ভরা মৌসুমেও আমের দাম চড়া, খুশি চাষিরা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জুন ২২ । ০১:৪৪ | প্রিন্ট সংস্করণ

সৌরভ হাবিব, রাজশাহী

ফাইল ছবি

আম বিক্রি করে গত বছর শ্রমিকের টাকাও উঠছিল না। তাই অনেক আম গাছেই পচে নষ্ট হয়েছে। এবার তার উল্টো। হাটে আম নিয়ে গেলেই ব্যাপারীদের মধ্যে কাড়াকাড়ি শুরু হয়। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ভরা মৌসুমেও দাম কমেনি, বরং প্রতিদিনই মণপ্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা দাম বাড়ছে। কথাগুলো বলছিলেন পুঠিয়ার আমচাষি ও ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম।

তাঁর কথার সত্যতা পাওয়া যায় আমের বাজারদর দেখে। গতকাল বুধবার রাজশাহীর সবচেয়ে বড় বানেশ্বর হাটে জনপ্রিয় ক্ষীরশাপাতি বা হিমসাগর আম প্রতি মণ মানভেদে বিক্রি হয় ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ২০০ টাকায়। গত বছর একই সময় এই আম বিক্রি হয়েছিল দেড় থেকে দুই হাজার টাকা মণ দরে। গত বছর একই সময় ল্যাংড়া আমের মণপ্রতি দাম ছিল ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকায়। গত বছরের ৩০০ টাকা মণের লক্ষ্মণভোগ এবার বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এ ছাড়া মণপ্রতি ৮০০ টাকার আম্রপালি ২ হাজার ৪০০ টাকা, ৪০০ টাকার ফজলি ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সিরাজুল বলেন, আগের বছরগুলোতে কখনোই ভরা মৌসুমে আমের দাম এত বেশি হয়নি। ফলন কম হলেও দাম ভালো থাকায় চাষিরা এবার খুশি। চাহিদা থাকায় আম বিক্রি করতেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

রাজশাহীর বাঘার আম ব্যবসায়ী ও চাষি শফিকুল ইসলাম ছানা বলেন, এবার আমের ফলন খুবই কম। ৬০ ভাগ গাছেই এবার আম নেই। এ কারণে দাম খুব বেশি। বাজারে তুলতেই আম বিক্রি হয়ে যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগ জানায়, গত বছর সাড়ে ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ২ লাখ ১৭ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও তা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এ কারণে চাষিরা ভালো দাম পাননি। এ ছাড়া করোনা ও রমজান মাস থাকায় মানুষ আম কম খেয়েছেন।

রাজশাহী ফল গবেষণাগারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম জানান, এবার রোজার পরে আম পেকেছে। করোনা না থাকায় মানুষ বাহিরমুখী হয়েছে। এসব কারণে মানুষ আম বেশি খাচ্ছেন। এতে দাম না কমে বাড়তির দিকে। তিনি বলেন, আম ফলের রাজা হলেও সব সময়ই দাম কম থাকে। স্বাদ ও মানে অনেক ফলের ওপরে থাকলেও বাজারের অধিকাংশ ফলের তুলনায় আম কম দামে বিক্রি হয়। দাম বেশি থাকলে চাষিরা উৎপাদনও বাড়াবেন।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোজাদার হোসেন বলেন, দ্রব্যমূল্যে বাড়ার কারণে এবার আমের দাম বেড়েছে। গত বছর ২ লাখ ১৭ হাজার টন আমের উৎপাদন হয়েছিল। এ বছর ২ লাখ ১৪ হাজার ৬৮০ টন আম উৎপাদন হতে পারে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com