এক দিন পর ফের দরপতন শেয়ারবাজারে

প্রকাশ: ২৫ মে ২২ । ০৯:২৭ | আপডেট: ২৫ মে ২২ । ০৯:২৭

সমকাল প্রতিবেদক

প্রতীকী ছবি

দরপতন ঠেকাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের নানা পদক্ষেপ আসছে- এমন খবরে টানা আট দিনের পতনের ধারা ভেঙে সোমবার ঊর্ধ্বমুখী হয় শেয়ারদর ও সূচক। কিন্তু তা এক দিনের বেশি টিকল না। গতকাল মঙ্গলবার ফের পুরোনো দরপতনের ধারায় ফিরেছে শেয়ারবাজার।

প্রধান শেয়ারবাজার ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৬ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২৭৮টিই দরপতন হয়েছে, যা মোটের ৭৪ শতাংশ। বিপরীতে ৫৫টির দর বেড়েছে, অপরিবর্তিত থেকেছে ৪৩টির দর। লেনদেন হয়েছে ৬৬০ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার।

অধিকাংশ শেয়ারের দর কমায় প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৫০ পয়েন্ট হারিয়ে ৬২১১ পয়েন্টে নেমেছে। ১০ থেকে ২২ মে পর্যন্ত টানা আট কার্যদিবসে ৫৫৫ পয়েন্ট পতনের পর সোমবার এক দিনেই সূচক বাড়ে ১১৮ পয়েন্ট।

গতকালের লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সকাল ১০টায় কিছুটা অস্থিরতায় দিনের লেনদেন শুরু হলেও প্রথম ঘণ্টা শেষে বেশিরভাগ শেয়ার দর বেড়ে কেনাবেচা হচ্ছিল। এ সময় ডিএসইএক্স সূচক ৪৫ পয়েন্ট বেড়ে ৬৩০৬ পয়েন্ট ছাড়ায়। এর পরই দরপতন শুরু হলে তা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত চলে। দুপুর আড়াই লেনদেন শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে সূচকটি আগের দিনের তুলনায় ৭১ পয়েন্ট এবং দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানের তুলনায় ১১৬ পয়েন্ট হারিয়ে ৬১৯০ পয়েন্টে নামে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে রোববার অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পর বাজারে তারল্য সরবরাহ বাড়াতে শেয়ারবাজারের জন্য সরকারের ঘূর্ণায়মাণ ঋণ তহবিলের আকার পাঁচ বছর এবং আকার হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তার পরও দরপতনের কারণ কী- জানতে চাইলে ব্রোকারেজ হাউসের কর্মকর্তারা বলেন, ঘূর্ণায়মাণ এ তহবিলের টাকা ২০১১ সাল থেকে শেয়ারবাজারে আছে। এটি নতুন কিছু নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শীর্ষ এক ব্রোকার সমকালকে বলেন, মার্জিন ঋণহার বাড়ানো বা এক্সপোজার ইস্যু দিয়ে এ বাজারের সমস্যা সমাধান হবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ যাদের বিনিয়োগে শেয়ারদর বৃদ্ধি পায়, তারাই শেয়ার বিক্রি করে বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন বা নিচ্ছেন। বিদেশিরা ক্রমাগত শেয়ার বিক্রি করছেন। তার ওপর আগামী জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক। এসব সমস্যা বিশেষ কোনো উদ্যোগ বা পদক্ষেপ দিয়ে সমাধান করা যাবে না।

তাছাড়া অর্থনৈতিক সংকট, চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ম্ফীতিসহ নানা ইস্যুতে গত সাত মাস ধরে যে দরপতন চলছে, তা খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছিল আইসিবির শেয়ার বিক্রি। এক্সপোজার লিমিট অতিক্রম করায় চাপে পড়ে সরকারি ব্যাংকগুলো থেকে নেওয়া ঋণ এবং আমানতের কিছুটা ফিরিয়ে দিতে শেয়ার বিক্রি করছিল প্রতিষ্ঠানটি। অর্থমন্ত্রীর বৈঠক ঘিরে গুজব ছিল, এ সমস্যা দূর করতে আইসিবিকে দেওয়া ঋণ ও আমানত এক্সপোজার হিসাবের আওতামুক্ত রাখা হবে। আদতে তা হয়নি। এটিও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করে থাকতে পারে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com