টেক্সাসের পরিত্যক্ত সেই লরি থেকে আরও ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশ: ৩০ জুন ২২ । ১৩:৫৪ | আপডেট: ৩০ জুন ২২ । ১৩:৫৪

নিউইয়র্ক সংবাদদাতা

ফাইল ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও শহরের প্রান্তে পরিত্যক্ত সেই লরি থেকে আরও সাত জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এ নিয়ে ওই লরি থেকে মোট ৫৩ জনের মরদেহ পাওয়া গেল। এ ছাড়া ১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। 

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মী জানিয়েছেন, চার শিশুসহ যে ১৬ জন ওই লরিতে জীবিত ছিল তারা তীব্র গরমে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। এর আগে গত মঙ্গলবার পরিত্যক্ত সেই লরি থেকে ৪৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

অবৈধভাবে মেক্সিকো সীমান্ত পার করে আনা এসব অভিবাসী প্রত্যাশীকে পাচারকারীরা সীমান্তের কাছাকাছি প্রত্যন্ত কোনো এলাকা থেকে লরি/ট্রাকে তুলে দূরের বিভিন্ন শহরে নিয়ে ছেড়ে দেয়।

সান অ্যান্টোনিও শহরের মেয়র রন নিরেনবার্গ বলেন, এসব লোকজনের পরিবার রয়েছে। একটু স্বচ্ছল জীবনের জন্য চেষ্টা করছিলেন তারা। এটি ভয়াবহ একটি বিপর্যয় ছাড়া কিছু নয়, একটি মানবিক ট্রাজেডি।

মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট লোপেজ অব্রাডর এই ট্রাজেডির জন্য দারিদ্র্য এবং হতাশার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দায়ী করেছেন।

নিহতদের মধ্যে ২৪ জন  মেক্সিকোর, সাতজন গুয়াতেমালার এবং দুইজন হন্ডুরাসের নাগরিক রয়েছেন। বাকিদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। 

টেক্সাস ফায়ার সার্ভিসের প্রধান চার্লস হুড বলেন, সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার দিকে সান অ্যান্টোনিওর এক শহরতলীতে একটি মরদেহ দেখতে পাওয়ার খবর পেয়ে হাজির হন জরুরি সেবা বিভাগের লোকজন। যদিও কোনো লরির দরজা খুলে দেখার কথা ছিল না আমাদের, কিন্তু আমাদের কল্পনাতেও ছিল না তার ভেতর সারি সারি মরদেহ পড়ে রয়েছে।

তিনি বলে, লরির চালক যখন সেটি ফেলে চলে যায়, সেটিতে কোনো শীতাতপ ব্যবস্থা চালু ছিল না। এমনকি ভেতরে কোনো খাবার পানিও ছিল না।

গ্রীষ্মকালে সান অ্যান্টোনিওতে প্রচণ্ড গরম পড়ে। সোমবার শহরের তাপমাত্রা ৩৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে উঠে গিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, তীব্র গরমে এবং পানিশূন্যতায় তাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে এবং তদন্তের ভার দেওয়া হয়েছে এফবিআইকে। লরিটি যেখানে পাওয়া গেছে তার খুব কাছে একটি কাঠ গুদামের অ্যাডওয়ার্ড রেইনা নামের একজন নিরাপত্তা কর্মী বলেন, এই ঘটনায় তিনি বিস্মিত হননি।

তিনি বলেন, পাশের রেললাইন দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময় তিনি রাতের পর রাত দেখেছেন কিভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অভিবাসীরা চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ছে’

সান অ্যান্টোনিওতে অবৈধ অভিবাসী মৃত্যুর ঘটনা আগেও হয়েছে, কিন্তু এত বড় ধরনের ট্রাজেডি এই প্রথম। ২০১৭ সালে শহরের দক্ষিণে ওয়ালমার্টের একটি দোকানের সামনে ফেলে রাখা একটি ট্রেলারে ১০ জন অভিবাসী প্রত্যাশীর মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। এই শহরের দক্ষিণের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তাটি টেক্সাসের সীমান্ত শহরগুলো পর্যন্ত বিস্তৃত।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com