দোহারে পদ্মা নদীরক্ষা বাঁধে ভাঙন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২২ । ১০:১৯ | আপডেট: ২৩ জুন ২২ । ১০:১৯

দোহার (ঢাকা) প্রতিনিধি

দোহারের পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে দেখা দিয়েছে তীব্র স্রোতের। আর এ স্রোতের কারণে পদ্মা নদীবেষ্টিত বিলাশপুর ও সুতারপাড়া ইউনিয়ন এলাকায় এ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও পদ্মা নদী রক্ষা বাঁধসহ বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এভাবে অব্যাহত ভাঙনের ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন সুতারপাড়া ইউনিয়নের মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যলয়টি। সাথে এ এলাকার প্রায় সাড়ে তিনশ পরিবার ভাঙন ঝুঁকিতে রয়েছে। সংবাদ পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় ভাঙন রোধে কাজ করছে।

এ বিষয়ে বুধবার রাতে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোবাশ্বের আলম জানান, দোহারের নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর মধুরচর সরকারি দ্বিতল প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষায় জিওব্যাগ ফেলার কাজ শুরু করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় দোহারের পদ্মা ভাঙন রক্ষায় কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাত থেকে মধুরচর এলাকায় এবং বিলাশপুরের অন্য অংশেও ভাঙন রক্ষায় কাজ করবে বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগে মোটা বালুর বস্তা ফেলাসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রাণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্তৃক দ২ হাজার টন চাল ও নগদ বিতরণের জন্য ৩ লাখ টাকা প্রেরণ করেছেন। এছাড়াও দুস্থ পরিবারের জন্য ১১০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্ধ করা হয়েছে।

জানা যায়, দোহার উপজেলায় টানা ভারী বর্ষণে ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙছে বাড়িসহ আবাদি জমি। এতে আতঙ্কে রয়েছেন নদীতীরবর্তী এলাকার মানুষ। উপজেলার বিলাশপুর, মধুরচর, নয়াবাড়ি ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী এলাকায় ভারী বর্ষণে ও উজানের পাহাড়ি ঢলে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হলে জমিসহ কিছু বাড়িঘরের নিকটবর্তী জমি ভেঙে তলিয়ে গেছে। ফলে নদীর তীরবর্তী মানুষের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

অপরদিকে মুকসুদপুর, নয়াবাড়ি, কুসুমহাটি, বিলাশপুর ও মধুরচর এলাকার নদীতীরবর্তী এলাকায় বসবাসরত পরিবারগুলোর দাবি অতিদ্রুত নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ করা। এছাড়াও তারা ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য সালমান ফজলুর রহমানের কাছে সাহায্য সহযোগিতা কামনা করেন।

সুতারপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সুরুজ বেপারী জানান, পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে স্রোতের কারণে মধুরচর নদীতীরবর্তী এলাকায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এ এলাকায় একটি সরকারি প্রাইমারি স্কুল ও প্রায় সাড়ে তিনশ পরিবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

বিলাশপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. রাশেদ চোকদার বলেন, সেনাবাহিনী ভাঙন রোধে কাজ করছে। বালুভর্তি জিওব্যাগের ডাম্পিং করা হচ্ছে। এক একটি বালুভর্তি জিওব্যাগের ওজন প্রায় তিনশ মণ। তাও ফেলার সঙ্গে সঙ্গে নিচের দিকে ডেবে যাচ্ছে। কাজের পরিমাণ ও গতি আরও বাড়াতে হবে।

দোহার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান সাহেবকে জানানো হয়েছে।এরপরই মঙ্গলবার থেকে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধ করা হচ্ছে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com