানত আইসিবির কাছে রাখতে ডিএসইকেও চিঠি দিয়েছে। বিএসইসি চায়, সাধারণ বিনিয়োগকারীরা এসব তথ্য জেনে যাতে ভয়ে শেয়ার বিক্রির প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসেন।

বাজার-সংশ্নিষ্টরা জানান, এসবের কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। শেয়ার বিক্রির চাপ ক্রমে বাড়ছে। যতক্ষণ আইসিবিসহ কিছু প্রতিষ্ঠান শেয়ার কিনছে, ততক্ষণ দর ঊর্ধ্বমুখী বা পতন সহনীয় পর্যায়ে থাকছে। যখনই বিক্রি বন্ধ হচ্ছে, তখনই দ্রুত কমছে শেয়ারদর। তার প্রতিফলন সূচকে দৃশ্যমান হলে বিনিয়োগকারীরা আরও আতঙ্কিত হয়ে শেয়ার বিক্রির আদেশ বাড়াচ্ছেন।

মঙ্গলবার ব্যাপক তৎপরতায় বড় দরপতন ঠেকানোর পর গতকালও লেনদেনের শুরু থেকে একই প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিল। সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর প্রথম ৫ মিনিটে অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লে গতকালের তুলনায় ৪৩ পয়েন্ট বেড়ে ডিএসইএক্স সূচক ৬৪৪৭ পয়েন্টে উঠেছিল। এ ঊর্ধ্বমুখী ভাব লেনদেনের প্রথম সোয়া ঘণ্টা বজায় ছিল। এরপর দরপতন শুরু হলে ঠেকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বিএসইসি। সকালে শেয়ারদর ও সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকার সময় কিছু প্রতিষ্ঠান শেয়ার বিক্রি করলে দরপতনের সময় তাদের ওই পরিমাণ শেয়ার কিনতে বিএসইসি চাপ দিয়েছে বলে খবর মিলেছে। তাতেও কাজ হয়নি। দুপুর আড়াইটায় স্বাভাবিক লেনদেন শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত দরপতন অব্যাহত ছিল। এতে দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় ১৫৯ পয়েন্ট বা

মঙ্গলবারের তুলনায় ১১৫ পয়েন্ট হারিয়ে ৬২৮৭ পয়েন্ট পর্যন্ত নেমেছিল সূচকটি।

এ বিষয়ে কথা বলতে বিএসইসির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও তারা সাড়া দেননি। ব্রোকারেজ হাউস কর্মকর্তারা জানান, বিএসইসির চাপে শেয়ার কিনে তারাও লোকসানে পড়ছেন। সার্বিক অর্থনীতি চাপে থাকার কারণে মনস্তাত্ত্বিক ভীতি দরপতনের কারণ বলে মনে করেন তারা।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com