চলতি হিসাবে ঘাটতি কমলেও বেড়েছে সামগ্রিক লেনদেনে

প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২৩ । ০০:০০ | আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২৩ । ০৯:৫৫ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষ প্রতিনিধি

নানা উদ্যোগে আমদানি ব্যয় কমলেও বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সামগ্রিক লেনদেনে ঘাটতি বেড়েছে। বাংলাদেশের আর্থিক হিসাবে বড় ঘাটতি তৈরি হওয়াই এ পরিস্থিতির মূল কারণ। এ ছাড়া বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ সংকটের মধ্যে রপ্তানি আয় মোটামুটি ভালো থাকলেও রেমিট্যান্স বা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৈধ পথে পাঠানো অর্থের প্রবাহে ধীরগতি রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিদেশি বিনিয়োগ কম আসছে। বিনিয়োগ প্রত্যাহারও হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে বাণিজ্যিক ঋণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ছয় মাসে সামগ্রিক লেনদেনে ৭১৭ কোটি ডলারের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে ঘাটতি ছিল ১৭৯ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংক বৃহস্পতিবার চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) ব্যালান্স অব পেমেন্ট বা লেনদেন ভারসাম্যের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এ সময়ে বাংলাদেশের চলতি হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ৫২৭ কোটি ডলার বা প্রায় ৫৪ হাজার কোটি (প্রতি ডলার ১০০ টাকা ধরে) টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে চলতি হিসাবে ঘাটতি ছিল ৮৩০ কোটি ডলার।

কোনো দেশের চলতি হিসাব মূলত বহির্বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য এবং মানুষের আয়কেন্দ্রিক আয়-ব্যয়ের হিসাব। বাংলাদেশ জুলাই থেকে ডিসেম্বরে ৩ হাজার ৮১৩ কোটি ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানি করেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ৩ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলার। এতে আমদানি ২ শতাংশ কমেছে। এ সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৫ হাজার ৫৮৩ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ১ হাজার ৪৯ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে মাত্র আড়াই শতাংশ বেশি।

দেশে প্রায় এক বছর বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ার প্রবণতার মধ্যে রয়েছে; যার মূল কারণ- বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। অন্তত ছয় মাস ধরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। প্রতি ডলার কিনতে এখন আমদানিকারকদের ১০৫ থেকে ১১০ টাকা গুনতে হচ্ছে। এর প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অনেক কমে গেছে, যা অর্থনীতিতে এখন বড় আলোচনার বিষয়।

সামগ্রিক লেনদেনে কেন বড় ঘাটতি :গবেষণা সংস্থা পিআরআইর নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর মনে করেন, আর্থিক হিসাবে বড় ঘাটতির মূল কারণ প্রচুর ডলার বাইরে যাচ্ছে, কিন্তু দেশে ঢুকছে খুবই কম। বিনিয়োগ প্রত্যাহার বেড়ে গেছে। কারণ ডলারের সুদহার এক-দেড় শতাংশ থেকে বেড়ে ৯-১০ শতাংশ হয়ে গেছে। টাকার সুদহার সে তুলনায় খুব কম। তাঁর মতে, লেনদেনের ভারসাম্যে ঘাটতি কমানোর জন্য সুদের হার ও বিনিময় হার বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশ এখন ডলার বন্ডে সুদহার বাড়িয়ে প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, আর্থিক হিসাবে আলোচ্য ছয় মাসে ১১০ কোটি ডলারের ঘাটতি হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ হিসাবে ৬৯০ কোটি ডলারের উদ্বৃত্ত ছিল।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, লেনদেন ভারসাম্যের ঘাটতির চিত্র বদলে গেছে। আগে চলতি হিসাবের ঘাটতি পূরণের জন্য আর্থিক হিসাবের উদ্বৃত্তকে ব্যবহার করা যেত। এখন চলতি হিসাবেও ঘাটতি থাকছে। আবার আর্থিক হিসাবেও নতুন করে ঘাটতি হচ্ছে। তাঁর মতে, আর্থিক হিসাবে এত ঘাটতি সাধারণত দেখা যায় না। এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, মোটাদাগে সরকারের বাইরে বিদেশি ঋণ কমে গেছে। অন্যদিকে পরিশোধ বেড়েছে। বিনিময় হার নিয়ে অ্যাডহক সিদ্ধান্তের কারণে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হতে হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২৩

সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com