কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড কুষ্টিয়ার বহু গ্রাম, বিদ্যুৎ সংযোগও নেই

প্রকাশ: ২১ মে ২২ । ১৩:০৭ | আপডেট: ২১ মে ২২ । ১৩:০৭

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

মাত্র ১৫ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে কুষ্টিয়ার বেশ কয়েকটি গ্রাম। উড়ে গেছে শত শত ঘরের টিনের চাল; উপড়ে গেছে অনেক গাছ। গাছের ডাল পড়ে খুঁটি ভেঙে ও তার ছিঁড়ে অনেক স্থানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

শনিবার ভোর ৫টার দিকে ঝড় শুরু হয়। 

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঝড়ের তাণ্ডবে শত শত গাছপালা ভেঙে রাস্তায় পড়ে আছে। শত শত হেক্টর জমির আম, কাঁঠাল, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। 

গাছ ভেঙে রেল লাইনের ওপর পড়ায় পোড়াদহ-খুলনা রুটে প্রায় ৫ ঘন্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। একই কারণে প্রায় ৭ ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সড়কে।

মিরপুর উপজেলার সদরপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান বলেন, তার কলা ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বেশির ভাগ গাছ উপড়ে গেছে। আমার প্রায় হাজার হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আমলা এলাকার আম বাগানের মালিক আব্দুল কাদের বলেন, বাগানের সব আম ঝড়ে পড়ে গেছে। আর এক সপ্তাহ পর থেকে আম পাড়া শুরু হতো। কিন্তু ঝড়ের তাণ্ডবে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে গেল।

কুষ্টিয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সুশান্ত কুমার প্রামাণিক বলেন, ঝড়ে আম, লিচুসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিক ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি। তবে কৃষি বিভাগের লোকজন মাঠে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ে কাজ করছে।

কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জানে আলম বলেন, কিছু কিছু জায়গায় এলাকাবাসীর সহায়তায় আবার কোথাও কোথাও ফায়ার সার্ভিসের টিম গাছগুলো সড়ক থেকে সরিয়ে নিচ্ছে।

কুষ্টিয়া পল্লী-বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (টেকনিক্যাল) মো. মোকসেমুল হাকিম বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে পুরো জেলা লণ্ডভণ্ড। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে এবং গাছের ডাল পড়ে তার ছিঁড়ে অনেক স্থানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে আছে। আমরা মেরামতের কাজ করছি। 

মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন, ঝড়ে সব থেকে বেশি ক্ষতি হয়েছে মিরপুরের তিনটি ইউনিয়ন। এর মধ্যে সদরপুর, আমলাসহ কয়েকটি ইউনিয়নে হাজার হাজার গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। বাড়ি-ঘর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। গ্রামের ভেতরকার অনেক সড়কে হগাছ পড়ে চলাচল বন্ধ হয়ে আছে। সেগুলো সরানোর কাজ চলছে। 

কুমারখালী আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ মামুন আর রশিদ বলেন, শনিবার সকালে ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। 



© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com