সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২২ । ০০:৩৮ | আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২২ । ০০:৩৮

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি

শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এবারের জাতিসংঘের অধিবেশনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ সব সভায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে। অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ বহুপক্ষীয় ফোরামে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করেছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্নিষ্ট বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রকে বিস্তৃত করবে বলে তিনি আশাবাদী। শনিবার নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের হাই-লেভেল উইক চলাকালে তিনি মোট ৮টি উচ্চপর্যায়ের সভা ও সাইড ইভেন্টে অংশ নেন। এ ছাড়া রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ১২টি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘করোনা মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে সৃষ্ট খাদ্য ও জ্বালানি সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তির জন্য অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিক পারস্পরিক সংহতি প্রদর্শন করা প্রয়োজন। এসব সংকটের কারণে বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাই, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা-পাল্টা নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সংকট ও বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই। সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করি।’

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শেখ হাসিনা বলেন, মিয়ানমারে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান সংঘাত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনকে দুরূহ করে তুলেছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমন্ত্রণে একটি রিসেপশনে অংশগ্রহণ করার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তিনি বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭৭তম অধিবেশনের সভাপতি সাবা করোসির আমন্ত্রণে বিশ্বের নারী নেতাদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নারীদের অবদানের কথা তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দকে অবহিত করেন তিনি।

২১ সেপ্টেম্বর তিনি গ্লোবাল ক্রাইসিস রেসপন্স গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে একটি উচ্চপর্যায়ের সভায় অংশগ্রহণ করেন। এ সভায় জাতিসংঘ মহাসচিব, জার্মানির চ্যান্সেলর, সেনেগালের রাষ্ট্রপতি, বারবাডোসের প্রধানমন্ত্রী এবং ইন্দোনেশিয়া ও ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অংশগ্রহণ করেন।

একই দিন তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের সাইড-ইভেন্টে অংশগ্রহণ করেন। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, গাম্বিয়া এবং বাংলাদেশ যৌথভাবে এই সভা আয়োজন করে। এ সভায় অন্যান্যের মধ্যে সৌদি আরব, তুরস্ক, গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী বক্তব্য দেন। রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি ৫টি প্রস্তাব তুলে ধরেন।

একই দিন ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের একটি উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন শেখ হাসিনা। এ বৈঠকে তিনি তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি, জাহাজ নির্মাণ, অটোমোবাইলস, ফার্মাসিউটিক্যালস, চিকিৎসা শিল্প, সামুদ্রিক শিল্প, ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, বেশ কয়েকটি হাই-টেকপার্কসহ বিদ্যমান অন্যান্য শিল্পে বিনিয়োগের জন্য মার্কিন ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে আমন্ত্রণ জানান।

প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষা উপমন্ত্রীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সভা এবং দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণ করেছেন।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২৩

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com