তৌকিরের সনদের সন্ধানে...

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ০৪ জুলাই ২২ । ১৩:০৬ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষ প্রতিনিধি

নালিতাবাড়ীর নন্নী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তৌকির আহমদ সম্পর্কে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করতে গেলে শেরপুরের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজওয়ান কয়েকদিন অপেক্ষা করিয়ে শেষে কোনো তথ্যই দেননি। গত মে ও জুন মাসে কয়েক দফায় তাঁর সঙ্গে কথা হয়। কখনও সরাসরি দেখা করে, কখনও বা ফোনে যোগাযোগ করলে প্রতিবারই তিনি ব্যস্ততার ছুতোয় এড়িয়ে যান।

পরে নালিতাবাড়ী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এবং নন্নী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের শরণাপন্ন হলে তাঁরাও কোনো তথ্য দেননি। সহকারী শিক্ষক তৌকির আহমদের এনটিআরসিএ সনদ সঠিক কিনা তা জানতে ২৭ জুন যাওয়া হয় শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর কবিরের কাছে। তিনি বলেন, 'আমাদের কাজ এমপিওর জন্য যেসব কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে, তা সঠিক আছে কিনা দেখা। আমাদের কাছে তৌকির আহমদের কাগজ সঠিক বলে মনে হয়েছে। আমরা সেগুলো জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পাঠাই। তিনি যাচাই করে আঞ্চলিক উপপরিচালক ময়মনসিংহ-এর কাছে পাঠান। তিনিই বিষয়টি নিষ্পত্তি করেছেন।' তৌকিরের এনটিআরসিএ সনদ দেখতে চাইলে জাহাঙ্গীর কবির বলেন, এসব কাগজ তাঁদের কাছে থাকে না; প্রধান শিক্ষকের কাছে থাকে। সেখানে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে তিনি ফোন করে প্রধান শিক্ষককে বললেন, 'সমকালের সাংবাদিক যাচ্ছে। তাঁকে শিক্ষক তৌকিরের এনটিআরসিএ সনদ দেখাবেন।'

অল্পক্ষণের মধ্যেই নন্নী উচ্চ বিদ্যালয়ে পৌঁছে শোনা যায়, প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বের হয়ে গেছেন। কোথায় গেছেন, কাউকে কিছু বলে যাননি। বিকেল ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রধান শিক্ষক বলেন, 'শিক্ষা অফিসার তৌকিরের কাগজপত্র দিতে বলেছেন। আমি কাগজপত্র আপনাকে পৌঁছে দেবো। আপনি আগামীকাল আসুন।' পরদিন ২৮ জুন স্কুল খোলার সময় ঠিক সকাল ৮টায় গিয়ে প্রধান শিক্ষককে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ফিরে এসে ফের দুপুর ১২টার পরপরই গিয়ে দেখা যায়, স্কুলে কেউ নেই। পরে প্রধান শিক্ষকের কাছে ফোন করলে তিনি বলেন, 'আজ হাফ স্কুল। ছুটি হয়ে গেছে। তাই চলে এসেছি। আগামীকাল তৌকিরের সনদ দেখাব'- বলেই তিনি ফোন কেটে দেন। পরদিন ২৯ জুন গিয়েও প্রধান শিক্ষককে স্কুলে পাওয়া গেল না।

অনুসন্ধানকালে বেরিয়ে এলো আরেক চমকপ্রদ তথ্য। তৌকিরের এনটিআরসিএ সনদ যে প্রশ্নবিদ্ধ, শুধু তা-ই নয়, তিনি বিজ্ঞানের শিক্ষক হলেও মাউশি ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অফিস তাকে এমপিওভুক্ত করেছে সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষক হিসেবে। বিষয়টি স্বীকার করে নন্নী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু সাইদ সমকালকে বলেন, 'আমাদের স্কুলের চাহিদা ছিল ভৌতবিজ্ঞান শিক্ষকের। তৌকির ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষক। কিন্তু তাঁর এমপিও এসেছে সমাজবিজ্ঞানের। তৌকির গত মাসে প্রথমবারের মতো বেতন-ভাতাও পেয়েছেন।'

প্রায় একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছে শেরপুরেরই নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নের খন্দকারপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এমপিওভুক্ত শিক্ষক জহিরুল ইসলাম (সহকারী শিক্ষক, সমাজবিজ্ঞান) এবং মাহফুজা বেগমের এমপিওর যথার্থতা যাচাই করতে গিয়ে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com