'পাঁচ মিনিট পরই বাস থেকে নেমে যেতাম'

প্রকাশ: ২৯ মে ২২ । ১৫:৩৪ | আপডেট: ২৯ মে ২২ । ১৯:৪২

বরিশাল ব্যুরো

উজিরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাধব শীলের স্ত্রী মঞ্জু শীলের আহাজারি। ছবি-সমকাল

ফরিদপুরের রাজৈর উপজেলার কদমবাড়িতে ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন উজিরপুরের শিকারপুরে মুন্ডুপাশা গ্রামের মাধব শীল (৫০)। ইচলাদী বাস স্টপেজ থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বে ছিল যমুনা লাইন পরিবহনের বাসটি। সামনের সারির আসনে ছিলেন মাধব। 

কিন্তু দ্রুত গতির বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা খায় সড়কের পাশের একটি গাছে। দুমড়েমুচড়ে যায় বাস। ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন মাধব। পরে বরিশালের শের-ই বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়ে (শেবাচিম) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

ওই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন তার ছেলে অনীক শীল (১৮), চাচাত ভাই দিনেশ শীল (৫০) ও তার ছেলে সুদিপ্ত শীল (১৫), মনোরঞ্জন শীল (৪৫) এবং বিলাস চন্দ্র শীল (১৫)। 

অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যাওয়া সুদীপ্ত শীল ও বিলাস চন্দ্র শীল সমকালকে এসব তথ্য জানান।

সুদীপ্ত শীল বলেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার জন্য আমরা শনিবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে মাদারীপুরের টেকেরহাট ষ্টেশন থেকে যমুনা লাইন পরিবহনের বাসটিতে উঠি। দুর্ঘটনার সময় সবাই ছিলাম ঘুমের ঘোরে। পাঁচ মিনিট পরই বাস থেকে নেমে যেতাম।

বিলাস বলেন, আমি পুরোপুরি ঘুমেই ছিলাম। হঠাৎ ঝাঁকুনিতে আমার ঘুম ভাঙে। বাসটা মনে হয় একটা পাক খেল। তারপর বাসের সিট আমার আর সুদীপ্তর ওপর এসে পড়ে। জেঠামশাই (মাধব শীল) ছিলেন সামনের দিকে। তাকে খুঁজে পাই মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায়। তাকে আমরা টেনে বের করি। পরে হাসপাতালে আনার পর তিনি মারা যান।

স্বামী হারিয়ে পাগলপ্রায় মাধব শীলের স্ত্রী মঞ্জু শীল (৪০)। 

হাসপতালের বারান্দায় আহাজারি করতে করতে মঞ্জু শীল বলেন, ‘ছেলে নিয়ে গেছিলো ধর্মীয় কাজে, ভগবান তুমি আমার একি সর্বনাশ করলা। আমি এহন কি নিয়া বাঁচমু।’

‘পোলা নাই, হ্যা জানলে বুইনডাও বাঁচবে না’

ঝালকাঠী সদর উপজেলার মানপাশা গ্রামের মনির হোসেন দুবাই থাকেন। তার স্ত্রী আখি আক্তার (৩০) ও দুই সন্তান আরাফাত (৯) এবং মরিয়ম (৩) মায়ের সঙ্গে বাড়িতেই থাকতেন। 

গত মঙ্গলবার আখি আক্তার ছেলে আরাফাত ও মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে সাভার বেড়াতে গিয়েছিলেন ভাই আব্দুস সালামের বাসায়। 

শনিবার যমুনা লাইনের বাসটিতে দুই সন্তান নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন আখি আক্তার। দুর্ঘটনায় মারা গেছে তার ছেলে আরাফাত।

একমাত্র ছেলে বেঁচে নেই তা জানানো হয়নি মা আখি আক্তারকে। 

আখি আক্তারের ভাই মো. সালেক কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘পোলা নাই, হ্যা মোর বইনেরে জানাই নাই, জানলে বুইনডাও বাঁচবেনা। ও আল্লা এই সর্বনাশ ক্যা অইলো’। 

ঢাকা থেকে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়াগামী যমুনা লাইন পরিবহনের বাসটি রোববার ভোর সাড়ে ৫টায় বরিশালে উজিরপুর উপজেলার সানুহার এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারায়। পরে সড়কের পাশের একটি গাছে ধাক্কা খেয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১১ জন নিহত হয়েছেন। আহত ২৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 


© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com