কুমিল্লা সিটি নির্বাচন

প্রতীক পেয়েই প্রচার শুরু সরগরম মাঠ

প্রকাশ: ২৮ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২৮ মে ২২ । ০২:৫৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

কামাল উদ্দিন, কুমিল্লা

কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে অংশ নেওয়া মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা শুক্রবার প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। এরপর থেকেই তাঁদের কর্মী-সমর্থকরা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার শুরু করে দেন। জুমার নামাজের পর নগরীতে ভোট উৎসবের আমেজ দেখা দেয়। মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে নগরীর রাস্তায় রাস্তায় বাহারি স্লোগানে শুরু হয় মাইকিং।

নগরীর প্রেসপাড়া থেকে তড়িঘড়ি করে পোস্টার ছাপিয়ে কর্মী-সমর্থকদের রশি দিয়ে সেগুলো সাঁটাতেও দেখা যায়। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার। তবে নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত এবং সাবেক মেয়র ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু প্রথম দিনে প্রচার শুরু করেননি। উভয় প্রার্থীই আজ শনিবার থেকে প্রচারে নামবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল সকাল থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া শুরু হয়। রিটার্নিং অফিসার শাহেদুন্নবী চৌধুরী প্রার্থী ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে প্রতীকের কাগজ হস্তান্তর করেন। মেয়র পদে পাঁচজন এবং সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ১০৬ জন ও সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডে ৩৬ জনসহ মোট ১৪৭ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক দেওয়া হয়। মেয়র পদে ভোটের মাঠে আছেন আরফানুল হক রিফাত (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু (টেবিল ঘড়ি), নিজাম উদ্দিন কায়সার (ঘোড়া), কামরুল আহসান বাবুল (হরিণ) এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রাশেদুল ইসলাম (হাতপাখা)।

জয়ের বিষয়ে সবাই আশাবাদী: প্রথম দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদ্য স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে বহিস্কৃত নেতা ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দিন কায়সার নগরীর নোয়াগাঁও, জাঙ্গালিয়া, পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড, উত্তর রামপুর ও আশপাশের এলাকায় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচার চালান। এ সময় তিনি ওই এলাকার বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ভোটারদের কাছে গিয়ে ভোট চান এবং তাঁদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় কায়সার সাংবাদিকদের বলেন, একটি আধুনিক নগরী গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি ভোটযুদ্ধে নেমেছেন। নগরীকে তিনি 'ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন' সিটিতে রূপান্তর করতে চান। তিনি বলেন, ভোটাররা আমাকে হতাশ করবেন না। অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোট হলে তিনি বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী বলে জানান।

অন্যদিকে নৌকার প্রার্থী আরফানুল রিফাত ও বিএনপি থেকে সদ্য বহিস্কৃত সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কু প্রথম দিনে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামেননি। সাক্কু প্রতীক পেয়ে বাসায় ফিরে দিনভর দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। আজ সকাল থেকে তাঁর প্রচারে নামার কথা রয়েছে। সাক্কু বলেন, 'আমি দুইবারের মেয়র, নগরীর প্রতিটি অলিগলিতে আমার পদচারণা রয়েছে। ভোটারদের অধিকাংশই তাঁর চেনা, তাই প্রচার দেরিতে হলেও কোনো সমস্যা নাই। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন হলে তিনিই বিজয়ী হবেন।'

তবে যোগাযোগ করেও নৌকার প্রার্থী আরফানুল হক রিফাতের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে তাঁর নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা দলের মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুর রহমান জাহাঙ্গীর সমকালকে বলেন, বাদ মাগরিব মিলাদের মাধ্যমে নৌকার নির্বাচনী প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়েছে। ৪০ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি করা হয়েছে। সদস্যরা বসে কিছু কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেছি এবং শনিবার থেকে আমরা আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করব। তিনি আরও বলেন, নৌকার বিজয়ের প্রশ্নে কোনো সংশয় ও মতবিরোধ নেই।

১০৫ ভোটকেন্দ্রের সব কটিতে ইভিএমে ভোট নেওয়া হবে আগামী ১৫ জুন। রিটার্নিং কর্মকর্তা রাশেদুন্নবী চৌধুরী বলেন, প্রতীক বরাদ্দের সময় নির্বাচনী আচরণবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে সব প্রার্থীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে প্রার্থীরা সহযোগিতা করবেন বলে তিনি আশা করেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com