বিমানবন্দর এলাকায় অভিযানের মধ্যেও সক্রিয় অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জগুলো

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২২ । ২২:০৯ | আপডেট: ১৬ আগস্ট ২২ । ২২:০৯

সমকাল প্রতিবেদক

বিদেশগামী বিভিন্ন যাত্রীর পাসপোর্টে ভুয়া সিলের মাধ্যমে ডলার এনডোর্সমেন্ট করছে একটি চক্র

রাজধানীর বিমানবন্দর এলাকায় গোয়েন্দা অভিযানের মধ্যে বন্ধ থাকা অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জগুলো গোপনে বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচায় সক্রিয় রয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার পাচার ঠেকাতে এরইমধ্যে বিমানবন্দরের সামনে আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সামনে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে অভিযান চালানো হয়। এ সময় তল্লাশি করে ৮টি মানি এক্সচেঞ্জের মধ্যে ৭টি অবৈধ হিসাবে শনাক্ত করা হয়। 

কর্মকর্তারা জানান, গোয়েন্দা অভিযানে বন্ধ করা হয়েছে মার্কেটের এসব অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জগুলো।

এসব মানি এক্সচেঞ্জ দোকান হচ্ছে মাতৃক, সিএমসি, শানশাহিন, ওয়াএমসি, কেএমসি, কসমিক, ইস্টল্যান্ড ও উত্তরা। 

এরমধ্যে মাতৃক মানি এক্সচেঞ্জ লিমিটেড নামে দোকানের রয়েছে বৈধ লাইসেন্স। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও গোয়েন্দা তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগ উঠেছে, গোয়েন্দা অভিযানের মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচায় গোপনে সক্রিয় এ মার্কেটের অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জের এক শ্রেণির মালিক-কর্মীরা। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ দোকান বন্ধ থাকলেও বিভিন্ন যাত্রীর কাছে বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচা করে কর্মীরা। 

তারা আরও জানান, শুধু মুদ্রা কেনা-বেচা নয়, বিদেশগামী বিভিন্ন যাত্রীর পাসপোর্টে ভুয়া সিলের মাধ্যমে ডলার এনডোর্সমেন্ট করছে ওই কর্মীরা। এতে করে রাজস্ব আয় হারাচ্ছে সরকার। তবে বন্ধ থাকা মানি এক্সচেঞ্জগুলোর মালিকরা জানিয়েছেন, তাদের লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন।

বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিএম ফরমান আলী সমকালকে বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার পাচার ঠেকাতে আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সামনে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জগুলো শনাক্ত করে তা বন্ধ করেন বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

জানা গেছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হাজি ক্যাম্পের সামনে আশকোনা মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটে দীর্ঘদিন যাবত বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচা করে বিভিন্ন নামের অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ দোকান মালিক-কর্মীরা। এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মীকে ম্যানেজ করে এই কাজ করে মানি এক্সচেঞ্জ দোকান মালিকরা।

এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা মার্কেটের ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান টিটু সমকালকে বলেন, অভিযান চালিয়ে মার্কেটের অবৈধ মানি এক্সচেঞ্জ দোকানগুলো বন্ধ করেন বাংলাদেশ ব্যাংক এবং গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। এসব মানি এক্সচেঞ্জগুলোর বৈধ কোনো লাইসেন্স নাই। মার্কেটে অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচা করার অভিযোগ রয়েছে এসব মানি এক্সচেঞ্জগুলোর বিরুদ্ধে।

এদিকে বিমানবন্দর পুলিশ বক্স সংলগ্ন বাবুস সালাম মাদ্রাসা মার্কেটেও একটি চক্র অবৈধভাবে বৈদেশিক মুদ্রা কেনা-বেচা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এ মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইন প্রয়োগকারী (পুলিশ) সংস্থার এক শ্রেণির সদস্যরা এসব দেখেও না দেখার ভান করছে। তবে পুলিশ নিজেদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, অভিযোগ পাওয়া গেলে চক্রটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com