পর্যটকদের জন্য প্রস্তুত কুড়িয়ানা

পেয়ারা পার্কে নির্মাণ করা হয়েছে কাঠের উড়াল সেতু

প্রকাশ: ০২ জুলাই ২২ । ১৪:০১ | আপডেট: ০২ জুলাই ২২ । ১৪:০১

স্বরূপকাঠি প্রতিনিধি

পেয়ারা মৌসুমকে সামনে রেখে আটঘর কুড়িয়ানায় এখন সাজ সাজ রব। পেয়ারা পার্কগুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলতে দিন-রাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাড়ুনী, লোবার, নৌকা, ছিপ প্রস্তুত করছেন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার চাষী। ট্রলার মালিকরা সুন্দর রঙে সাজাচ্ছেন তাদের ট্রলারগুলোকে। এবার ফ্লোটিং পেয়ারা পার্ক ও পিকনিক স্পটে নির্মাণ করা হয়েছে ৩০০ ফুট দীর্ঘ কাঠের উড়াল সেতু। এতে করে পেয়ারা বাগান ঘুরতে আর নদীপথ ব্যবহার করতে হবে না সেখানে। পার্ক মালিকরা বলছেন, পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় পর্যটকদের সংখ্যা এবার বৃদ্ধি পাবে। 

পেয়ারা বাগানকে কেন্দ্র করে আটঘর কুড়িয়ানায় গড়ে উঠেছে তিনটি পার্ক। সেখানে প্রাকৃতিক পরিবেশে পেয়ারা বাগান দেখার পাশাপাশি বিনামূল্যে গাছ থেকে পেয়ারা খেতেও পারবেন পর্যটকরা। 

পেয়ারা বাগানে ঘুরতে আসা নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ কলেজের ছাত্ররা জানায়, পদ্মা সেতু হওয়ায় মাত্র সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় তারা পেয়ারা পার্কে এসে পৌঁছেছে। ঘুরে বেড়ানো শেষে আবার আজকে রাতেই বাসায় ফিরতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। 

আটঘর কুড়িয়ানা ও জলাবাড়ী ইউনিয়নের প্রায় ২২টি গ্রামে চাষ করা হয় পেয়ারা আর আমড়া। প্রায় ৮০০ হেক্টর জমিতে এসব পেয়ারা ও আমড়ার চাষ করা হয়। 

পেয়ারা চাষী সমিতির সাবেক সম্পাদক রিপন কুমার মণ্ডল বলেন, পেয়ারা দ্রুত পচনশীল ফল। লঞ্চে, ট্রলারে করে পেয়ারা পাঠালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছাতে অনেক সময় লেগে যায়। এবার পদ্মা সেতু হওয়ায় খুব সহজেই রাজধানীসহ অন্যান্য এলাকায় পেয়ারা পাঠানো যাবে। এতে করে পেয়ারার গুনগত মান ঠিক থাকবে। অপরদিকে পচনের হাত থেকে রক্ষা পাবে এই অর্থকরী ফসল। 

এন এসটি পার্কের মালিক চিম্ময় ও পলাশ বলেন, পেয়ারা বাগানকে কেন্দ্র করে তাদের পার্ক গড়ে উঠেছে। এখানে অনেক উচু করে উড়াল সেতু ও ওয়াচ টাওয়ার নির্মাণ করা হয়েছে। পার্কে বিভিন্ন প্রজাতির রঙিন মাছ চাষ করা হয়েছে। এছাড়া শিশুদের জন্য বিভন্ন রাইডের ব্যবস্থা করা হয়েছে।  

আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মিঠুন হালদার বলেন, প্রতিবছর পেয়ারা বাগানে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসেন। তাই নিরাপত্তার জন্য পুলিশের পাশাপাশি এসব এলাকায় গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ বছর পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় মাত্র ৪ ঘণ্টায় ঢাকা থেকে কুড়িয়ানায় আসতে পারবেন পর্যটকরা। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, গতবছর করোনার মধ্যেই অনেক পর্যটক এসেছেন এখানে। এবার পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় অনেক বেশি পর্যটক আসবেন। এর মধ্যে এলাকার চেয়ারম্যান ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তা বিষয়ে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। 

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com