মৃত সন্তানকে শুঁড়ে তুলে মাইলের পর মাইল হাঁটল মা হাতি

প্রকাশ: ২৮ মে ২২ । ১৫:০৩ | আপডেট: ২৮ মে ২২ । ১৫:৪৮

অনলাইন ডেস্ক

সন্তানের প্রতি মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা শুধু মানবজাতিই নয়,প্রাণিকূলের মধ্যেও বিদ্যমান। সম্প্রতি মৃত সন্তানের প্রতি হাতি মায়ের ভালোবাসার ঘটনা আবারও যেন তা প্রমাণ করল। মৃত সন্তানকে পথে না ফেলে শুঁড়ে তুলে মাইলের পর মাইল পথ হেঁটেছে মা হাতি । এমনই এক দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে স্থানীয়রা।

ভারতীয় গণমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনে বলা হয়েছে, দু’দিন আগে একদল হাতি ঢুকে পড়েছিল ভারতের বানারহাটের চুনাভাটি চা বাগানে। শুক্রবার সকালে হাতির দলটি চলে আসে আমবাড়ি চা বাগানে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে রেড ব্যাংক চা বাগানের দিকে রওনা দেয় হাতিগুলি।

স্থানীয় বনদপ্তর জানিয়েছে, দলটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে ৪০টি হাতি ছিল। চুনাভাটি চা বাগান থেকে কিছুটা দূরে একদিকে ডায়না আর একদিকে রেতির জঙ্গল। বন রক্ষা কর্মীদের অনুমান, এই দুই জঙ্গলের কোনও একটি থেকে হাতির দলটি লোকালয়ে চলে আসে।

পরে আমবাড়ি চা বাগানের বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন, দলের সব হাতি রেড ব্যাংক চা বাগানের দিকে রওনা দেয়। তবে একটি হাতি অনেক্ষণ দাঁড়িয়ে আছে। দু’পাশে চা গাছ থাকায় হাতিটির গতিবিধি বুঝে উঠতে পারছিলেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বেশ কিছুক্ষণ পর তারা বুঝতে পারেন হাতিটির সঙ্গে একটি সদ্যোজাত বাচ্চাও রয়েছে। তবে সেটি জীবিত নয়, মৃত। বারবার বাচ্চাটিকে আদর করছে মা হাতি। কিছুক্ষণ পর তারা দেখতে পান মৃত সন্তানকে শুঁড়ে তুলে রেড ব্যাংক চা বাগানের পথ ধরেছে মা হাতিটি। প্রায় ৮ কিলোমিটার পথ যেতে যেতে বাচ্চাকে কখনও মাটিতে রাখছে কখনও আবার আদর করছে প্রাণিটি।এভাবেই রেড ব্যাংক চা বাগানে গিয়ে দাঁড়ায় মা হাতিটি। সেখানেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে অপেক্ষায় ছিল দলের বাকি সদস্যরা।

পরে বাচ্চাসহ মা হাতিটিকে ঘিরে দাঁড়ায় হাতির দল। ততক্ষণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের বনকর্মীরা। সকাল গড়িয়ে দুপুর, বিকেল হলেও মৃত সন্তানকে আগলে দাঁড়িয়ে থাকে মা হাতি। যা দেখে চোখের জল সামলে রাখতে পারেননি প্রত্যক্ষদর্শী এবং বনকর্মীরা।

বিন্নাগুড়ি ওয়াইল্ড লাইফ স্কোয়াডের রেঞ্জের এক কর্মকর্তা জানান, যতক্ষণ না মা তার মৃত সন্তানকে রেখে চলে যায় ততক্ষণ অপেক্ষা করাই নিয়ম। তারপরই হাতির বাচ্চাটির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে। রিপোর্ট হাতে আসার পর সদ্যোজাত হস্তিশাবকের মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com