সরেজমিন: মাওয়া প্রান্ত

'ফেরির কষ্টের দিন শেষ, শান্তি আর শান্তি'

প্রকাশ: ২৬ জুন ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২৬ জুন ২২ । ০২:৫২ | প্রিন্ট সংস্করণ

বকুল আহমেদ, মাওয়া প্রান্ত থেকে

ছবি: ফাইল

আরিফুল ইসলাম আর আমিন বিশ্বাস। চাকরিজীবী দুই যুবক। বন্ধুর পথ মাড়িয়ে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে এসেছেন পদ্মার কোলে। গতকাল শনিবার ভোরে টঙ্গী থেকে মাওয়ার পথে যাত্রা। পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘিরে মাওয়া সড়কে বাস চলাচল বন্ধ। তবু দমে যাননি তাঁরা। কখনও হেঁটে, কখনও ছোট যানবাহনে চেপে পৌঁছান পদ্মাপাড়ে। গতকাল হাজার হাজার মানুষ এমন কষ্ট আর ভোগান্তিকে সঙ্গী করে পদ্মা সেতুর কাছে এসে মাতেন আনন্দ-উল্লাসে। ট্রাকে সাউন্ডবক্সে পদ্মা সেতু নিয়ে নানা গান-বাজনা চলতে থাকে নদীর পাড়ে।

গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাওয়ার শিমুলিয়ার লঞ্চঘাটের একটি টং দোকানে চায়ের কাপে চুমুক ফেলার ফাঁকে ফাঁকে খানিকটা আলাপ। আরিফুল বলছিলেন, 'ইতিহাসের সাক্ষী হতে পদ্মাপাড়ে এসেছি। বুড়ো বয়সে নাতি-পুতিদের বলতে তো পারব পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিনে নদীর পাড়েই ছিলাম।'

আমিনের বাড়ি ঝালকাঠি। তিনি বললেন, 'পদ্মা নদীতে সেতু হবে কল্পনাও করিনি। এই বয়সে কতবার ফেরি পার হয়ে বাড়ি যেতে হয়েছে, হিসাব নেই। ফেরির কষ্টের দিন শেষ, শান্তি আর শান্তি। এখন সময় বাঁচবে, থাকবে না ভোগান্তি। প্রধানমন্ত্রী পদ্মার বুকে সেতু বানিয়ে দেখিয়ে দিলেন ইচ্ছাশক্তি থাকলে সবই সম্ভব।'

যাতায়াতের পথে জীবনে কখনও মাওয়া ফেরিঘাট ব্যবহার করেননি, এমন মানুষও গতকাল এসেছেন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আয়োজন দেখতে। তারা বলছেন, পদ্মা সেতু একটা ইতিহাস। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন মাওয়ায় এসে নিজেকে গর্বিত মনে করছেন কেউ কেউ।

মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে গতকাল সকাল ১০টার দিকে আয়োজন করা হয় সুধী সমাবেশের। সেই অনুষ্ঠানস্থল থেকে শিমুলিয়া ঘাটের দূরত্ব তিন থেকে চার কিলোমিটার। উদ্বোধন অনুষ্ঠান ঘিরে হাজার হাজার জনতা পদ্মার পাড়ে আসেন, ভিড় জমান আওয়ামী লীগ ও দলের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও। তবে কেউই সুধী সমাবেশের কাছে ভিড়তে পারেননি।

বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর ইসলাম মোল্লা জানান, তিনি সকালে ডেমরার বাসা থেকে মাওয়ায় এসেছেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জ। তিনি বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে আজ থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়ে গেল। এতে ঘটবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে ঢাকায় ঢোকার জন্য ঘাটে আসা কাঁচামাল বহন করা গাড়ির ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পালা শেষ।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে আসা শিমুল মিয়া জানান, ভোরে তিনি রওনা হয়ে সকাল সাড়ে ৮টায় মাওয়ায় পৌঁছান। বললেন, 'যাত্রাবাড়ীর পর থেকে বাস বন্ধ থাকায় আসতে অনেক কষ্ট হয়েছে। তার পরও এখানে এসে আনন্দ লাগছে। নিজ চোখে সেতু দেখে কষ্ট ভুলে গেছি।'

মাওয়া প্রান্তে উদ্বোধনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতু দিয়ে জাজিরা প্রান্তে যাওয়ার পরপরই মাওয়া পাড়ের উপস্থিত জনতা নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে সেতুতে উঠে যায়। মানুষের ঢল ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। সেতুতে উঠে সেলফি তোলেন অনেকেই। মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, হুট করেই মানুষ উঠে পড়ে সেতুতে। তবে বেশিদূর যেতে পারেনি। এর আগেই তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com