বাংলা ছবি নামিয়ে 'পাঠান' চালাতে বাধ্য করা হয়েছে, ক্ষোভ ঝাড়লেন অঞ্জন দত্ত

প্রকাশ: ২৭ জানুয়ারি ২৩ । ১৯:১৭ | আপডেট: ২৭ জানুয়ারি ২৩ । ১৯:১৯

বিনোদন ডেস্ক

কলকাতার হল গুলো বাংলা ছবির শো বন্ধ করে দিয়ে চালানো হচ্ছে শাহরুখ খানের 'পাঠান'। বিষয়টি মনে নিতে পারছেন না সেখানকার নির্মাতা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, অতনু রায় চৌধুরী ও অঞ্জন দত্তের মতো নির্মাতারা। বিষয়টি নিয়ে তাই সরব হয়েছেন তারা। অঞ্জন দত্ত বলছেন, 'এটা অত্যন্ত লজ্জার বিষয় যে, একটা সুপারস্টারের সিনেমার জন্য বাংলা সিনেমাগুলোকে হল থেকে উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে।'

দুইদিন আগে ভারতসহ বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে মুক্তি পেয়েছে শাহরুখ খান অভিনীত 'পাঠান'। মুক্তির প্রথম দিনেই বক্স অফিসে ঝর তুলেছে ছবিটি। মুক্তির দুই দিনেই সংগ্রহ করেছে ২২০ কোটি রুপি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, ‘পাঠান’ প্রযোজনা সংস্থা যশরাজ ফিল্মসের পক্ষ থেকে ছবিটি মুক্তির আগেই হল মালিকদের  কড়া নির্দেশনা দিয়েছে যে সমস্ত হলে পাঠান চলবে, সেখানকার সবকটা শো-ই দিতে হবে, অন্য কোনও সিনেমা চালানো যাবে না। কোনও আঞ্চলিক ভাষার সিনেমাও চলবে না। যার জেরে লোকসানের ভয়ে হল মালিকেরাও বাংলা সিনেমা নামিয়ে ‘পাঠান’ চালাতে বাধ্য হচ্ছে। 

বিষয়টি নিয়ে সোজাসাপটা ভাষাতেই অঞ্জন দত্ত বলেন, বাংলার ব্র্যাম্ব অ্যাম্বাসেডর শাহরুখ। বাংলা ছাড়া অন্য কোনও রাজ্যে এটা করতে পারবে না। আমি নিশ্চিত যে, আমাদের দেশের আর কোনও রাজ্যে এটা সম্ভব নয়। ব্লকবাস্টার হিন্দি সিনেমাগুলোর জন্য এরাজ্যে এটা একটা নিত্তনৈমিত্তিক ব্যপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যা খুবই লজ্জার। আর কথাগুলো আমি কোনও পরিচালক, প্রযোজকের হয়ে বলছি না। আমি বলছি শুধুমাত্র আমার সহকর্মীদর হয়ে, যারা আমার মতোই বাংলায় সিনেমা বানান।

পাশাপাশি দর্শকদের উদ্দেশে পরিচালক ও গায়ক বলেন, 'যদি কারও বাংলা ফিল্ম দেখতে ইচ্ছে করে, যদি সত্যিই দেখতে ইচ্ছে করে, তাহলে দয়া করে, একটু কষ্ট করে, সেই ছবিগুলো যে সময়, যে হলে চলছে, সেই শো-তেই দেখে নেবেন। এক সপ্তাহ এই কষ্টটুকু করুন। হয়তো একটা দুটো ভাল ফিল্ম আবার নিজের জায়গা খুঁজে পাবে।

অঞ্জন দত্তের আগেই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় ও অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়। সে সময় কৌশিক বলেছিলেন, মুম্বাইয়ের ডিস্ট্রিবিউটররা হুলিয়া জারি করে হলের সমস্ত শোয়ের স্লট দখল করে নিচ্ছে। যার পরিণাম ভুগতে হচ্ছে বাংলা সিনেমাকে। প্রসাশনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া। পাঠান-এর মতো সিনেমা সারা দেশে ১০ হাজার হল পেতে পারে। কিন্তু বাংলা সিনেমা মোটে ৪০ থেকে ৫০টা হল পায়। সেটাও যদি দখল হয়ে যায়, তাহলে বাংলার পরিচালক-প্রযোজকরা কি রেঙ্গুন বা বেইজিংয়ে গিয়ে সিনেমা দেখাবে?।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২৩

সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com