সাক্ষাৎকার

প্রান্তিক মানুষকে সেবার আওতায় আনতে চায় মার্কেন্টাইল ব্যাংক

প্রকাশ: ২৯ মে ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২৯ মে ২২ । ১২:০৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওবায়দুল্লাহ রনি

কামরুল ইসলাম চৌধুরী

বেসরকারি খাতের মার্কেন্টাইল ব্যাংক যাত্রা করে ১৯৯৯ সালের ২ জুন। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মো. কামরুল ইসলাম চৌধুরী। মার্কেন্টাইল ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সামনে রেখে সমকালের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ওবায়দুল্লাহ রনি

সমকাল: প্রতিষ্ঠার ২৩ বছরে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের অর্জন নিয়ে কিছু বলুন।

কামরুল ইসলাম চৌধুরী: ১৯৯৯ সালের ২ জুন যাত্রা শুরু করে মার্কেন্টাইল ব্যাংক। আধুনিক সেবানির্ভর বাংলার ব্যাংক হিসেবে দীর্ঘ ২৩ বছর অত্যন্ত সুনাম ও আস্থার সঙ্গে ব্যাংকটি গ্রাহক সন্তুষ্টি অর্জন করে আসছে। এ সময় আর্থিক সূচকে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। ঋণ ও অগ্রিমও উল্লেখযোগ্য আকারে বেড়েছে। গত মার্চ পর্যন্ত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪১৯ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে আমদানি, রপ্তানি ও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স বাড়ছে। গত বছর মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ২৮ হাজার কোটি টাকার আমদানি, সাড়ে ১৬ হাজার কোটি টাকার রপ্তানি এবং ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। ২০২১ সালে ৬১১ কোটি টাকার পরিচালন মুনাফা হয়েছে। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য গত বছর সাড়ে ১৭ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছে। ২০২২ সালেও সব আর্থিক সূচকে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করবে বলে আশা করা যায়। সারাদেশে ১২১টি শাখা ও ২১টি উপশাখার মাধ্যমে আমরা সেবা দিচ্ছি। ১৭৩টি এজেন্ট আউটলেট রয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিং উইন্ডো রয়েছে ৪৫টির। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিচালনার জন্য ৬১৭টি ব্যাংকের সঙ্গে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকিং রয়েছে। ৩২টি এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে রেমিট্যান্স চুক্তি রয়েছে। প্রবাসীদের পাঠানো আয় সহজে সুবিধাভোগীর হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন ব্যাংক ও বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি রয়েছে।

সমকাল: ঋণ বিতরণে আপনারা কোন খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন?

কামরুল ইসলাম চৌধুরী: দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে বৃহৎ শিল্পের পাশাপাশি মার্কেন্টাইল ব্যাংক ক্ষুদ্র, অতিক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, কৃষি, রিটেইল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

সমকাল: এখন অনলাইন ব্যাংকিংয়ে আগ্রহ অনেক বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহক চাহিদা মেটাতে আপনারা কতটুকু প্রস্তুত?

কামরুল ইসলাম চৌধুরী: ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে মার্কেন্টাইল ব্যাংক সব সময় চেষ্টা করে আসছে। গ্রাহক চাহিদা বিবেচনায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নিয়মিত বিনিয়োগ করে আসছে। ঘরে বসে অনলাইন ব্যাংকিং সুবিধার জন্য আমাদের রয়েছে অনলাইন রিয়েল টাইম ব্যাংকিং সুবিধা। এমক্যাশ নামে মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রাহক তাঁর মোবাইল ফোনকে ব্যাংক হিসাবের মতো ব্যবহার করে লেনদেন করতে পারেন। আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সহজ ব্যাংকিংয়ের নিশ্চয়তা দিতে 'এমবিএল রেইনবো' নামে ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা চালু করা হয়েছে। এরই মধ্যে এ সেবা জনসাধারণের মাঝে বেশ সমাদৃত হয়েছে। গ্রাহক সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। গ্রাহকদের নগদ উত্তোলন ও জমা সহজ করতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৮৮টি এটিএম বুথ এবং ২০টি ক্যাশ ডিপোজিট মেশিন রয়েছে।

সমকাল: ডলার নিয়ে বর্তমানের অস্থিরতাকে আপনি কীভাবে দেখেন?

কামরুল ইসলাম চৌধুরী: করোনা-পরবর্তী বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোগ্যপণ্য, কাঁচামাল, তেলের দাম এবং জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির ফলে আমদানি ব্যয়ও অনেক বেড়েছে। এতে করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ পড়েছে। এরই মধ্যে সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময়োপযোগী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। সামনে ঈদুল আজহার সময় রেমিট্যান্স বাড়লে এ সংকট অনেকটাই কেটে যাবে।

সমকাল: ঋণে ৯ শতাংশ সুদহারের সর্বোচ্চ সীমা অপরিবর্তিত আছে। তবে ব্যাংকগুলোকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমানতের সুদ বাড়াতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিকে আপনি কীভাবে দেখেন।

কামরুল ইসলাম চৌধুরী: অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি নীতিনির্ধারকরা বিচার-বিশ্নেষণ করে আমানতের সুদহার বেঁধে দিয়েছেন, যা ব্যাংকগুলো পরিপালন করে আসছে। তবে দেশের সার্বিক অবস্থা পর্যালোচনা করে তা পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

সমকাল: মার্কেন্টাইল ব্যাংককে আরও এগিয়ে নিতে আপনাদের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু বলুন?

কামরুল ইসলাম চৌধুরী: মার্কেন্টাইল ব্যাংককে আরও এগিয়ে নিতে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায় জোরদার করা হয়েছে। ঋণ বিতরণে কৃষি, রিটেইল, আবাসন ও এসএমই খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। নতুন নতুন উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রান্তিক এলাকার মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। এসবের পাশাপাশি আর্থিক খাতে বিদ্যমান ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষতার সঙ্গে তহবিল ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যাংকিং সেবা কীভাবে আরও সহজ করা যায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে ব্যাংক।

সমকাল: পরিচালনা পর্ষদ কতটুকু স্বাধীনভাবে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে কাজ করতে দিচ্ছে?

কামরুল ইসলাম চৌধুরী: অত্যন্ত স্বাধীন ও চাপমুক্তভাবে কাজ করে মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মরহুম আবদুল জলিল শুরু থেকে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাপমুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আজ অবধি যা অব্যাহত আছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পাশাপাশি ২০০০ সাল থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কাজ করে আসছে এ ব্যাংক। ২০১১ সাল থেকে ব্যাংকটির প্রধান উদ্যোক্তা আবদুল জলিলের নামে মার্কেন্টাইল ব্যাংক আবদুল জলিল শিক্ষাবৃত্তি কর্মসূচি চালু করা হয়। সিএসআরের আওতায় গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, সুদবিহীন শিক্ষা ঋণ ও বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থানে সহায়তা দিয়ে আসছে। ২০২১ সালে ব্যাংকটি সিএসআর খাতে খরচ করেছে ২৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

সমকাল: খেলাপি ঋণ সমস্যা সামলাতে ব্যাংক খাত কতটুকু প্রস্তুত বলে মনে করেন?

কামরুল ইসলাম চৌধুরী: বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনীতি তথা ব্যাংক খাতের প্রধান সমস্যা খেলাপি ঋণ। এর সঙ্গে আরও যোগ হয়েছে নতুন চ্যালেঞ্জ করোনা সংক্রমণের কারণে পরিবর্তিত পরিস্থিতি। নীতিনির্ধারক ও ব্যাংকারদের যৌথ সমন্বয়ে সময়োপযোগী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন এ ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com