হোটেলে গিয়ে 'কমিশন' নিয়ে আলাপ করেন অনেক আমলা: পরিকল্পনামন্ত্রী

প্রকাশ: ২৬ জুন ২২ । ২১:৫১ | আপডেট: ২৬ জুন ২২ । ২১:৫১

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

বাজেটে স্থানীয় সরকার খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ও সক্ষমতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। রোববার রাজধানীতে এক বিনিময় সভায় তাঁরা বলেছেন, স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিরা মানুষের জন্য কাজ করেন। কিন্তু তাঁদেরকেই অক্ষম করে রাখা হয়েছে। এর পেছনে আমলাতন্ত্রও দায়ী। এ অবস্থার পরিবর্তন জরুরি।

অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান বলেন, একজন উপসচিবের সঙ্গে একজন ইউপি চেয়ারম্যান দেখা করতে চাইলে সচিবালয়ের সামনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁকে ঘুরতে হয়। অনেক আমলার সঙ্গে চেয়ারম্যানরা আশপাশের হোটেলে দেখা করেন। সেখানে কমিশনের আলাপ হয়। এ জন্যই দেখা যায় কোনো ইউনিয়নে কোটি টাকাও বরাদ্দ হয়, আবার কোনো ইউনিয়নে লাখ টাকাও হয় না। আমাদের ক্ষমতাকেন্দ্রিক ও আমলাতান্ত্রিক বিন্যাসের অবস্থা বিচার-বিশ্নেষণ করে স্থানীয় সরকার ও প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে হবে।

উন্নয়ন সংগঠন গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরাম, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ইউকেএইড যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে সিরডাপ মিলনায়তনে। সভার প্রতিপাদ্য ছিল- 'জাতীয় বাজেটে স্থানীয় সরকারের জন্য বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন।' অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফুল ইসলাম।


পিকেএসএফের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ পরিকল্পনামন্ত্রীর সঙ্গে একমত হয়ে বলেন, সরকারের দিক থেকে এ বিশ্নেষণ মেনে নিয়ে এগিয়ে গেলে গণতান্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণ প্রতিষ্ঠা ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা সম্ভব।


সিরাজগঞ্জের কালিহাতিপুর ইউপির চেয়ারম্যান সবুর আলী শেখ বলেন, একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রতিদিন মানুষের জন্য ১২-১৪ ঘণ্টা করে কাজ করতে হয়। ঘুমানোর আগে আল্লাহর কাছে দোয়া করে তিনি ঘুমাতে যান যেন রাতের মধ্যে কারও কোনো বিপদ না হয়। তাহলে রাতের ঘুমটাও তাঁর মাটি। অথচ ইউপি চেয়ারম্যানদের বলা হয় গমচোর, চালচোর। একটি ইউনিয়নে বছরে কত টাকা বরাদ্দ হয়, সেটা কেউ দেখে না।


ইউএনডিপির প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট মোজাম্মেল হক বলেন, এমপিকে উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা করায় চেয়ারম্যানরা ক্ষুব্ধ। কিন্তু যখনই কোনো উপজেলা চেয়ারম্যান এমপি হয়ে যান তখন বলেন- এটার প্রয়োজন আছে। এ রকম পাঁচজন এমপিকে তিনি পেয়েছেন, যাঁরা উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে এমপি হওয়ার পর সুর পাল্টে ফেলেছেন।


বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ সাজু বলেন, বাংলাদেশের বাজেট হওয়া উচিত কৃষি-নদী ও হাওরবান্ধব। সেটা হলে সুনামগঞ্জ-সিলেটের মতো বন্যার কবলে দেশকে পড়তে হবে না। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেবুন্নেসা বলেন, জনপ্রতিনিধিরা অনেক সময় জনপ্রিয়তা নষ্ট হওয়ার ভয়ে অনেক কিছু করতে চান না। এই সস্তা জনপ্রিয়তার কথা চিন্তা না করে মানুষের জন্য কাজ করার দিকটা ভাবতে হবে।


গভর্ন্যান্স অ্যাডভোকেসি ফোরামের সমন্বয়কারী মহসীন আলীর সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন পরিকল্পনা কমিশনের রাজস্ব ও মুদ্রানীতি অনুবিভাগের উপপ্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান সরকার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আসিফ শাহান; দৈনিক জনকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি তপন বিশ্বাস প্রমুখ।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com