রাবিতে সংঘর্ষ: ৮ ছাত্র সংগঠনের বিবৃতি

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২৩ । ০৯:৪৭ | আপডেট: ১৫ মার্চ ২৩ । ০৯:৪৭

রাবি প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ‘রাজনৈতিক’ উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়ে ক্যাম্পাসের ৮টি ছাত্র সংগঠন। মঙ্গলবার সংগঠনগুলোর নেতারা এ যৌথ বিবৃতি দেন।

বিবৃতি দেওয়া সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, নাগরিক ছাত্র ঐক্য।

বিবৃতিতে সংগঠনের নেতারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আল-আমিন আকাশের সঙ্গে বাস কন্ডাক্টরের বাকবিতণ্ডার হয়। এর একপর্যায়ে বাস কন্ডাক্টরের সঙ্গে হাতাহাতি হয় তার বন্ধুদের। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিনোদপুরের কিছু ব্যবসায়ী আকাশের বন্ধুদের ওপর চড়াও হন। বিষয়টি জানার পর সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া। তখন দুপক্ষের কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ শুরু হলে বিভিন্ন হল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীরা দেশীয় অস্ত্রসহ (রামদা, চাপাতি, রড, হকিস্টিক, স্ট্যাম্প) বিনোদপুর গেটে এসে জড়ো হতে থাকেন। ছাত্রলীগ কর্মীদের এ সংঘর্ষ সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সংঘর্ষ হিসেবে প্রচার হয়। তখন সাধারণ শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। অন্যদিকে বিনোদপুরের কিছু ব্যবসায়ীর সঙ্গে মহানগর ছাত্রলীগ নেতা অনিক মাহমুদ বনিসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতারা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। 

তারা আরও বলে, 'স্থানীয়রা পুলিশ বক্সে আগুন দেন। একই সঙ্গে আশেপাশের কিছু দোকানেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তখনও পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপাচার্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও কোনো সমাধান না করেই তিনি ফিরে যান। শিক্ষার্থীদের ওপর টিয়ার শেল, রাবার বুলেট ও ছররা গুলি চালায় পুলিশ। এর ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

সংগঠনের নেতারা বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সহিংস করে তোলার চেষ্টায় মন্নুজান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জান্নাত জানার নেতৃত্বে রেললাইনের ওপর ডামি পুড়িয়ে চারুকলার রেলগেট অবরোধ করেন।

এসময় তারা বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- অবিলম্বে ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে সব শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে, ব্যর্থ প্রক্টরিয়াল বডির অপসারণ ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ উপাচার্যকে শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে, আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, হলে ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব ও সিট বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে এবং নতুন হল নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দায়ের করা মামলা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে মামলার কারণে সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণ যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করতে হবে, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারণে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে রাকসু সচল করতে হবে।

© সমকাল ২০০৫ - ২০২৩

সম্পাদক : আলমগীর হোসেন । প্রকাশক : আবুল কালাম আজাদ

টাইমস মিডিয়া ভবন (৫ম তলা) | ৩৮৭ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৫৫০২৯৮৩২-৩৮ | বিজ্ঞাপন : +৮৮০১৭১৪০৮০৩৭৮ | ই-মেইল: samakalad@gmail.com