'ভেজা' বাগানে পিছলে গেল বসুন্ধরা

প্রকাশ: ২২ মে ২২ । ০৯:৫০ | আপডেট: ২২ মে ২২ । ০৯:৫০

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়েও জাল অক্ষত রাখতে পারেননি কিংস গোলরক্ষক জিকো-

ম্যাচের শুরু আর শেষের চিত্রটা একই। কলকাতার আকাশ থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরেছে। আকাশের মতো মন খারাপ সল্টলেকের গ্যালারিতে উপস্থিত বসুন্ধরা কিংসের সমর্থকদের। বৃষ্টিস্নাত রাতে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে উৎসব এটিকে মোহনবাগানের। সবুজ ঘাসের ওপর শুয়ে থাকা খালেদ শাফেইয়ে হতাশায় মুখ লুকানোর চেষ্টা করছেন। ডাগ আউটে থাকা বিশ্বনাথ ঘোষকেও যেন খুঁজে বের করেছে ক্যামেরাগুলো। কারণ এএফসি কাপে বাগানের মাঠে ফুল হয়ে ফোটার বদলে এ দুই ডিফেন্ডারের ভুলেই যে এলোমেলো সব। তাতেই ইন্টারজোনাল প্লে-অফে খেলার স্বপ্নে ধাক্কা বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়নদের। শুধু ধাক্কা বললে ভুল হবে, শনিবার মোহনবাগানের কাছে ৪-০ গোলের পরাজয়ে কিংসের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ঘণ্টাও প্রায় বেজে উঠেছে। মঙ্গলবার গ্রুপ 'ডি'র প্রতিপক্ষ গোকুলাম কেরালা, যারা কিনা এই মোহনবাগানকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে। মাজিয়া স্পোর্টসকে ১-০ গোলে হারানো বসুন্ধরা ও মোহনবাগানের পয়েন্ট সমান দুই ম্যাচে তিন। তবে গোল পার্থক্যে পিছিয়ে থাকায় তিনে অস্কার ব্রুজোনের দল।

কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানো শুরু হলে ম্যাচের এগারো মিনিট পর খেলা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেন রেফারিরা। চল্লিশ মিনিট পর মাঠে খেলা গড়ানোর সঙ্গে কয়েক মিনিটের মধ্যে দুটি আক্রমণ করে রবসন রবিনহোরা ইঙ্গিত দেন কাদা-পানির মাঠে তাঁদের থামানো কঠিন। ১৮ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে রবসনের ফ্রি কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসার তিনি মিনিট পর সেই পোস্ট আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ায়। চলন্ত বলে রিমন হোসেনের বাঁ পায়ের মাপা ক্রস পোস্টে না লাগলে থামানোর কোনো সাধ্য ছিল না মোহনবাগান গোলরক্ষক আর্শ আনোয়ারের। পরপর দু'বার হতাশায় ডোবার পর ম্যাচের বড় ভুলটি করেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ ঘোষ। ২৫ মিনিটে মোহনবাগানের লিস্টনকে গোলটি উপহারই দিয়েছেন তিনি। সতীর্থের বাড়ানো বল ধরে কিংসের সীমানায় ঢুকে পড়লেও নিয়ন্ত্রণ হারান লিস্টন। বক্সের মধ্যে থাকা বিশ্বনাথ বাঁ পায়ে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে পিছলে পড়ে যান। ডান পায়ের আলতো টোকায় গোলরক্ষক জিকোকে পরাভূত করেন লিস্টন।

বিশ্বনাথের ভুলে পিছিয়ে পড়ার ধাক্কা সামলাতে পারেনি কিংস। ৩৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে সেই লিস্টন গোল করলে ম্যাচ ফেরার আশাও প্রায় শেষ হয়ে যায় বসুন্ধরার। তবুও আরও ৪৫ মিনিট বাকি ছিল বলে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় ছিলেন কিংস সমর্থকরা। কিন্তু ৫৩ মিনিটে খালেদ শাফেইয়ে হয়ে গেলেন বিশ্বনাথ! নিজেদের অর্ধে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে তুলে দেন মোহনবাগানের মনভির সিংয়ের পায়ে। পিছলে পড়ে যাওয়া এ ডিফেন্ডাররা ওঠার আগেই বল ক্রস করেন মনভির। বক্সের মধ্যে অরক্ষিত অবস্থায় থাকা লিস্টন ঠান্ডা মাথায় কিংসের জাল কাঁপানোর সঙ্গে নিজের হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন। ৭৭ মিনিটে উইলিয়ামসনের গোলটি বসুন্ধরার রক্ষণের দুর্বলতাকে আবারও ফুটিয়ে তোলে। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়রাও পারেননি নিজেদের মেলে ধরতে। বদলি দুই ফরোয়ার্ড মতিন মিয়া আর এলিটা কিংসলে গোলরক্ষককে একা পেয়েও জালের ঠিকানা খুঁজে পাননি। কিংসও পারেনি সান্ত্বনার কোনো গোল করতে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com