যুবদলের নতুন কমিটি হতাশ ও ক্ষুব্ধ তৃণমূল

প্রকাশ: ২৮ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২৮ মে ২২ । ১১:১১ | প্রিন্ট সংস্করণ

কামরুল হাসান

বিএনপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি আংশিক ঘোষণা করা হয়েছে। কমিটিতে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুকে সভাপতি ও মোনায়েম মুন্নাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। নতুন কমিটি ঘোষণার পরপরই তৃণমূলে উচ্ছ্বাস আর খুশির পরিবর্তে হতাশা বিরাজ করছে। প্রত্যাশামতো ত্যাগী ও যোগ্যদের কাছে নেতৃত্বভার তুলে না দেওয়ায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়েও তাঁরা সন্দিহান।

গতকাল শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি ঘোষণার কথা জানানো হয়। এতে মামুন হাসানকে সিনিয়র সহসভাপতি, নুরুল ইসলাম নয়নকে সহসভাপতি এবং সহসভাপতি পদমর্যাদায় কামরুজ্জামান দুলালকে দপ্তর সম্পাদক করা হয়েছে। এ ছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মিল্টন ও দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক গোলাম মওলা শাহীনকে আনা হয়েছে। ইসহাক সরকারকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে।

সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু আগের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মোনায়েম মুন্না ছিলেন সহসভাপতি। এ ছাড়া মামুন হাসান গত কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, নুরুল ইসলাম নয়ন সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, যুগ্ম সম্পাদক পদ মর্যাদায় দপ্তরের দায়িত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান দুলাল। আর ইসহাক সরকার ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক।

নেতাকর্মীরা জানান, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হিসেবে সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর সারাদেশে পরিচিতি, গ্রহণযোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা যেমন রয়েছে, তেমনি রাজনীতিতে তাঁর পরিবারের ত্যাগ রয়েছে। তিন শতাধিক মামলাসহ হামলা, জেল-জুলুমের শিকার এ নেতাকে নতুন কমিটিতে সভাপতি করায় নেতাকর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ পেলেও তাঁরা সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে হতাশ। পদপ্রত্যাশীদের তালিকায় মোনায়েম মুন্না আলোচনায় না থাকলেও তদবিরের জোরে তিনি গুরুত্বপূর্ণ পদে এসেছেন বলে অভিযোগ নেতাকর্মীদের। মোনায়েম মুন্না বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও যুবদলের সাবেক সভাপতি মির্জা আব্বাসের দূরসম্পর্কের ভাগ্নে। এ পরিচয়েই তাঁর রাজনীতিতে উত্থান। সারাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি গঠনে গঠিত ১১টি সাংগঠনিক টিমের মধ্যে বরিশাল বিভাগীয় টিমের দায়িত্বে ছিলেন মোনায়েম মুন্না। বরিশালের প্রভাবশালী নেতা মজিবর রহমান সরোয়ারবিরোধী হিসেবে পরিচিতদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি এই জেলা ও মহানগর বিএনপির কমিটিতেও প্রভাব বিস্তার করেন। সরোয়ারবিরোধী হিসেবে পরিচিতদের জোরালো লবিং ছিল মোনায়েম মুন্নার পক্ষে। তাঁর নিজস্ব কোনো কর্মী বাহিনী কিংবা অনুসারী নেই। কিংবা সারাদেশে তাঁর কোনো পরিচিতিও নেই। সুলতান সালাহউদ্দিন টুকুর বাড়ি টাঙ্গাইল ও মোনায়েম মুন্নার বাড়ি লক্ষ্মীপুরে।

সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী মামুন হাসানকে কমিটিতে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়েছে। ক্লিন ইমেজের অধিকারী ও দক্ষ সংগঠক হিসেবে পরিচিত এ নেতা ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আন্দোলনে সর্বাধিক নির্যাতিত। পুরো পরিবারকে ওই সময়ে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল। ছাত্রদল দিয়ে রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়ার এ নেতা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি, মহানগর যুবদলের সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সারাদেশে হাজারো অনুসারী আর পরিচিতি রয়েছে নতুন কমিটির আরেক সহসভাপতি নুরুল ইসলাম নয়নের। তাকেও নতুন কমিটিতে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা।

সূত্র জানায়, গত ১০ মে যুবদলের নতুন কমিটির বিষয়ে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ৫১ নেতার মতামত নেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে বেশিরভাগ নেতা নুরুল ইসলাম নয়নের পক্ষে তাঁদের মতামত দেন।

দপ্তর সম্পাদক কামরুজ্জামান দুলালকে এবারও একই পদে রাখা হয়েছে। শুধু পদমর্যাদা বাড়ানো হয়েছে। বিএনপির হাইকমান্ডের এ সিদ্ধান্তকেও ভালোভাবে নেননি তৃণমূল নেতাকর্মীরা। আলাল-নীরব কমিটিরও দপ্তর সম্পাদক ছিলেন কামরুজ্জামান দুলাল। সারাদেশে তাঁর নিজস্ব পরিচিতি রয়েছে। যুগ্ম সম্পাদক পদে শফিকুল ইসলাম মিল্টনের চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ ও সংগঠক হিসেবে পরিচিত গোলাম মওলা শাহীনকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।

নেতাকর্মীরা জানান, যুবদলের নতুন কমিটি নিয়ে তাঁরা আশান্বিত হতে পারছেন না। এ কমিটি আগামীতে সরকারবিরোধী আন্দোলন কিংবা জাতীয় নির্বাচনে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে তাঁরা মনে করছেন না।

কমিটিতে আগের কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরবের অনুসারী হিসেবে পরিচিত বড় অংশকে মাইনাস করা হয়েছে। আবার সংগঠনের পদপ্রত্যাশী ও প্রভাবশালী নেতা এস এম জাহাঙ্গীরকে আংশিক কমিটিতে না রাখায় তাঁর অনুসারী হিসেবে পরিচিতরাও ছিটকে পড়েছেন।

নতুন কমিটি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি পদবঞ্চিত বা অবমূল্যায়নের শিকার নেতারা। সাইফুল আলম নীরব এবং এস এম জাহাঙ্গীর নতুন কমিটির সফলতা কামনা করে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি মামুন হাসান বলেন, বিএনপির অভিভাবক তারেক রহমান যে আমানত তাঁদের ওপর অর্পণ করেছেন, অক্ষরে অক্ষরে সে আমানত রক্ষা করবেন। সাধারণ সম্পাদক মোনায়েম মুন্নাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি। এমনকি নতুন কমিটির প্রত্যাশা জানতে মেসেজ দিলেও তিনি উত্তর দেননি।

সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু বলেন, দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁদের ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা জীবন দিয়ে হলেও পালন করবেন। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার যে আন্দোলন চলছে, তাকে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com