এই গরমে খাদ্যাভ্যাস

প্রকাশ: ২১ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২১ মে ২২ । ১২:৫৩ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডা. নাফিসা আবেদীন

ভ্যাপসা গরমে টিকে থাকা দায়। তার ওপর আবার বৃষ্টিজনিত আর্দ্রতা। গরমের দিনে আমাদের খাবার গ্রহণের ব্যাপারে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আমাদের পরিস্কার ধারণা নিতে হবে যে, কোনো খাবার গরমে খাদ্যতালিকা থেকে কমিয়ে দিতে হবে অথবা কোনো খাবার একেবারেই খাদ্যতালিকা থেকে বাদ দিতে হবে। মানুষের অসচেতনতার কারণে খাদ্য সম্পর্কিত দীর্ঘমেয়াদি যেসব রোগ দেখা দেয়, তা হলো- (১) শরীরের অতিরিক্ত ওজন, (২) ডায়াবেটিস, (৩) ইনসুলিন রেসিসট্যান্স, (৪) উচ্চ রক্তচাপ, (৫) হৃদরোগ।

প্রচণ্ড গরমে শরীরের বিভিন্ন পরিবর্তন দেখা যায়। যেমন- ১. দেহে সোডিয়াম কমে যাওয়া, পটাশিয়াম কমে যাওয়া, বমি হওয়া, খাদ্য হজম না হওয়া ও পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া, আমাশয়, জ্বর। এই গরমে যদি উচ্চ ক্যালরি পরিহার করে নিম্ন ক্যালরির খাদ্য গ্রহণ করেন, তবে আপনার ওজন কমবে। নিম্ন ক্যালরি খাবারের মধ্যে রয়েছে ফল (যেমন- তরমুজ, বাঙ্গি, জাম, জামরুল, ডাব ইত্যাদি) ও সবজি (যেমন- লাউ, পেঁপে, ঝিঙ্গা, কুমড়া ইত্যাদি)। ২. গরমে খাদ্যতালিকায় তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক হোন। গরমে তেলের ব্যবহার একেবারেই কমিয়ে দিন। কেননা ১ গ্রাম তেল শরীরের ভেতর ৯ কিলোক্যালরি তাপ উৎপন্ন করে। উচ্চ তাপমাত্রায় ও আর্দ্রতায় শরীরের তাপ বাইরে বেরোতে পারে না। ফলে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ে। এই গরমে বয়স্ক ও অতিরিক্ত ওজন ব্যক্তিদের হিট স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ে। ইদানীং 'কোলেস্টেরল ফ্রি' তেলের প্রচারণা বেড়েছে।

এ ক্ষেত্রে আপনার নিজস্ব বুদ্ধি যাচাই করুন। উদ্ভিদ উৎস থেকে আসা তেলে প্রকৃতিগতভাবেই কোনো কোলেস্টেরল থাকে না। এটি তেলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য। বিশেষভাবে উদ্ভিজ্জ তেলকে কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মাধ্যমে কোলেস্টেরল ফ্রি করা হয়নি। কোলেস্টেরল ফ্রি তেলের প্রচারণায় সাধারণ মানুষ মনে করে তেল খেলে কোনো ক্ষতি নেই; কিন্তু এ কথা পরিস্কারভাবে বুঝতে হবে। ১ চা চামচ (৫ এম এল) তেল = ৪৫ ক্যালরি, ১ চা চামচ (৫ এম এল) ঘি = ৪৫ ক্যালরি, ১ চা চামচ (৫ এম এল) সরিষার তেল = ৪৫ ক্যালরি, ১ চা-চামচ (৫ এম এল) সয়াবিন তেল = ৪৫ ক্যালরি, কোলেস্টেরল ফ্রি হোক বা না হোক ৫ এম এল তেল বা ঘির ক্যালরি মূল্য কিন্তু একই। অতিরিক্ত তেল গ্রহণের ফলে আপনার শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাবে, যা আপনার হৃদরোগের ঝুঁঁকি বাড়াবে। ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁঁকি তো রয়েছেই। তাই নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি কোনোভাবেই যে তেলই হোক না কেন, তা গ্রহণ করা যাবে না। প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য ২০ গ্রাম ভেজিটেবল ফ্যাট, গর্ভবতী মায়ের জন্য ৩০ গ্রাম ভেজিটেবল ফ্যাট, দুগ্ধদানকারী মায়ের জন্য ৪৫ গ্রাম ভেজিটেবল ফ্যাট প্রয়োজন।

এই গরমে এখনই নিয়ন্ত্রণ করুন : ১. অতিরিক্ত তেল গ্রহণ; ২. ডুবো তেলে ভাজা খাবার; ৩. ঘি, মাখন, পনির, মেয়নেজ, ফাস্টফুড; ৪. কোল্ড ড্রিংকস; ৫. পোলাও, কাচ্চি, গরু ও খাসির মাংস; ৬. ভুনা খাবার; ৭. অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার; ৮. অতিরিক্ত গরম ও ঠান্ডা খাবার।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com