বন্ধু এখানেই শেষ নয়

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২২ । ০০:০০ | আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২২ । ০৮:৪৯ | প্রিন্ট সংস্করণ

আশিক ইসলাম

দারুণ আনন্দে কেটেছে দিনটি শিক্ষার্থীদের ছবি :সংগ্রহ

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর একই আবাসিক হলে থেকেছেন তারা। তাদের সবার বাড়ি দেশের বিভিন্ন জেলায় হলেও এখানে আসার পর ভাষা, ধর্ম, বর্ণ ভুলে সবার মাঝে তৈরি হয়েছে বন্ধুত্বের এক মেলবন্ধন। একসঙ্গে উপভোগ করেছেন আনন্দ-আড্ডা, সুখ-দুঃখগুলো। পার করেছে অনেক মধুময় সময়। যাপিত জীবনের নানা ব্যস্ততা, আড্ডা, ঘোরাঘুরি, ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে দৌড়াদৌড়িতে কখন যে জীবনের সেরা দিনগুলো পার করে ফেলেছেন কেউ টেরই পায়নি। পাঁচটি বছর পার করেছেন একই সঙ্গে। উচ্চশিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে এখন ঐতিহ্য অনুযায়ী তাদের বিদায়ের পালা।

শিক্ষাজীবনের সেই মধুময় দিনগুলোর স্মৃতি হৃদয়ের ফ্রেমে স্মরণীয় করে রাখতে আনন্দে উচ্ছ্বাসে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ২০১৬-১৭ ব্যাচের ছাত্রীরা 'মঞ্জিমা মনস্বিনীর বর্ণন' নামে সমাপনী উৎসবের আয়োজন করে। শরতের শুভ্র সকালে কুয়াশা ভেদ করে আকাশে রক্তিম সূর্য উঁকি দিয়েছে। আস্তে আস্তে সে আলোয় আলোকিত চারপাশ, শুরু হয় অনুষ্ঠানের তোড়জোড়। হলে বাজতে থাকে নানা রকমের গান। হলজুড়ে উৎসবের আমেজ। ফিতা কেটে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। এরপর হলের ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে শোভাযাত্রা বের করে।

বক্সের তালে তালে নেচে গেয়ে নিজেদের সুপ্ত প্রতিভার জানান দেয়। ফটোসেশন আর স্মৃতির অ্যালবামে নিজেদের ফ্রেমবন্দি করে। র‌্যালি শেষে শুরু হয় কালার ফেস্ট পর্ব। তাদের পরনে থাকা সাদা টি-শার্টে একে অপরে মনের অগোছালো কথাগুলো রঙিন কালি দিয়ে লিখতে থাকে। ধবধবে সাদা টি-শার্টগুলোতে অব্যক্ত অনুভূতি আর ভালোবাসা মাখা উক্তিতে ভরে ওঠে। সেই টি-শার্টগুলো এই ভালোবাসা বন্ধনের প্রতীক। এরপর শুরু হয় রং মাখামাখি। আলতো ছোঁয়ায় লাল, হলুদ, সবুজ, নীলসহ নানা রঙের আবিরের রঙে রাঙিয়ে দেয় একে অপরকে। বিকেলে সবাই একই রঙের শাড়ি পরে ক্যাম্পাসে করেন ফটোসেশন।

আবাসিক ছাত্রী তাসনিম বলেন, সারাটা দিন খুব আনন্দে কেটেছে। এখন চাইলেই সবাই মিলিত হতে পারছি। কিন্তু এরপর এভাবে আর কখনও বসা হবে না, কারও সঙ্গে দেখা হবে না। এর মাধ্যমেই আমাদের হলজীবনের সমাপ্তি হচ্ছে। বুকের ভেতরে হাজারো শূন্যতা বাসা বেঁধেছে। প্রাণপ্রিয় বন্ধুর সঙ্গে গল্প-আড্ডায় জমে থাকা হাজারো স্মৃতি মনে থাকবে আজীবন। যেখানেই থাকি মঞ্জিমা মনস্বিনীর বর্ণনরা সারাজীবন মনের মধ্যে থাকবে। হয়তো কোনো এক পুনর্মিলনীতে অনেকের সঙ্গে দেখা হবে, অনেকে হারিয়ে যাবে। সমাপনী অনুষ্ঠানের নাম 'মঞ্জিমা মনস্বিনীর বর্ণন' দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আয়োজক কমিটির সদস্য মৌ সাহা বলেন, প্রতি বছরই সমাপনী ব্যাচের আলাদা একটা নাম দেওয়া হয়। সে হিসেবে আমরা আমাদের ব্যাচের সমাপনী অনুষ্ঠানের নাম দিয়েছি 'মঞ্জিমা মনস্বিনীর বর্ণন'। এর অর্থ- সুন্দরী জ্ঞানী নারী।

এরপর রাত ১০টায় হলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বিদায়ী ছাত্রীরা নিজের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ ঘটায় সেখানে। নাচ-গান, আবৃত্তির মাধ্যমে সেই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হয়।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২৩

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com