সরকারি চাকরিজীবী পেলেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২২ । ২২:২৫ | আপডেট: ২৩ জুন ২২ । ২২:২৫

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি

রমজান আলী সরকারের বরাদ্দের ঘরটির সঙ্গে সংযুক্ত করে আরেকটি ঘর বানাচ্ছেন ছাদ দিয়ে। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরটির নকশারও পরিবর্তন করেছেন। ছবি: সমকাল

সরকারি চাকরিজীবী হয়েও অসহায় ও গরিবের জন্য বরাদ্দ দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছেন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার রমজান আলী। তিনি উপজেলাটির পায়রাবন্দে ডাকবাংলোয় চাকরি করেন। এই বাংলোয় একটি সরকারি কোয়ার্টারও পেয়েছেন তিনি। স্থানীয় বাজারে দুটি জুতার শোরুমও আছে তার।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলায় অসহায় ও অস্বচ্ছলদের জন্য ঘর উপহার দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

একজন সচ্ছল ব্যক্তির এই ঘর পাওয়া নিয়ে চলছে সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি চাকরিজীবীর তথ্য গোপন করে এই ঘর পেয়েছেন তিনি।

রমজান এই ঘর নিয়ে সেটার পাশে নিজের অর্থায়নে আরেকটি ঘর বানাচ্ছেন। ঘরটিতে ছাদ ঢালাই করে নিচ্ছেন তিনি। এমনকি বরাদ্দের ঘরটির নকশা পরিবর্তন করে দুই ঘরকে সংযুক্ত করে নিচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার পায়রাবন্দ ইউনিয়নের খোর্দ্দ মুরাদপুর গ্রামে রাস্তার পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে রমজানের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরটি। এই ঘরের লাগোয়া আরেকটি নতুন ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। এটিও তার। সরকারি বরাদ্দের ঘরটির কয়েকটি পিলার এবং পেছনের কিছু অংশ ভেঙে নতুন ভবনের সঙ্গে সংযুক্ত করা হচ্ছে।

নিয়মানুযায়ী, প্রকল্পের ঘরটির উপরে শুধু রঙিন ঢেউটিনের চালা দেওয়ার কথা। কিন্তু এটিতে রঙিনের সঙ্গে দেওয়া হয়েছে সাধারণ ঢেউটিনও। কারণ ওই ঘরটি আয়তনে অনেকটা বড়। প্রকল্পের অন্যসব ঘর ৪০০ বর্গফুট হলেও রমজানের ঘরটি আয়তনে ভিন্ন। অনেকটা বড়।

নিজেকে ভূমিহীন দাবি করলেও খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, তার প্রায় তিন বিঘা কৃষি জমি ও নিজের বসতভিটে রয়েছে ১২ শতাংশ।

পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর অস্বচ্ছলদের পাওয়ার কথা। কিন্তু রমজান আলী সেই ক্যাটাগরিতে পড়েন না। তার এই ঘরটি নেওয়া ঠিক হয়নি।

রেজাউল ইসলাম নামে স্থানীয় একজন বলেন, রমজান সরকারি চাকরি করেন। তার নিজের অনেক সম্পদ রয়েছে। কীভাবে তিনি সরকারি ঘর পান? তার নিজের যে বসতভিটে আছে, সেটার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

আরেকজন স্থানীয় বাসিন্দা সহিদুল ইসলাম বলেন, রমজানের নিজের জন্মস্থান নীলফামারীর ডিমলায়। সেখানে তার পৈত্রিক পাকা বাড়ি এবং কয়েক একর জমি রয়েছে। কীভাবে তিনি ভূমিহীনদের জন্য বরাদ্দের ঘর পেলেন? এটা তদন্ত হওয়া দরকার।

রমজান আলী বলেন, আমি চাকরি করলেও অবস্থা ভালো নয়। গরিব মানুষ। জমিজমা নেই। যারা বলেছে, মিথ্যা বলেছে। আর আমার নিজের নামে তো আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাড়ি নয়, আমার স্ত্রী রনজিনা বরাদ্দ পেয়েছে।

তিনি বলেন, ছেলের টাকা-পয়সা হয়েছে, তার শ্বশুরের বিশাল অবস্থা। জায়গা সংকট হওয়ায় সে নতুন পাকা বাড়ি নির্মাণ করছে। তার জুতার দোকান রয়েছে। তাই আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা।

এসময় তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, অভিযোগ দিয়ে লাভ নেই। কেউ আমার কিছু করতে পারবে না। আমার উপরে লোক আছে।

মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমাতুজ জোহরা বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে কেউ অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে গৃহহীনদের জন্য বরাদ্দের ঘরে নকশা পরিবর্তন কিংবা বিত্তশালীদের পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com