মানবতা

যুক্ত হচ্ছে নতুন মানবিক উদ্যোগ, তবু হাহাকার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২৩ জুন ২২ । ০১:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

বন্যার্ত মানুষের সাহায্যার্থে বিভিন্ন স্থান ঘুরে ঘুরে অর্থ সংগ্রহ করছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কর্মীরা। বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকা থেকে তোলা ছবি সমকাল

সরকারি-বেসরকারি বহু উদ্যোগ, তবু ত্রাণের জন্য হাহাকার বন্যাদুর্গত এলাকায়। প্রতিদিনই গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠে আসছে অভুক্ত-অর্ধভুক্ত মানুষের কষ্টগাথা। সেসব খবর-ছবি দেখে চোখের পানি ধরে রাখা দায়। তাই হয়তো প্রতিদিনই চোখে পড়ছে স্বেচ্ছাসেবীদের নতুন নতুন উদ্যোগ। একইসঙ্গে বন্যার শুরু থেকে ত্রাণ তৎপরতা চালানো মানুষেরাও সমানতালে মানবিক এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

বন্যাপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়াতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজের জায়গা থেকে সবটুকু করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিতে সিলেটে গেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) একদল শিক্ষার্থী। ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন তাঁর নিজের এলাকা মৌলভীবাজারের জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এদিকে ত্রাণ পরিবহনের জন্য বাস ভাড়া না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি।

চবি সংবাদদাতা জানান, সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যার্তদের বিতরণের জন্য প্রায় তিন লাখ টাকার শুকনো খাবার নিয়ে সিলেটে গেছেন চবি শিক্ষার্থীরা। চবিতে অধ্যয়নরত সিলেটের শিক্ষার্থীদের সংগঠন জালালাবাদ স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সহায়তায় নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাসের ব্যবস্থা করেছে।

এর আগে রোববার থেকে অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বন্যার্তদের সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ করেন। সেই অর্থ দিয়ে চট্টগ্রাম থেকে শুকনো খাবার কিনে সুনামগঞ্জে নিয়ে যান তাঁরা। গতকাল বুধবার সকালে তাঁরা সিলেটে পৌঁছে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করেন।

অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাসরুর আহমেদ বলেন, আমাদের অনেক শিক্ষার্থী কয়েকদিন ধরে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে পারছেন না। জন্মস্থানের মানুষকে কষ্টে দেখে আমরা বসে থাকতে পারি না। তাই আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করছি। এখানে পৌঁছার পর শিক্ষার্থীরা দুই টিমে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেছেন। প্রায় এক হাজার মানুষের জন্য সহায়তা নিয়ে এসেছি আমরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, শিক্ষার্থীরা বন্যার্তদের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার জন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। বিষয়টি উপাচার্যকে জানালে তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য বাসের ব্যবস্থা করেন।

জুড়ি (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা জানান, বন্যার শুরু থেকেই দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য কাজ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এবং বর্তমানে আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য এস এম জাকির হোসাইন। তিন দিন ধরে তিনি জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে রান্না করা খাবার বিতরণ করছেন তিনি। গতকাল জুড়ীর বিভিন্ন এলাকায় তাঁকে ত্রাণ বিতরণ করতে দেখা যায়।

এস এম জাকির হোসাইন বলেন, বন্যায় পানিবন্দি মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগে রয়েছেন। তাঁরা নিজেদের ভিটেমাটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পড়ে আছেন। আবার অনেকের ঘরবাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এই দুঃসময়ে সাধ্যমতো তাঁদের পাশে থাকার চেষ্টা করছি।

এদিকে সুনামগঞ্জে ত্রাণ পরিবহনের জন্য বাস ভাড়া না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘোষণা দেন সমিতির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুল মুকিত মুকুল। ঘোষণায় বলা হয়েছে, সুনামগঞ্জে প্রচুর ত্রাণ প্রয়োজন। অনেকেই যাতায়াতের সমস্যার কারণে ত্রাণ নিয়ে যেতে পারছেন না। তাই মানবিক বিবেচনায় বিনামূল্যে ত্রাণ পরিবহন করা হবে। সেইসঙ্গে কারও ভাড়া না থাকলে তিনিও এ ব্যবস্থায় সুনামগঞ্জ যেতে পারবেন। সিলেট থেকে যাঁরা ত্রাণ নিয়ে যাবেন, তাঁরা কুমারগাঁও বাসস্ট্যান্ড থেকে বিনামূল্যে সুনামগঞ্জ নতুন বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত যেতে পারবেন। প্রয়োজনে ০১৭১১০৫৯৬৩৪ ও ০১৭২৭৫৩৫৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন বন্যাপীড়িত মানুষের জন্য তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। গতকাল তাদের ফেসবুক পোস্টে দেখা যায়, আশ্রয়কেন্দ্র পর্যন্ত যেতে পারছেন না- এমন অসহায় মানুষদের উদ্ধার করে কেন্দ্রে পৌঁছে দিচ্ছে তারা। সেইসঙ্গে চালু রয়েছে খাবার বিতরণ কার্যক্রম।





© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com