এডিপি বাস্তবায়নে সবচেয়ে পিছিয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ

প্রকাশ: ২৪ মে ২২ । ০৯:২৯ | আপডেট: ২৪ মে ২২ । ০৯:২৯

আবু হেনা মুহিব

প্রতীকী ছবি

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে গতি বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে বাস্তবায়নের হার ৫৫ দশমিক ১৮ শতাংশ। এ হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এ রকম স্বস্তিদায়ক পরিস্থিতিতেও স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবস্থার উন্নতি হয়নি। বড় বরাদ্দের ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নে এ বিভাগ সবচেয়ে পিছিয়ে। এ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের গড় বাস্তবায়নের তুলনায়ও তা অনেক কম।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১০ মাসে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ খরচ করতে পেরেছে তিন হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। বছরের মোট বরাদ্দের ছয় হাজার ১৯ কোটি টাকা অব্যয়িত আছে। চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে মোট বরাদ্দ ৯ হাজার ৯৮৯ কোটি টাকা। ৪৭টি প্রকল্প রয়েছে এ খাতে।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা খাতকে বরাদ্দের ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সে অর্থ অব্যয়িত থাকাকে হতাশাজনক বলছেন বিশ্নেষকরা। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান সমকালকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বেড়েছে। সরকারের এ সেবা গরিব মানুষেরই বেশি প্রয়োজন। গুরুত্ব বিবেচনা থেকে সরকার অন্য খাতে চাহিদামতো অর্থ না দিয়ে এ খাতে বরাদ্দ দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছে। তবে বাস্তবায়নের এ হতাশাজনক চিত্র কেন হচ্ছে- তা গুরুত্ব দিয়ে খুঁজে বের করা দরকার।

তিনি বলেন, সাধারণত একটা প্রবণতা আছে বিভিন্ন প্রকল্পের পরিচালক করা হয় চিকিৎসকদের। তারা ভালো চিকিৎসা বোঝেন কিন্তু ভালো ব্যবস্থাপনা বোঝেন না। সেখানেও কিছু দুর্বলতা থাকতে পারে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে। কারণ সরকারি রবাদ্দ সত্ত্বেও চিকিৎসা বাবদ ৭০ শতাংশ খরচ হয় ব্যক্তির নিজের পকেট থেকে। সরকারের মাত্র ৩০ শতাংশ। এ হার দক্ষিণ এশিয়ার সর্বনিম্ন। এর মধ্যেও যদি সরকারি বরাদ্দ অব্যয়িত থাকে, সেটা অবশ্যই বড় ধরনের দুর্বলতা।

আইএমইডির তথ্য বলছে, গত ১০ মাসে বৃহৎ বরাদ্দপ্রাপ্ত ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নের গড় হার ৫৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বাস্তবায়ন মাত্র ৩৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বরাদ্দ প্রাপ্তির দিক থেকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অবস্থান ষষ্ঠ। অন্যদিকে বরাদ্দ তালিকায় শীর্ষে থাকা স্থানীয় সরকার বিভাগের বাস্তবায়নের হারও ৬০ দশমিক ৬৪ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়নের হার শিল্প মন্ত্রণালয়ের। ১০ মাসে বরাদ্দ করা অর্থের প্রায় ৮৩ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে পেরেছে এ মন্ত্রণালয়।

প্রবণতা বিশ্নেষণে দেখা যায়, বাস্তবায়নের দিক থেকে গত কয়েক বছর ধরেই পিছিয়ে থাকছে স্বাস্থ্য বিভাগ। গত ২০২০-২১ অর্থবছর বেশি বরাদ্দ পাওয়া ১৫ মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে পিছিয়ে ছিল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। বাস্তবায়ন ছিল ৫৮ শতাংশের কম।

তারপরও আগামী অর্থবছরের এডিপিতে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ পাঁচ হাজার ৮৬২ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। গত সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (এনইসি) বৈঠকে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৫ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা করা হয়।

গত ১০ মাসে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো মোট এক লাখ ১৯ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা ব্যয় করতে পেরেছে। সংশোধনের পর চলতি অর্থবছরের এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে দুই লাখ ১৭ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। সার্বিক এ বাস্তবায়ন চিত্রের বাইরে একক মাসের হিসাবেও এপ্রিলের বাস্তবায়ন অগ্রগতি সন্তোষজনক। যা প্রায় ১০ শতাংশ। মাসটিতে মোট ২০ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। মোট এক হাজার ৮২৮টি প্রকল্প রয়েছে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com