ঋণ থেকে মুক্তি পেতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা: পিবিআই

প্রকাশ: ২৪ মে ২২ । ১৮:১২ | আপডেট: ২৪ মে ২২ । ১৮:১২

নরসিংদী ও বেলাব প্রতিনিধি

নরসিংদীর বেলাব উপজেলার পাটুলী ইউনিয়নের তিন খুনের রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই পুলিশ। স্ত্রীর নামে বিভিন্ন এনজিও এবং আত্মীয়-স্বজনদের নিকট থেকে নেওয়া ঋণের চাপ থেকে মুক্তি, জুয়া খেলার টাকা না থাকা ও প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই দুই সন্তানসহ স্ত্রীকে পরিকল্পিতভবে হত্যা করেন স্বামী গিয়াস উদ্দীন শেখ।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পিবিআই নরসিংদীর পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান। এর আগে সোমবার বিকেলে নরসিংদী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রকিবুল হকের আদালতে তিন খুনের মামলার একমাত্র আসামি হিসাবে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন স্বামী গিয়াস উদ্দীন শেখ।

আদালতে জবানবন্দিতে আসামির দেওয়া বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদী পিবিআই কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেন পিবিআই পুলিশ সুপার। এ সময় তিনি জানান, পেশায় রংমিস্ত্রি ভাবলা গ্রামের গিয়াস উদ্দীন শেখ একজন পেশাদার জুয়ারি। জুয়া খেলার টাকার সংকট হলে তার মাথা ঠিক থাকে না। বিভিন্ন এনজিওসহ তার আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে স্ত্রী রহিমার নামে ১২ লাখ টাকার ঋণের বিপরীতে সপ্তাহে ও মাসে ২২ হাজার টাকার মতো কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে হতো তাকে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ঋণগ্রহীতা মারা গেলে ঋণের টাকা মওকুফ হয় এমন বিশ্বাসে স্ত্রী রহিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন স্বামী গিয়াস উদ্দীন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার গভীর রাতে ছুরিকাঘাতে ও ক্রিকেট ব্যাট থেকে আঘাত করে ঘুমন্ত স্ত্রী রহিমাকে হত্যা করেন তিনি। পরে রাতে তার বাড়িতে অবস্থানের কথা সন্তানেরা বলে দিতে পারে এমন আশঙ্কায় ঘুমন্ত সন্তানদেরও খেলার ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যা শেষে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তিনি।

সকালে স্বজনদের ফোনে স্ত্রী-সন্তানদের লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে বাড়ি ফিরেন এবং রাতে বাড়িতে ছিলেন না বলে উপস্থিত সবাইকে জানান। এ সময় প্রতিপক্ষ চাচাত ভাই রেনু শেখের ওপর হত্যার দায় চাপানোর চেষ্টা করেন স্বামী গিয়াসউদ্দীন। রেনু শেখের সাথে বাড়ির রাস্তার সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল তার।

পেশাগত কাজে বাড়ির বাইরে অবস্থান করাসহ তার দেওয়া অন্য তথ্য সন্দেহজনক হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গিয়াসউদ্দীনকে আটক করে পিবিআই। পরে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করে সে। হত্যা শেষে নাটক সাজাতে বাড়ি ছেড়ে যান বলে জানান তিনি। আটকের পর তার দেখানো মতে ওই গ্রামের গঙ্গাজলী বিল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি ও জঙ্গল থেকে রক্তমাখা ক্রিকেট ব্যাট উদ্ধার করে পিবিআই।

পরে তাকে আদালতে পাঠানো হলে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি শেষে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে। এদিকে রোববার রাতে নিহতের ভাই মোশারফ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে বেলাব থানায় হত্যা মামলা করেন। হত্যার দায় স্বীকারের পর ওই মামলায় গিয়াসউদ্দীন শেখকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে। এই হত্যা মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআই এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।

নরসিংদী পিবিআই পুলিশ সুপার এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, এক নারীর সাথে ফোনে গিয়াস উদ্দীন শেখের নিয়মিত কথা বলার তথ্যও পাওয়া গেছে। এছাড়া ঋণের তথ্য যাচাইসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় রেখে আরও কেউ এই নির্মম হত্যার সাথে জড়িত কিনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, রোববার সকালে প্রতিবেশীদের ডাকাডাকিতে সাড়া না দেওয়ায় ঘরে ঢুকে তিনজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে বেলাব থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়াস উদ্দীনের দুই বসতঘর হতে স্ত্রী রহিমা বেগম (৩৬), ছেলে রাব্বি শেখ (১৩) ও মেয়ে রাকিবার (৬) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com