আজভস্টল প্ল্যান্টে পূর্ণাঙ্গ বিজয় ঘোষণা রাশিয়ার

প্রকাশ: ২১ মে ২২ । ০৮:৫০ | আপডেট: ২১ মে ২২ । ০৯:৫৫

সমকাল প্রতিবেদক

আজভস্টল প্ল্যান্ট

ইউক্রেনের বন্দরনগরী মারিওপোলের আজভস্টল প্ল্যান্টে দীর্ঘ লড়াই শেষে পূর্ণাঙ্গ বিজয় ঘোষণ করেছে রাশিয়া।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানায়।

মস্কোর কর্মকর্তারা বলছেন, আজভস্টল স্টিল প্ল্যান্টে লুকিয়ে থাকা সব সেনা আত্মসমর্পণ করেছেন।

প্রায় মাসখানেক ধরে ওই কারখানা এলাকায় সেনারা আটকে ছিল। তাদের কারণে বন্দরনগরীটির ওপর পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি মস্কো।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, সর্বশেষ ৫৩১ ইউক্রেনীয় সেনার আত্মসমর্পণের মাধ্যমে বন্দরনগর ও ইস্পাত কারখানা এখন ‘সম্পূর্ণ মুক্ত’।

শুক্রবারের এ সেনা অপসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে মাসব্যাপী ধ্বংসাত্মক লড়াইয়ের অবসান হলো।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ওই ইস্পাত কারখানার আন্ডারগ্রাউন্ড এখন রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।’

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছিলেন, সর্বশেষ যারা ওই প্ল্যান্টে থেকে গিয়েছিলেন তাদের আত্মসমর্পণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার তিনি বলেন, আজ আমাদের ছেলেরা সেনা কমান্ড থেকে স্পষ্ট বার্তা পেয়েছে, তা হলো— তারা বের হতে পারবে এবং জীবন রক্ষা করতে পারবে।

কয়েক সপ্তাহ ধরেই এ আজভস্টল কারখানা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল রুশ সেনারা।

আত্মসমর্পণ করা ইউক্রেনীয় সেনাদের ভাগ্যে কী আছে

মস্কোর কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে ওই ইস্পাত কারখানা থেকে সব মিলিয়ে দুই হাজার ৪৩৯ জন ইউক্রেনীয় সেনা আত্মসমর্পণ করেছেন।

সর্বশেষ যারা আত্মসমর্পণ করেছেন তাদের কোথায় নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কিছুই জানায়নি মস্কো। তবে আগে যারা আত্মসমর্পণ করেছিলেন তাদের রুশ নিয়ন্ত্রিত এলাকায় নেওয়া হয়েছিল।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের আশা, বন্দিবিনিময়ের মাধ্যমে সেনাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।

কিন্তু এ বিষয়ে এখনও কিছুই জানায়নি মস্কো।

যদিও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছিলেন, আত্মসমর্পণ করা সেনাদের সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আচরণ করা হবে’।

কিন্তু রাশিয়ার হেফাজতে থাকা অবস্থায় ওই সেনাদের কী হবে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

তবে মঙ্গলবার রাশিয়ার এক আইনপ্রণেতা বলেছিলেন, আজভ রেজিমেন্টের যোদ্ধারা ‘নাৎসী সন্ত্রাসী’। ইউক্রেনের সঙ্গে বন্দিবিনিময়ের কোনো পরিকল্পনার অংশ তারা হতে পারবে না।

২০১৪ সালে স্বেচ্ছাসেবী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে আজভ রেজিমেন্টের যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু বর্তমানে এটি ন্যাশনাল গার্ড ইউনিট। 

এদিকে এ আজভ রেজিমেন্টকে ‘সন্ত্রাসীদের সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণার জন্য রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় দেশটির সুপ্রিম কোর্টকে অনুরোধ জানিয়েছেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। তখন থেকেই মারিওপোলে ব্যাপক লড়াই শুরু হয়। শহরটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার এতদিনের প্রচেষ্টা অবশেষে সাফল্যের মুখ দেখল।

মারিওপোল আজভ সাগরের এমন এক জায়গায় অবস্থিত যা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ক্রিমিয়া উপদ্বীপে রাশিয়ান বাহিনী এবং পূর্ব ইউক্রেনে মস্কো-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী সেনাদের বিভক্ত করে রেখেছে। এটি দখলের মাধ্যমে মস্কো ক্রিমিয়ার সঙ্গে স্থলপথে সরাসরি সংযোগ তৈরি করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com