কক্সবাজারে পাহাড় কেটে মাটির ব্যবসা

২৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২২ । ২২:৫৫ | আপডেট: ১৭ আগস্ট ২২ । ২২:৫৫

কক্সবাজার প্রতিনিধি

ছবি: সংগৃহীত

প্রায় দুইশ ফুট উঁচু ৫ একর আয়তনের বিশাল পাহাড়। গত দুই সপ্তাহ ধরে সংরক্ষিত বনের এ পাহাড়টি কাটা হচ্ছে। প্রতিদিন ৫০ জনের অধিক শ্রমিক নিয়ে কয়েকটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে পাহাড় কেটে অন্তত ১০টি ডাম্পারে (ছোট ট্রাক) মাটি জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ের ৯০ ভাগ কাটা শেষ হয়েছে। মারাত্মক পরিবেশ বিপর্যয়ের এ ঘটনাটি ঘটছে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নের থাইল্লাকাটা এলাকায়।

এ ঘটনায় বুধবার ২৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে বিভাগীয় কার্যালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট পিএমখালী ইউনিয়নের একাধিক জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে আসছে। তারা পাহাড়ের এ মাটি জেলার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নিচু জমি ভরাটের জন্য বিক্রি করছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মাহবুবুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল সম্প্রতি পিএমখালী এলাকা পরিদর্শন করে পাহাড় কাটার সত্যতা পায় এবং পাহাড় কাটায় জড়িতদের নাম সংগ্রহ করে। সমকালকে জানানো হয়, পিএমখালী এলাকায় পাহাড় কাটায় জড়িত ২৩ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে অন্তত ১০ কিলোমিটার দূরে পিএমখালী ইউনিয়নের ঘোনারপাড়া বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকা। এই এলাকায় গত এক বছরে প্রায় ৩০ একর আয়তনের ১০টি পাহাড় কেটে ফেলা হয়েছে।

আবুল কালাম নামে এক ডাম্পার ড্রাইভার বলেন, এক ট্রাক মাটি কক্সবাজার শহরে নিয়ে ফেলা হলে ট্রাকপ্রতি এর দাম ১০০০ টাকা। দিনে এ রকম পাঁচ ট্রাক মাটি টানেন তিনি।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পুরো পিএমখালী ইউনিয়নে পাহাড় কাটার নেতৃত্ব দিচ্ছে স্থানীয় প্রভাবশালী মোহাম্মদ আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি। তার সঙ্গে রয়েছে মোস্তাক আহমেদ, নাছির উদ্দিন, মোহাম্মদ আমিন, লুৎফুর রহমান, মোহাম্মদ হারুন, দেলোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ জসিম, শামসুল আলম, মোহাম্মদ কায়েস, বেলাল, জসিম উদ্দিন, হেলাল উদ্দিনসহ ৩০ জনের একটি সিন্ডিকেট।

তবে পাহাড় কাটার অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ বলেন, আমার কয়েকটি ডাম্পার (ছোট ট্রাক) থাকার কারণে এলাকার কিছু লোক আমার বিরুদ্ধে শত্রুতা করছে।

তবে বন বিভাগ জানিয়েছে, আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে পাহাড় কাটার অভিযোগে ৫টি মামলা রয়েছে। বন বিভাগের স্থানীয় পিএমখালী রেঞ্জের কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার বলেন, শত চেষ্টা করেও কোনোভাবে পাহাড় কাটা থামানো যাচ্ছে না।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২২

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com