পবিপ্রবিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা ঘোষণা

প্রকাশ: ২২ জুন ২২ । ১৬:৪৯ | আপডেট: ২২ জুন ২২ । ১৬:৪৯

সমকাল প্রতিবেদক

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আড়ম্বর অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে এক জরিপে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী জানিয়েছিলেন, যৌন হয়রানির শিকার হলে তারা কোথায় অভিযোগ করবে? তা তারা জানতেন না। তাই এই নীতিমালা এবং কমিটি গঠন শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার সকালে ভিসি লাউঞ্জে ইউএনউইমেন এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার সহযোগিতায় আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট এবং বরিশালের স্থানীয় সংগঠন ‘শুভ’ ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপাচার্য প্রফেসর ড. স্বদেশ চন্দ্র সামন্ত জানান, দেশের ৫২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৪২টি এবং ১০৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৭০টিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। তিনি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তবে তিনি মনে করেন, দেশে অনেক আইন আছে যার সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন হয় না বলে, তা কার্যকরী ভূমিকা পালন করে না। তাই আইন প্রণয়নের পাশাপাশি তা সুষ্ঠু বাস্তবায়ন এবং মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের প্রতি তিনি জোর দেন।

আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোটের প্রধান নির্বাহী জিনাত আরা হক বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা থাকা সেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনগুলোর জন্যও জরুরি। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্যাতনকারী এবং নির্যাতনের শিকার উভয়ই যখন শিক্ষার্থী হয়, তখন নীতিমালা না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন নিজেই নির্যাতনসমূহের বিচার করতে সমস্যায় পড়ে যায়। কিন্তু নীতিমালার আলোকে সেই অভিযোগসমুহ তদন্ত এবং নিষ্পত্তি করা সহজ হয়।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌন হয়রানি মুক্ত করার লক্ষ্যে হাইকোর্ট ২০০৯ সালে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা এবং প্রতিরোধ কমিটি থাকার বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দিয়েছে। সেই লক্ষ্যে ইউএনউইমেন এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার সহায়তায় উই কেন 'কমব্যাটিং জেন্ডার বেসড ভায়োলেন্স ইন বাংলাদেশ' প্রকল্পের অধীনে কুমিল্লা, বগুড়া এবং পটুয়াখালীর ৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই নীতিমালা প্রণয়নের জন্য সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজটি করে যাচ্ছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পঞ্চম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যেখানে এই প্রকল্পের অধীনে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হলো।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রক্টর সন্তোষ কুমার বসু, ইউএনউইমেন বাংলাদেশের প্রোজেক্ট কোঅর্ডিনেশন এনালিস্ট (ইভিএডব্লিউ) তোসিবা কাশেম, শুভ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক হাসিনা বেগম নীলাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ডিন এবং শিক্ষার্থীরা যুক্ত ছিলেন।

অনলাইনের মাধ্যমে ইউজিসি মঞ্জুরি কমিশনের ডেপুটি পরিচালক মৌলী আজাদ এবং গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার ডেভলপমেন্ট অ্যাডভাইজার ফারজানা সুলতানাও অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। সঞ্চালনা করেন বায়োকেমেস্ট্রি অ্যান্ড ফুড অ্যানালাইসিস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির ফোকাল পয়েন্ট সুজয় কান্তি মালী।

এ সময় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহীত নীতিমালা উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পাপড়ি হাজরা। সবশেষে শুভ সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক হাসিনা বেগম নীলার সমাপনী বক্তৃতা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালার আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে আয়োজনটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com