ছোট ছোট ঢেউ

নীল জ্যোৎস্না ছুঁয়ে

প্রকাশ: ০৭ ফেব্রুয়ারি ২৩ । ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মিঠুল মাসুদ

টুপটাপ শিশিরের ছন্দ নেই। পাখির কলতান, মোরগের ভোরের ধ্বনিতে ঘুম ভাঙার বিরক্তি নেই। শুধু পড়ে আছে ফেলে রাখা মোরগ আর পাখির খাঁচা দুটি। কী অবহেলা-অনাদরে ঘুণপোকার নিষ্ঠুর অত্যাচারে নিজস্বতা হারিয়ে পড়ে আছে ঠায়? কোনো অভিযোগ নেই তার, অথচ এই তো কদিন হলো মা এটিকে কী যত্নেই না রাখতেন। ভাঙা জানালার ফুটো দিয়ে শীতের প্রকটতা বেড়েই চলছে অনবরত। মায়ের আদরমাখা ছেঁড়া শাড়িটার কাঁথাখানি মায়ের মতোই আগলিয়ে রেখেছে আমায়। শীতের দাপটে কাঁপুনিটা বেড়েই চলছে। এলোমেলো চিন্তারা এসে ভিড় করছে আমার দুর্ভাগ্যের আঙিনায়। এ যেন পুরোনো ডায়েরির কয়েকটি পাতায় এলোমেলো ব্যবচ্ছেদ। মায়ের কাছে ছুটে যাওয়া, বাবার সঙ্গে বসে শীতের সকালে দুটো চাল ভাজা চিবাতে চিবাতে কালোজিরার এক কাপ গরম চায়ে চুমুক। কী কঠিন অভেদ্য শান্ত সকাল? অতি সাধারণ আলতো ছোঁয়ায় বাবার কাঁধে হাত দিয়ে বলব, 'বাবা তুমি না অনেক ছোট হয়ে গেছ।' ঠিক তাফসীর মতো। বাবাও তাঁর ঠোঁটের এক কোণে হাসির লেশ ছড়িয়ে দিয়ে মায়ের উদ্দেশ্যে বলবেন, দেখেছ আমাদের ছোট্ট আজ কত বড় হয়েছে। রসিকতার ছলে দাঁড়িয়ে বলে উঠব- সত্যিই তো বাবা এই দেখ আমি তোমার থেকেও বড় হয়ে গেছি। মা বলবেন হয়েছে হয়েছে, বেলা যে বেড়ে এলো...।

ভাবনার পরিধি বেড়ে চলে রোজ, কূলকিনারাহীন অসাড় সে ভাবনা। ব্যস্ততায় সময়ের সে কী অদম্য ছুটে যাওয়া। অক্লান্ত প্রতিটি পদক্ষেপ। আজ অনেকদিন হয় বাড়ি যাওয়ার ইচ্ছেগুলো তাড়া করে বেড়ায় পিয়ালকে। এ তাড়না বড়ই নির্বোধ, নীল জ্যোৎস্নার মতো সকালের আকাশে মিলিয়ে যায় দূর বহুদূর। শুরু হয় আরেকটি কর্মময় দিন। ইচ্ছের পাখিগুলো বন্দি হয়ে থাকে নীল জ্যোৎস্নার গল্পের মতো। ছুটে চলে দুরন্ত পথিকের মতো কোনো রাতজাগা পথিকের ভাবনাতে, সেখানে তৈরি হয় আরেকটি নীল জ্যোৎস্নার গল্প। এভাবেই গল্পগুলো তৈরি হয় একেকটি নীল জ্যোৎস্নার আলোয়।

ভাবনার আকাশ থেকে হঠাৎ মেঘ সরে যাওয়ায় পিয়াল হতচকিয়ে ওঠে। পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখে, তারপর দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যায়। বেলা যে অবেলায় শেষ হয়ে এলো।

সুহৃদ ঢাকা

© সমকাল ২০০৫ - ২০২৩

সম্পাদক : মোজাম্মেল হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com