দিনাজপুরে হত্যা মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, চারজনের যাবজ্জীবন

প্রকাশ: ২৩ মে ২২ । ১৯:০৮ | আপডেট: ২৩ মে ২২ । ১৯:০৮

দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে একটি হত্যার ঘটনায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ৪ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার বিকেলে দিনাজপুর বিজ্ঞ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-(২) এর  বিচারক মেহেদী হাসান মন্ডল এই রায় প্রদান করেন।

আদালতের সহকারী পিপি মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলায় বাদীসহ ১৬ জন সাক্ষ্য প্রদান করেছেন। আসামিদের মধ্যে একজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন। রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আমরা অত্যন্ত খুশি।

তিনি আরও বলেন, জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে জয়নগর বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হুমায়ুনকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করলে পুলিশ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।

আসামিরা হলেন- ফুলবাড়ীর গরপিংলাই গ্রামের তাসের উদ্দিনের ছেলে শরীফুল ইসলাম (৪৩), আজাহার আলীর ছেলে রেজাউল করিম বাবু (৪৮) ও আজিজ সিদ্দীকির ছেলে আতোয়ার ওরফে আতর আলীকে (৫১) মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

এছাড়া অপর আসামি আতোয়ার আলীর ছেলে গোলাম রব্বানী (৪৪) ও একরামুল হক (৫১), মৃত সিরাজ উদ্দিনের ছেলে সাঈদ আলী (৫৮) ও ইদ্রীস আলীর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড (৪৪) ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ফুলবাড়ী উপজেলার গরপিংলাই গ্রামের সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে তার স্ত্রী একই এলাকার আজাহার আলীর মেয়ে নারগিস নারী নির্যাতনের মামলা করেন। ২০০৯ সালের ২ আগস্ট ওই মামলার রায়ে সাইফুল ইসলামকে ১ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। এই মামলা চলাকালে সাইফুল ইসলাম তার জমিজমা বড় ভাই শহীদুল ইসলামের ছেলে তোহিউল ইসলাম বাবু ও হুমায়ুন কবীরের নামে লিখে দেয়।

মামলার রায়ের ১৮ দিন পর সন্ধ্যায় হুমায়ুন কবীর তার মুদি দোকান থেকে বের হয়ে জয়নগর বাজারে যাওয়ার উদ্দেমে রওনা দেন। এরপরে সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরের দিন এমআইবি নামক ইটভাটার সামনে ইটের স্তূপের নিচে ফেলে রাখা হুমায়ুন কবিরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হত্যা করা রক্তমাখা মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহতের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে খবর পেলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের দিনই নিহতের বড় ভাই তৌহিউল ইসলাম বাদী হয়ে ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্রে বলা হয়, ওই জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরেই হুমায়ুন কবীরকে হত্যা করেন আসামিরা।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com