মেঘনাপাড়ে নারীর প্রসব ব্যথা, এগিয়ে এলেন তিন চিকিৎসক

প্রকাশ: ২৬ মে ২২ । ২২:৫৮ | আপডেট: ২৬ মে ২২ । ২৩:০২

চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া প্রশান্তিপার্ক সংলগ্ন মেঘনা নদী পাড়ে সঙ্কটাপন্ন এক প্রসূতি মা ও তার শিশুর জীবন বাঁচিয়ে চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাবাসীর প্রশংসায় ভাসছেন ১০০ শয্যাবিশিষ্ট চরফ্যাশন সদর হাসপাতালের তিন চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া ইয়াসমিন, ডা. ফাইয়াজ ও ডা. নাহিদ হাসান।

উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিয়ে স্পিডবোটে ভোলার মনপুরা উপজেলার একটি গ্রাম থেকে সঙ্কটাপন্ন এক মাকে নিয়ে চরফ্যাশনে আসছিলেন তার পরিবারের সদস্যরা। চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাটে ভিড়তে মায়ের প্রসব বেদনা এতটাই তীব্র হয় যে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। 

ঘাটের পাশে এক রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার গ্রহণের প্রস্তুতির সময় প্রসূতির চিৎকার শুনে এগিয়ে যান তিন চিকিৎসক। তাদের তাৎক্ষণিক প্রচেষ্টায় ভূমিষ্ঠ হয় কন্যাশিশু। বেঁচে যায় মায়ের জীবন।

তিন চিকিৎসকের বয়ানে উঠে আসে বুধবার রাতের গল্প। 

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত সাড়ে ১১টা; ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বেতুয়া প্রশান্তিপার্ক সংলগ্ন মেঘনা পাড়ি দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসছে একটি স্পিডবোট। 

ঘাটে ভিড়তে এক মহিলা হন্তদন্ত হয়ে এগিয়ে এলেন। জানালেন, প্রসূতি মাকে দ্রুত নিতে হবে হাসপাতালে। কিন্তু ততক্ষণে প্রসূতির প্রসববেদনা এতটাই বেড়েছে যে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও নেই। 

পাশেই এক রেস্তোরাঁয় খাবারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিন চিকিৎসক- ডা. সুরাইয়া ইয়াসমিন, ডা. ফাইয়াজ ও ডা. নাহিদ হাসান। প্রসূতির তীব্র চিৎকার শুনে এগিয়ে আসেন তারা। চিকিৎসার সরঞ্জাম কিছু তাদের সঙ্গেই ছিল। তা নিয়েই প্রশান্তিপার্ক এলাকায় কাপড়ের প্রাচীর রচনা করে সন্তান প্রসবের যাবতীয় বন্দোবস্ত করলেন তারা। 

একটু পরে ভেসে এল নবজাতকের চিৎকার। চিকিৎসক সুরাইয়া ইয়াসমিন জানালেন, ফুটফুটে কন্যাশিশুর জন্ম দিয়েছেন মা মুক্তা।

সন্তান প্রসবের পরপরই অ্যাম্বুলেন্স ডেকে মা ও নবজাতক শিশুকে নেওয়া হয় চর‌ফ্যাশন উপজেলা হাসপাতালে। পরে বৃহস্পতিবার সকাল পেরোতেই মা-মেয়ে সুস্থ অবস্থায় ফিরে যান মনপুরার বাড়িতে। 

নবজাতকের বাবা সবুজ বলেন, তিন চিকিৎসককে কী বলে ধন্যবাদ জানাব, আমার জানা নেই। তারা না থাকলে হয়ত আমার স্ত্রীকেই বাঁচানো যেত না। 

প্রসূতি মায়ের জীবন বাঁচাতে তাৎক্ষণিক ভূমিকায় চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলাতেও প্রশংসায় ভাসছেন তিন চিকিৎসক।

বাম থেকে তিন চিকিৎসক- ডা. ফাইয়াজ হোসেন, ডা. সুরাইয়া ইয়াসমীন ও ডা.জাহিদ হাসান

ডা. সুরাইয়া ইয়াসমিন সমকালকে বলেন, সেদিন দ্রুত গতিতে একটা স্পিডবোট এগিয়ে আসছে দেখলাম। প্রসূতি মায়ের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। তাকে তখন হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতিও ছিল না। আমরা তিন জন মিলে তখন সেখানেই জরুরি কিছু উপকরণ নিয়ে শিশুকে ভূমিষ্ঠ করার প্রস্তুতি নেই। কন্যাশিশু ভূমিষ্ঠ হওয়া মাত্র যখন কেঁদে উঠে নিজের আগমনী বার্তা জানাল, তখন নিজেকে সত্যি ভাগ্যবতী মনে হয়েছে।

ডা. নাহিদ হাসান বলেন, ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ মেঘনা পাড়ি হয়ে একদল নারী আসছিলেন প্রসূতি মায়ের জীবন বাঁচাতে। আমরা সবাই মিলে তার ও তার শিশুর জীবন বাঁচাতে পেরেছি। এমন কাজে সম্পৃক্ত হতে পারা ভাগ্যের ব্যাপার। রোগীর জীবন বাঁচানো আমাদের কাজ। কিন্তু এ ঘটনা অকল্পনীয় ও ব্যতিক্রম।


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com