আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ঋণ বাড়ানোর তাগিদ

প্রকাশ: ২২ মে ২২ । ২২:৩৪ | আপডেট: ২২ মে ২২ । ২২:৩৪

সমকাল প্রতিবেদক

আমদানি বিকল্প ফসল তথা ডাল, তেলবীজ ও মসলা জাতীয় ফসল এবং ভুট্টা চাষে কৃষক পর্যায়ে ৪ শতাংশ সুদের ঋণ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে তাগিদ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে কম সুদের এ ঋণের বিষয়ে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরির অনুরোধ জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আমদানি ব্যয় কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে রোববার এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আমদানি ব্যয় বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কারণে বৈদেশিক মুদ্রার খরচ অনেক বেড়েছে। যে কারণে গত আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এখন ৪২ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রোববারের সার্কুলারে বলা হয়েছে, ডাল, তেলবীজ, মসলা জাতীয় ফসল ও ভুট্টা আমদানিতে প্রতি অর্থবছর প্রচুর পরিমাণে বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক সময়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে এসব পণ্য আমদানি সম্ভব হয় না। আমদানি ব্যয় কমানো এবং সঠিক সময়ে পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য ২০০৬ সাল থেকে এসব ফসলে সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় কম সুদে ঋণ বিতরণের নির্দেশনা রয়েছে। ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে এসব খাতে ঋণের ওপর কৃষক পর্যায়ে সুদহার ৪ শতাংশে পুনর্নির্ধারণ করা হয়। যদিও ব্যাংকগুলো প্রকৃত সুদ পায় ৮ শতাংশ।

সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় ডাল জাতীয় ফসল হিসেবে মুগ, মসুর, খেসারি, ছোলা, মটর, মাষকলাই, অড়হর, সরিষা, তিল, তিসি, চীনাবাদাম, সূর্যমুখী ও সয়াবিন চাষে ঋণ দিতে পারে ব্যাংকগুলো। আর মসলা জাতীয় ফসলের আওতায় আদা, রসুন, পেঁয়াজ, মরিচ, হলুদ ও জিরা চাষে ঋণ দেওয়া যায়। এ ছাড়া ভুট্টা চাষেও কম সুদের এ ঋণ দিতে পারে ব্যাংক।

এসব খাতে ঋণ বাড়ানোর জন্য রোববারের সার্কুলারে বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যে এলাকায় যে ধরনের আমদানি বিকল্প ফসলের উৎপাদন বেশি হয়, সেখানকার ব্যাংক শাখার মাধ্যমে সংশ্নিষ্ট ফসল চাষে ঋণ বিতরণ জোরদার করতে হবে। গ্রাহকদের সচেতনতার জন্য শাখার বাইরে দৃষ্টিগোচর স্থানে আবশ্যিকভাবে নির্দিষ্ট ফসলের নাম উল্লেখ করে 'এই শাখায় আমদানি বিকল্প ফসল চাষে ৪ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করা হয়' লেখা ও প্রয়োজনীয় তথ্যসহ ব্যানার সাঁটাতে হবে। ভর্তুকি সুদে ঋণে উৎসাহিত করতে শাখা থেকে বিশেষ ক্যাম্পেইন চালাতে হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে চিঠি 

কম সুদে ঋণের এ নির্দেশনা বেশ আগ থেকে থাকলেও ব্যাংকগুলো অনেক ক্ষেত্রে অনীহা দেখায়। অনেক ক্ষেত্রে না জানার কারণে এ ঋণের জন্য আসেন না কৃষকরা। এ রকম প্রেক্ষাপটে কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তাদের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা যেন এই ঋণের বিষয়ে কৃষকদের বলেন, সে বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com